4_92590
এ যাত্রায়ও মন্ত্রিত্ব টিকে গেল সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের। কিন্তু তার মন্ত্রিত্ব থাকবে কি থাকবে না- এমন সংবাদে গতকালও তিনি ছিলেন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। এ নিয়ে গতকালও তার নিজ মন্ত্রণালয়সহ প্রায় সব মন্ত্রণালয়েই কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সারা দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে দিনভর আলোচনা হয়েছে। দলের অভ্যন্তরেও দিনভর আলোচনায় ছিলেন তিনি। জানা গেছে, ঈদের পর মন্ত্রিসভায় রদবদল আসতে পারে। এই রদবদলকে ঘিরে এখনই আলোচনা শুরু হয়ে গেছে বিভিন্ন মহলে। রদবদলের এই তালিকায় নাম থাকতে পারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফের। যাকে নিয়ে গত দুই দিন ধরে নানা গুঞ্জন চলছে। যদিও সৈয়দ আশরাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাকে নিয়ে শুধুই গুজব রটেছে। এর ভিত্তি নেই। গতকাল সচিবালয় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ঘুরে দেখা গেছে, সবার মুখে মুখেই আলোচনা হচ্ছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফকে নিয়ে। অনেকের আলোচনা ছিল যেহেতু তিনি মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনেকটা উদাসীন, তাই তাকে হয়তো বাদ দেওয়া হচ্ছে, আবার কেউ কেউ বলছিলেন, মন্ত্রণালয়ে না এলেও তার কর্তৃত্ব আছে পুরো দফতরের ওপর। তার ওপর তার সততা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। আছে বিচক্ষণতাও। এই হিসেবে তিনি মন্ত্রিত্ব হারাবেন না। মন্ত্রীর বিষয়ে যা বলা হচ্ছে তার কোনো ভিত্তি নেই। তিনি মন্ত্রী ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, মন্ত্রীর বিরুদ্ধবাদী অনেক লোকই আছেন। তারা নানা অপপ্রচারে লিপ্ত। তারাই মূলত মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন রটনা রটিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর অতি ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হওয়ার কারণে দলের সিনিয়র নেতৃত্বের একটি অংশও সৈয়দ আশরাফের বিপক্ষে নীরবে বিরোধিতা করে যাচ্ছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা পুরোপুরি নিশ্চিত ছিলেন সৈয়দ আশরাফ আপাতত সরছেন না বা তাকে সরানোও হচ্ছে না। তবে সরকারি দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, ঈদের পর মন্ত্রিসভায় একটি রদবদল আসবে। ওই সময়েই সৈয়দ আশরাফকে তার বর্তমান মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাকে পূর্ণ মন্ত্রী রাখা হলেও দফতরবিহীন করে রাখা হবে দলের স্বার্থে। দলীয় সূত্র জানায়, দলীয় প্রধান চাচ্ছেন দলের সাধারণ সম্পাদককে সাংগঠনিকভাবে আরও সক্রিয় করতে। এ জন্যই তাকে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের বোঝা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। দল গোছানোর কাজে তাকে আরও সক্রিয় করা হবে। যাতে দলীয় কর্মীরা সহজেই সরকারি দলের এই প্রভাবশালী নেতাকে কাছে পান। তাদের সুখ-দুঃখের কথা শোনেন। দলীয় সূত্র জানায়, সাংগঠনিক তৎপরতার পাশাপাশি দলীয় সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফকে কূটনৈতিক তৎপরতায়ও আরও সক্রিয় করা হবে। দলের দুর্দিনে তিনি কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে দলকে এবং সরকারকে ব্যাপক সহযোগিতা করেছিলেন। বিশেষ করে ১/১১-এর পর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সৈয়দ আশরাফ দলের হাল ধরেছিলেন। কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে দলীয় সভানেত্রীকে মুক্ত করতেও ভূমিকা রেখেছিলেন। এরপর গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আরেক দফা কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে নির্বাচন-পূর্ব ও পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন। এসব কারণে দলীয় সভানেত্রীর আস্থা অর্জনও করেছিলেন। তাই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দফতরবিহীন মন্ত্রী রেখে সৈয়দ আশরাফকে দিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর বিষয়টি বেশি করে ভাবছে। এদিকে আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র জানায়, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল হওয়ার কথা রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে সারা দেশে জেলা, উপজেলা, মহানগর ও বিভাগীয় দলের কাউন্সিল ও সম্মেলনের কাজ শেষ পর্যায়ে। সারা দেশের কাউন্সিল শেষ হলেই কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। সৈয়দ আশরাফকে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এ বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তাকে দলের মাঠ সাজানোর কাজে লাগানোর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

এদিকে সৈয়দ আশরাফের মন্ত্রিত্ব নিয়ে গত দুই দিন ধরে চলা নানা গুঞ্জনে স্বস্তিতে নেই আরও একাধিক মন্ত্রী। ঈদের পর মন্ত্রিসভায় রদবদল হলে সেখান থেকে বাদ পড়তে পারেন কয়েকজন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম। সাম্প্রতিক গম কেলেঙ্কারি নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই সমালোচনার মুখে আছেন কামরুল ইসলাম। ব্রাজিল থেকে পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত এবং খাওয়ার অনুপযোগী গম আমদানি করে সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছেন এই মন্ত্রী। অন্যদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মায়া আইনি প্রক্রিয়ায় এবং সাংবিধানিক সংকটে পড়ার কারণে তাকে নিয়েও বিব্রত সরকার। তাই এই দুই মন্ত্রীও এখন মন্ত্রিত্ব হারানোর শঙ্কায়। তাদের মতো আরও দু-একজন মন্ত্রীও আছেন অস্বস্তিতে।

আগামীতেও বিএনপি নির্বাচন বয়কট করলে অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না : মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, এবারের মতো আগামীতেও যদি বিএনপি নির্বাচন বয়কট করে তবে তাদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ীই আগামী নির্বাচন হবে। নতুন কোনো সংবিধানে নির্বাচন হবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।

মন্ত্রী গতকাল দুপুরে কিশোরগঞ্জ সার্কিট হাউসে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এখন থেকেই সবাইকে উপলব্ধি করতে হবে আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে। আগামী নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, কেউ নির্বাচন বয়কট করলে কিছু যায় আসে না। যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আওয়ামী লীগ একমাত্র মুক্তিযুদ্ধের সময় ছাড়া কখনো নির্বাচন বয়কট করেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমরা জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরও ‘৭৫ সালে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। এরশাদের সামরিক শাসনের সময়ও আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। মন্ত্রী দেশের উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে বলেন, এক বা দুই মেয়াদে সরকারের দ্বারা উন্নয়ন খুব কঠিন কাজ। তিনি চীনের উদাহরণ টেনে বলেন, চীন একদলীয় শাসনব্যবস্থায় পেরেছে, কারণ তারা সব জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছে। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ শরীফ সাদী, শহীদুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। মন্ত্রী এর আগে সকালে যশোদল ইউনিয়নের বীরদামপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে গিয়ে কবর জিয়ারত করেন। বিকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে দুঃস্থদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেন এবং সন্ধ্যায় হোসেনপুর উপজেলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগদান করেন।

ওয়াজ কুরুনীজাতীয়
এ যাত্রায়ও মন্ত্রিত্ব টিকে গেল সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের। কিন্তু তার মন্ত্রিত্ব থাকবে কি থাকবে না- এমন সংবাদে গতকালও তিনি ছিলেন 'টক অব দ্য কান্ট্রি'। এ নিয়ে গতকালও তার নিজ মন্ত্রণালয়সহ প্রায় সব মন্ত্রণালয়েই কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সারা দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে দিনভর আলোচনা হয়েছে। দলের অভ্যন্তরেও দিনভর আলোচনায় ছিলেন তিনি।...