1436246284
নিজের স্ত্রী ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদকে ইঙ্গিত করে জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ বলেছেন, ‘আমি কোনো ভুল করে থাকলে সেটি কেবলমাত্র আমি নিজে প্রত্যাহার করতে পারি কিংবা স্পিকার সেটি এক্সপাঞ্জ করতে পারেন। কিন্তু আমার বক্তব্যের জন্য অন্য কারও ক্ষমা চাওয়ার অধিকার নেই। এই সংসদে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে একটি কথা বলেছিলাম। পরে আমি শব্দটি (শোপিস) প্রত্যাহার করি। এরপরে একজন (রওশন) আমার বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। এটা তার এখতিয়ার বহির্ভূত। এটি তিনি পারেন না।’

সোমবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে এরশাদ এসব কথা বলেন। এসময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর উদ্দেশে এরশাদ বলেন ‘তার (রওশনের) বক্তব্যে আমার বক্তব্য সংক্রান্ত যে শব্দগুলো আছে তা প্রত্যাহার করা হোক।’ এরশাদের বক্তব্য দেয়ার সময় রওশন সংসদে ছিলেন না। তবে এই বক্তব্যের সময় সংসদে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অনেককেই হাসতে দেখা যায়।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুন সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় সংসদের শীর্ষ পদে থাকা নারীদের ‘শোপিস’ বলায় সংসদে নারীদের ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন এরশাদ। তীব্র প্রতিবাদের মুখে ওই বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। আর স্বামীর বক্তব্যে শব্দ চয়নে এই ধরনের ভুলের জন্য সেদিন সংসদে দাঁড়িয়ে ‘বোন’দের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন রওশন।

রওশনের এই ‘দুঃখ প্রকাশে’ ক্ষুব্ধ হয়ে এরশাদ বলেন, ‘এই অধিকার তার নেই। আমি যে শব্দটি ব্যবহার করেছিলাম তা অসংসদীয় নয়। তারপরেও আমি সেটি প্রত্যাহার করেছিলাম। এরপর কী তা এক্সপাঞ্জ করা যায়? এক্সপাঞ্জ করায় আমি মনে দুঃখ পেয়েছি। আমি জীবনে কাউকে কটু কথা বলিনি। এই সংসদে কখনও আমার বক্তব্য এক্সপাঞ্জ হয়নি। এখন যেহেতু এক্সপাঞ্জ হয়ে গেছে, কী আর করা! দুঃখ নিয়েই আমাকে মরতে হবে। ’

স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি বিদূষী নারী, আপনি স্পিকার হয়েছেন, সিপিএ সভাপতি হয়েছেন। বাংলাদেশের জন্য গৌরব অর্জন করেছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নারী-পুরুষের বিভাজনের মধ্যে পড়েন না। বড় কথা তিনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা। নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকার ও সমাজের দায়িত্ব। এই সংসদেই ৫০টি সংরক্ষিত আসনে নারী সদস্য রয়েছেন, তারা কি আমাদের সমান সুযোগ পান? পান না। আমরা যে বরাদ্দ পাই, তারা তা পান না। বিভাজন এখানেই। বিভাজন দূর করতে হলে এখান থেকেই শুরু করতে হবে।’ এরশাদের এই বক্তব্যের সময়ও প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারসহ অনেকে হাসেন। যদিও কয়েকজন নারী সদস্য টেবিল চাপড়াতে থাকেন।

হীরা পান্নাজাতীয়
নিজের স্ত্রী ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদকে ইঙ্গিত করে জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ বলেছেন, ‘আমি কোনো ভুল করে থাকলে সেটি কেবলমাত্র আমি নিজে প্রত্যাহার করতে পারি কিংবা স্পিকার সেটি এক্সপাঞ্জ করতে পারেন। কিন্তু আমার বক্তব্যের জন্য অন্য কারও ক্ষমা চাওয়ার অধিকার নেই। এই সংসদে...