6_92739
নাট-বল্টু থেকে শুরু করে সব ধরনের যন্ত্রাংশ ও রেলের অত্যাধুনিক বগি পর্যন্ত তৈরি সম্ভব সৈয়দপুর রেল কারখানায়। এমনকি ৫-৬ কোটি টাকায় আমদানি করা বগি এ কারখানায় মাত্র ৫০-৬০ লাখ টাকায় তৈরি করা সম্ভব। কিন্তু সরকারের যথাযথ উদ্যোগ ও নানা সমস্যার কারণে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না সম্ভাবনাময় এ কারখানাটি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় সম্পূর্ণ শীততাপ নিয়ন্ত্রিত বগিও তৈরি করা হয়েছে। ওইসব বগি বিশ্বমানের বলে প্রকৌশলীরা মতও দিয়েছেন। এর আগে মিটার-গেজ লাইনের জন্য তৈরি করা একটি কোচ রেলের বহরে যোগ হয়ে সুনামের সঙ্গেই চলছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কোচের নকশা তৈরি করেন স্থানীয় প্রকৌশলীরা। আর এ কারখানার ক্যারেজ হেভি রিহেবিলিটেশন শপের (সিএইচআর) শ্রমিকরা নিয়মিত মেরামতকাজের বাইরে অতিরিক্ত শ্রম দিয়ে কোচটি তৈরি করেন। সিএইচআর শপের এক কর্মকর্তা জানান, মাত্র ৫০ কার্যদিবসে কোচটি তৈরি করা হয়। একটি জরাজীর্ণ ক্যারেজের অবকাঠামোকে সম্পূর্ণ শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কোচে রূপান্তর করা হয়। বর্তমানে মিটার-গেজ বগি আমদানি করতে লাগে সাড়ে ৪ কোটি টাকা, আর ব্রড-গেজের বগি আনতে লাগে সাড়ে ৫ কোটি টাকা। কিন্তু এ কারখানায় ওই বগি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকায় তৈরি করা সম্ভব। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, সম্ভাবনাময় এ কারখানার অবস্থা বর্তমানে নাজুক। কারখানার অর্ধেকের বেশি মেশিনপত্রের বয়স এখন ৫০ বছরেরও অধিক। এর মধ্যে একটির বয়স ১০০ বছরের ওপরে। এ ছাড়া জনবল সংকটও রয়েছে। সরকার পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিলেই কেবল এ কারখানায় অত্যাধুনিক বগি তৈরি সম্ভব। আরও জানা গেছে, চাকা কাটিং (হুইল লেদ মেশিন) নষ্ট এবং কামারশাল শপে ইলেকট্রিক হ্যামার মেশিন বন্ধ থাকায় কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উল্লেখ্য, দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাটি ১৮৭০ সালে ১১০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। ২৬টি শপে ১৪-১৫ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৩০০ জন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ অবস্থার ভিতরেও আসছে ঈদুল ফিতরে ঘরমুখী যাত্রীদের সেবা নির্বিঘ্ন করতে ৮৩টি কোচ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে ৪৩টি নতুন কোচ সংস্কার ও মেরামত করে রেলপথ বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু নষ্ট ও বন্ধ থাকা দুটি মেশিনের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, পুরনো ক্ষতিগ্রস্ত বগি নির্মাণ, সংস্কার ও মেরামত কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিয়মিত কর্মঘণ্টার বাইরেও অতিরিক্ত সময় ব্যয় করছেন তারা। এ ছাড়া ক্যারেজ, বগি শপ, আন্ডার গিয়ার, পেইন্টিংসহ নানা শপে রং করা, সংস্কার ও মেরামত কাজে ব্যস্ত দেখা যায় শ্রমিকদের। যেন দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের। কিন্তু রেলের বগি সম্পূর্ণরূপে তৈরি হলেও ১৯৬৪ সালের হুইল লেদ মেশিনটি নষ্ট হওয়ায় চাকা লাগানো যাচ্ছে না। কামারশাল শপের দুই টনি ইলেকট্রিক হ্যামার মেশিন বন্ধ থাকায় মিটার-গেজ রেলের বগির স্প্রিং, সুইং হ্যাঙ্গার, সাসপেনশন লিঙ্ক পিন ও অনয়ন নাট উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। অবশ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, আধুনিকায়ন প্রকল্প কাজের জন্য হ্যামার কামারশাল শপে উন্নত মেশিন পুনঃস্থাপন কাজ চলায় ভূমিধসের আশঙ্কায় হ্যামার মেশিনগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। আধুনিকায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে কারখানায় দায়িত্বরত উপসহকারী প্রকৌশলী কোরবান আলী ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ নাগাদ কাজ শেষ করা যাবে। নতুন মেশিনগুলো স্থাপিত হলে কারখানায় উৎপাদন কাজ কয়েক গুণ বাড়বে। সম্ভাবনাময় এ কারখানা অনেক দূর এগিয়ে যাবে। হুইল লেদ মেশিনের উপসহকারী জানান, চাকা ছাড়া গাড়ি অচল। কোনোভাবে তা পূর্ণতা পাবে না। অনর্থক তৈরি আর শ্রমিকদের শ্রম কাজে আসবে না। মেশিনটির একটি অংশ নষ্ট হওয়ায় ১১ জুন থেকে এটি বন্ধ রয়েছে। অবশ্য সচলের চেষ্টাও চলছে। কারখানা ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ কুদরত ই খুদা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘নানা সংকটের মাঝেও আমরা ৪৩টি বগি রেল বিভাগে হস্তান্তর (আউটটার্ন) করতে পেরেছি। নষ্ট ও বন্ধ থাকা শপ সচলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখী যাত্রীদের সেবা নির্বিঘ্ন করতে এবার ৮৩টি কোচ মেরামত ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। অবশ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপগুলোয় কাজ সম্পন্ন করা না গেলে উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

অর্ণব ভট্টশেষের পাতা
নাট-বল্টু থেকে শুরু করে সব ধরনের যন্ত্রাংশ ও রেলের অত্যাধুনিক বগি পর্যন্ত তৈরি সম্ভব সৈয়দপুর রেল কারখানায়। এমনকি ৫-৬ কোটি টাকায় আমদানি করা বগি এ কারখানায় মাত্র ৫০-৬০ লাখ টাকায় তৈরি করা সম্ভব। কিন্তু সরকারের যথাযথ উদ্যোগ ও নানা সমস্যার কারণে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না সম্ভাবনাময় এ কারখানাটি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা...