Oporadher Dairy Theke
ঈদকে সামনে রেখে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারীরা। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ৩০০ স্পটে ছিনতাইকারীদের ২৫টি গ্রুপ এখন সক্রিয়। প্রতিদিনই ধারালো ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তারা সাধারণ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। লুটে নিচ্ছে টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান সামগ্রী। দুর্বৃত্তদের হামলায় জীবনও হারাচ্ছেন কেউ কেউ। আবার অনেকেই পঙ্গুত্ববরণ করে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন। বিকাশ-ফ্ল্যাঙ্েিলাডের এজেন্ট, ব্যবসায়ী, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, সাংবাদিকসহ প্রশাসনের লোকজন- কেউই তাদের কাছ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না।

গত এক মাসে ছিনতাইকারীদের হামলায় তিনজন নিহত হন। আহত হয়েছেন শতাধিক। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এক পরিসংখ্যনে দেখা যায়, গত এক মাসে ৪৯টি থানায় ৪৩টি ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, এর প্রকৃত সংখ্যা অন্তত ১০ গুণ বেশি। অনেকেই আরও ঝক্কিঝামেলার কারণ হতে পারে এ আশঙ্কায় ছিনতাইয়ের ঘটনা পুলিশকে জানাতে চান না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে বলা হলেও কার্যত কোনো কাজে আসছে না। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, থানায় জানালেও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার হয় না। আবার রাজধানীর চলার পথও তারা নির্বিঘ্ন রাখতে পারছে না।

ভুক্তভোগী বেশ কয়েকজন অভিযোগ করেন, ছিনতাই-ডাকাতির মামলা তদন্তে খুব একটা আগ্রহ দেখায় না তদন্তে সংশ্লিষ্টরা। কিছু অপরাধীকে গ্রেফতার করলেও ছিনতাইকৃত টাকা-মালামাল উদ্ধার করতে পারে না পুলিশ। ফলে দিন দিন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারীরা। রাজধানীতে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বিগ্ন প্রশাসনও। ২৮ জুন পুলিশ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ, হুমকিদাতা এবং অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্যদের গ্রেফতারে জোরদার অভিযানের জন্য ডিএমপিকে নির্দেশ দিয়েছেন আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক। গোয়েন্দা সূত্রমতে, ঈদ-পূজার মতো বিভিন্ন উৎসবে রাজধানীতে ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধীদের তৎপরতা বেড়ে যায়। এ ধরনের ২৫টি গ্রুপকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ ও গোয়েন্দারা। যার মধ্যে বাড্ডার সোহেল, গুলশানের নাসির, ল্যাংড়া বাচ্চু, কাইল্যা সেন্টু, মিরপুইর্যা আক্তার, এতিম মনির, ইমু, জাকির, আরিফ, সুলতান, জাহাঙ্গীর ও সাগর গ্রুপ অন্যতম। এদের প্রতি গ্রুপে রয়েছে ৭-৮ জন সদস্য। চক্রের অধিকাংশ সদস্যই তরুণ। এ কাজে জড়িয়ে পড়েছে কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও। ছিনতাইয়ে ব্যবহারের জন্য প্রত্যেক দলে রয়েছে একাধিক অনিবন্ধিত মোটরসাইকেল। দিনে ছিনতাই কাজে এসব মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হলেও রাতে তারা নামে প্রাইভেট কার বা মাইক্রোবাস নিয়ে। জানা গেছে, মিরপুর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া ও উত্তরায় ছিনতাইকারীদের নেতৃত্ব দিচ্ছে খলিফা গ্রুপ। মতিঝিলে নেতৃত্বে মকবুল গ্রুপ। পুরান ঢাকা ও পোস্তগোলায় রয়েছে ঠাণ্ডু গ্রুপ। কাঙ্গালী জাকির ক্রসফায়ারে মারা গেলেও তার গ্রুপের সদস্যরা ভাগ হয়ে এখন কয়েকটি গ্রুপে কাজ করছে। এ ছাড়াও ডলার লিটন ও কাউয়ুম গ্রুপের নামও রয়েছে গোয়েন্দা তালিকায়। সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনা- গত ৫ জুলাই পূর্ব বাড্ডায় ফয়সাল নামে এক বিকাশ এজেন্টকে গুলি করে সোয়া ৩ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। একই দিন মতিঝিলে ছিনতাই হয় এক লাখ টাকা। ৪ জুলাই উত্তরায় বিএনএস সেন্টারের সামনে পিস্তল ঠেকিয়ে ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ২৯ জুন পুরানা পল্টন এলাকায় এক গাড়ি ব্যবসায়ীর এক লাখ টাকা, ২৭ জুন যাত্রাবাড়ীতে এক ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করে পৌনে দুই লাখ টাকা, ২৫ জুন ভাষানটেকে দেড় লাখ টাকা ছিনতাই হয়। ২৬ জুন কলাবাগানে ছিনতাইকারীদের গুলিতে নিহত হন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট শিল্পপতি নুরুল ইসলাম বিএসসির ভাগ্নে ওবায়দুল হাসান। ২৪ জুন তেজগাঁও ফ্লাইওভারের ওপর কৌশলে ট্রাক রেখে ব্যারিকেড দিয়ে আসিফ আবদুল্লাহ খান নামে এক চালককে গুলি করে তার প্রাইভেট কার ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ২২ জুন তেজগাঁও উত্তর বেগুনবাড়ি এলাকায় সাইফুল ইসলাম কাজল নামে এক টেলিকম ব্যবসায়ীকে গুলি করে প্রায় ৩ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একই দিন চানখাঁরপুলে মনিন্দ্র পাল নামে এক সোনার কারিগরকে অজ্ঞান ও ছুরিকাঘাত করে ১৫ ভরি সোনা লুট করে। ২১ জুন সায়েদাবাদে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে খুন হন নুরুল আলম নামে এক ব্যক্তি। ৮ জুন কদমতলীতে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে খুন হন মামুন ফকির নামে এক যুবক।

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) নজরুল ইসলাম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, রমজান এবং ঈদকে ঘিরে আর্থিক লেনদেন বেশি হয়। এ সময় বিভিন্ন ধরনের অপরাধীরারা বেপরোয়া হয়ে ওঠার চেষ্টা করে। জনসাধারণের নিরাপত্তায় মাঠে পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে পুলিশ-র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ছিনতাই রোধে পুলিশ যথেষ্ট সক্রিয়।

ওয়াজ কুরুনীপ্রথম পাতা
ঈদকে সামনে রেখে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারীরা। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ৩০০ স্পটে ছিনতাইকারীদের ২৫টি গ্রুপ এখন সক্রিয়। প্রতিদিনই ধারালো ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তারা সাধারণ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। লুটে নিচ্ছে টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান সামগ্রী। দুর্বৃত্তদের হামলায় জীবনও হারাচ্ছেন কেউ কেউ। আবার অনেকেই পঙ্গুত্ববরণ করে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন। বিকাশ-ফ্ল্যাঙ্েিলাডের...