83410_s1
অভিষেক ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বল। ১৩৮ কিলোমিটার বেগের ডেলিভারিটি ক্রিজে মিডল আর অফের মাঝে পিচ করলো। তামিম ইকবাল ভুল লাইনে ব্যাট চালালেন।
সরাসরি বোল্ড আউট! এই উইকেট দিয়েই শুরু ক্যাগিসো রাবাদার ইতিহাসে যাত্রা। পরের দুই বলে লিটন কুমার দাস ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে শূন্য হাতে ড্রেসিংরুমে ফিরিয়ে অভিষেকেই করলেন হ্যাটট্রিক। গতকাল প্রোটিয়া বল হাতে ৬ উইকেট নিলেন ক্যাগিসো রাবাদা। আট ওভারের স্পেলে তার বোলিং ফিগার ৬/১৬। অভিষেকে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড এটি। এমন আগের রেকর্ডটি ফিদেল এডওয়ার্ডসের। অভিষেকে ছয় উইকেট নেন এ ক্যারিবীয় পেসারও। দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ানডে ইতিহাসেও এটি সেরা বোলিং ফিগার। ওয়ানডে ইতিহাসে এতদিন অভিষেকে হ্যাটট্রিকের কৃতিত্ব ছিল বাংলাদেশের স্পিনার তাইজুল ইসলামের একার। ওয়ানডে ইতিহাসে এই পর্যন্ত হ্যাটট্রিকের সংখ্যা ৩৯টি। এর মধ্যে তাইজুল ইসলাম ও রাবাদা ছাড়া অভিষেকে হ্যাটট্রিক নেই কারও। মিরপুর মাঠে এটি চতুর্থ হ্যাটট্রিকের ঘটনা। এর আগে আবদুর রাজ্জাক, রুবেল হোসেন ও তাইজুল ইসলাম এখানে হ্যাটট্রিক পান।
জোহানেসবার্গের ২০ বছরের তরুণ ক্যাগিসো রাবাদার প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিজ্ঞতা ছিল মাত্র ১৪ ম্যাচের। গতকাল প্রোটিয়া এ তরুণ পেসারকে দিনের দ্বিতীয় ওভারেই বল তুলে দেন অধিনায়ক হাশিম আমলা। প্রথম ওভারে ৬ রান দিয়ে শুরু। এরপর নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে তামিম ইকবালের পর লিটন দাসকে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান। রাবাদার বল লিটন ফ্লিক খেলতে যান। কিন্তু ব্যাটে-বলে হলো না ঠিকভাবে। বল বাতাসে ভেসে বাঁক নিয়ে মিড উইকেটে ফারহান বিহার্দিনের হাতে ধরা পড়ে। লিটনও ফেরেন শূন্য হাতে। অভিষেকেই হ্যাটট্রিকের সুযোগ। মাঠে নামলেন বিশ্বকাপের নায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফেরায় স্বস্তিতে ছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি। কিন্তু দলের জন্য স্বস্তি হতে পারলেন না তিনি। রাবাদার তৃতীয় শিকার হলেন এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে পড়ে। ১৭ রানে উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে দল। সেই সঙ্গে টসে জিতে মাশরাফির ব্যাটিং করার সিদ্ধান্তটিও পড়ে প্রশ্নের মুখে। রাবাদা ৫ ওভারে প্রথম স্পেল শেষ করার আগে চতুর্থ আঘাতটি হানেন বাংলাদেশের ইনিংসে। এবার তার শিকার ওপেনার সৌম্য সরকার। ২৭ রান করে দলের বিপর্যয়ে যখন একাই লড়ছিলেন ঠিক তখনই তিনি আউট হলেন। বলটি মাটিতে পড়ার পর দুর্দান্ত খেলতে থাকা সৌম্য কোন রকম ফুট ওয়ার্ক ছাড়াই ব্যাট চালালেন। ডুমিনির হাতে শর্ট কভারে সহজ ক্যাচ হয়ে ফিরলেন তিনি। পাঁচ ওভারে ১টি মেডেনসহ ১৪ রানে ৪ উইকেট তুলে প্রথম স্পেল শেষ করেন রাবাদা। দ্বিতীয় স্পেলে রাবাদা তুলে নেন মাশরাফি বিন মুর্তজা ও জুবায়ের হোসেন লিখনের উইকেট। এর আগে তাইজুল ইসলাম জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুর শেরেবাংলা মাঠে ৭ ওভার বল করে ১১ রান দিয়ে চারটি উইকেট নিয়েছিলেন।

রেকর্ডস
– দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় বোলার হিসেবে অভিষেকে পাঁচ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব দেখালেন কগিসো রাবাদা। এর আগে ১৯৯১ সালে নিজের অভিষেকে ওয়ানডেতে ৫ উইকেট নেন অ্যানাল ডোনাল্ড।
– বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে নির্দিষ্ট কোন ভেন্যুতে ২০০০-এর বেশি রান করার কৃতিত্ব দেখালেন সাকিব আল হাসান। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সাকিবের রান এখন ২০৩৪।
– দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের শীর্ষ চার ব্যাটসম্যান ৩ জন শূন্য রানে আউট হলেন। গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তামিম ইকবাল, লিটন কুমার দাস ও মাহমুদুল্লাহ কোন রান না করে ফেরেন। এর আগে মাত্র একবার ২০০৩ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এমন ঘটনার শিকার হয়েছিল বাংলাদেশ।
– ওয়ানডে ইতিহাসে দ্বিতীয় বোলার হিসেবে অভিষেকে হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব দেখালেন কাগিসো রাবাদা। এর আগে এ কৃতিত্ব ছিল বাংলাদেশী একমাত্র স্পিনার তাইজুল ইসলামের।
– কাগিসো রাবাদার চেয়ে কম বয়সী মাত্র চারজন খেলোয়াড়ের এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে অভিষেক হয়। বাংলাদেশের বিপক্ষে রাবাদার অভিষেক হয় ২০ বছর ৪৬ দিন বয়সে।
– গতকাল রাবাদা ১৬ রানে ৬ উইকেট নেন। ইতিহাসে অভিষেকে এখন পর্যন্ত ওয়ানডেতে এটিই সেরা বোলিং ফিগার। এ ছাড়া সব মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার যে কোন বোলারের সেরা বোলিং ফিগার।

ওয়াজ কুরুনীখেলাধুলা
অভিষেক ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বল। ১৩৮ কিলোমিটার বেগের ডেলিভারিটি ক্রিজে মিডল আর অফের মাঝে পিচ করলো। তামিম ইকবাল ভুল লাইনে ব্যাট চালালেন। সরাসরি বোল্ড আউট! এই উইকেট দিয়েই শুরু ক্যাগিসো রাবাদার ইতিহাসে যাত্রা। পরের দুই বলে লিটন কুমার দাস ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে শূন্য হাতে ড্রেসিংরুমে ফিরিয়ে অভিষেকেই করলেন হ্যাটট্রিক।...