1436297238

ঈদকে সামনে রেখে চলাচলের অযোগ্য, লক্কড়-ঝক্কড় মার্কা শতাধিক লঞ্চ মেরামত করা হচ্ছে বুাড়িগঙ্গার দক্ষিণ পারে কেরানীগঞ্জের ডকইয়ার্ডগুলোতে। এসব লঞ্চযোগে ঈদের অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা হবে। ত্রুটিপূর্ণ নকশায় লঞ্চ নির্মাণ আর অদক্ষ চালকের কারণে দেশে ৭০ ভাগ লঞ্চ ডুবছে।

লঞ্চ মালিকরা বিআইডব্লিউটিএ থেকে লঞ্চ নির্মাণের জন্য ঠিকই নকশা পাস করিয়ে নেন কিন্তু ডকইয়ার্ডে গিয়ে নিজেদের মতো করে লঞ্চ তৈরি করেন। দেড়তলা লঞ্চের অনুমোদন নিয়ে তৈরি করছে তিন থেকে সাড়ে তিনতলা। ত্রুটিপূর্ণ এসব লঞ্চ সামন্য দুর্যোগে একটু কাত হলেই ডুবে যায়। গত ১৫ বছরে ৫ সহস্রাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। দেশে ২৩ হাজার নৌযানের মধ্যে ২২ হাজার নৌযানেরই লাইসেন্স নেই। ফলে নৌপথে চলাচলকারী জনসাধারণ চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

ঈদে যাত্রী পরিবহনের জন্য ফিটনেসবিহীন ও চলাচলের অযোগ্য এমনসব লঞ্চ মেরামত করা শুরু হয়েছে। ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ২৭টি ছোট-বড় ডকইয়ার্ডে এসব লঞ্চ মেরামত এবং রং করার কাজ চলছে। সদরঘাটের বিপরীতের বুড়িগঙ্গার তীরের ডকগুলো পক্ষকাল থেকে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। ঈদের আগ পর্যন্ত প্রত্যেকটি ডকইয়ার্ড এ কাজের জন্য বুকিং দেয়া রয়েছে। ঈদের আগে দ্রুত পানিতে ভাসানোর জন্য রাতদিন লঞ্চগুলো মেরামত আর রঙের কাজ চলছে। ‘বেবি সাহেবের ডক’-এর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ হোসেন বেবি গতকাল সোমবার বিকেলে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ঈদের আগে লঞ্চের মেরামতের কাজ বেড়ে যায়। ডক ভাড়া নেয়ার জন্য আগে থেকেই লঞ্চ মালিকরা যোগাযোগ করেন।

এসব ডকইয়ার্ডে নকশা অনুযায়ী নৌযান তৈরি হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পরিদর্শক দলকে হাতে রেখেই এসব কাজ করা হচ্ছে। তবে ডকইয়ার্ড মালিকরা বলছেন, লঞ্চ মালিকরা ডকইয়ার্ড ভাড়া নিয়ে লঞ্চ নির্মাণ করেছেন। আশরাফুল হাসান আশু নামে একজন ডকইয়ার্ড মালিক বলেন, ত্রুটিপূর্ণ লঞ্চ নির্মাণ ঠেকাতে হলে নকশা অনুমোদন ও মনিটরিং সিস্টেমের ওপর জোর দিতে হবে। ‘উদারতার’ কারণেই ত্রুটিপূর্ণ লঞ্চ তৈরি হচ্ছে। ডকইয়ার্ডে যেসব লঞ্চ তৈরি হচ্ছে তার অধিকাংশেই নিয়ম অনুযায়ী গভীরতা রাখা হচ্ছে না। নিয়মানুযায়ী লঞ্চ নির্মাণ করা হলে সেটি ঝড় বা দুর্যোগের কবলে পড়ে ৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত কাত হলেও পানিতে ডুববে না। কিন্তু নকশা না মেনে যে সব লঞ্চ তৈরি হচ্ছে সেগুলো ১৫ থেকে ১৮ ডিগ্রি কাত হলেই পানি ঢুকে দুর্ঘটনার কবলে পড়বে। এছাড়া যে পরিমাণ অশ্বশক্তির ইঞ্জিন প্রয়োজন তার থেকে বহু কম ক্ষমতার ইঞ্জিন ব্যবহার, ধারণক্ষমতার চেয়ে যাত্রীদের জন্য কয়েকগুণ পরিমাণে আপার স্পেস রাখা হয়। ফলে নৌযান চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

নিরাপদ নৌ-জোটের এক গবেষণায় দেখা যায়, ১৯৭৬ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত যত লঞ্চ দুর্ঘটনা ঘটেছে তার ৭০ ভাগই ত্রুটিপূর্ণ নকশার কারণে। সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী দেশে নৌপথে চলাচলকারী নৌযানের সংখ্যা ৩৫ হাজার। এর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন রয়েছে মাত্র ১৩ হাজারের। আর রেজিস্ট্রেশন ছাড়া চলাচল করছে প্রায় সাড়ে ২২ হাজার নৌযান। এ ১৩ হাজার লঞ্চের মধ্যে যাত্রীবাহী নৌযান ২ হাজার ২২৫টি। যাত্রীবাহী নৌযানের মধ্যে বছরে ফিটনেস পরীক্ষা বা সার্ভে করা হয় মাত্র ৮৫০ থেকে ৯০০টির। সার্ভে না করার কারণে ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল করছে। আর প্রতিবছরই ঘটছে নৌ দুর্ঘটনা, মৃত্যু হচ্ছে শত শত মানুষের।

বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর এম মোজাম্মেল হক ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, এবারের ঈদকে অধিকতর নিরাপদ করতে বিআইডব্লিউটিএ’র একাধিক মোবাইল টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিম লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই বন্ধসহ সব রকমের অনিয়ম ঠেকাবে। এছাড়াও র্যাব-পুলিশের কড়া নজরদারি থাকবে লঞ্চ টার্মিনালে।

তুনতুন হাসানশেষের পাতা
ঈদকে সামনে রেখে চলাচলের অযোগ্য, লক্কড়-ঝক্কড় মার্কা শতাধিক লঞ্চ মেরামত করা হচ্ছে বুাড়িগঙ্গার দক্ষিণ পারে কেরানীগঞ্জের ডকইয়ার্ডগুলোতে। এসব লঞ্চযোগে ঈদের অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা হবে। ত্রুটিপূর্ণ নকশায় লঞ্চ নির্মাণ আর অদক্ষ চালকের কারণে দেশে ৭০ ভাগ লঞ্চ ডুবছে। লঞ্চ মালিকরা বিআইডব্লিউটিএ থেকে লঞ্চ নির্মাণের...