82822_s1
অনুষ্ঠানিক অনুশীলন ছিল না বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের। তবুও ঐচ্ছিক অনুশীলনে মাঠে এসেছিলেন মুশফিকুর রহীম, জুবায়ের হোসেন ও সাব্বির রহমান। বাকিরা টিম হোটেলেই ছিলেন। সাকিবকে দেখা গেল হোটেল ছেড়ে বাইরে যেতে, হয়তো কোন কেনাকাটা ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি হারের পর দলকে মানসিকভাবেই চাঙ্গা রাখতে তেমন কোন চাপ ছিল না টাইগারদের ওপর। হোটেলেও পরাজয়ের কারণ কাটাছেঁড়া করতে সংবাদ মাধ্যমের সামনে এলেন তরুণ ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৪৮ রানে থামিয়ে দিয়েছিল বোলারারা। চিরচেনা স্পিন উইকেটে জ্ঝলে উঠেছিল স্পিনারারা। কিন্তু ১০০ তুলতেই যেন ঘাম ঝরে গেল বাংলাদেশ দলের ব্যাটসম্যানদের। একের পর এক বাজে শটে আত্মাহুতি দিয়ে ফিরলেন ড্রেসিংরুমে। শেষ পর্যন্ত ৫২ রানে পরাজয়। এই ব্যর্থতা লুকাতে উইকেটকে ঢাল হিসেবে নিজেদের সামনে দাঁড় করালেন না তিনি। অকপটে স্বীকার করে নিলেন ব্যাটিং ব্যর্থতার কথা। সেই সঙ্গে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে জিততে হলে অবশ্যই ব্যাটিং ভাল করতে হবে সেটিও জানিয়ে দিলেন। সৌম্য বলেন, ‘আসলে ভুল কি ছিল, সেটা তো সবাই দেখেছে। আমাদের যেটা প্ল্যান ছিলো, বোলিংয়ে-ফিল্ডিংয়ে সেটা সাকসেস হয়েছি। কিন্ত ব্যাটিংয়ে যে প্লানটা ছিল তা ভুল ছিল তা বলছি না, আমরা পারি নাই। সফল হতে পারলে রেজাল্টটা আমাদের পক্ষে আসতো।’
অন্যদিকে হঠাৎ করে বদলে ফেলা হয়েছে মিরপুরের উইকেট। ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে যে ট্রু উইকেট ছিল সেটি পরিরবর্তন করে চির চেনা স্পিন উইকেট বানানো হয়। কারণ এবার দক্ষিণ আফ্রিকাকে যে আটকাতে হবে স্পিন ফাঁদে। কিন্তু উল্টোই যেন হলো। যে ফাঁদ পাতা হয়েছিল প্রোটিয়াদের জন্য সেখানেই পড়লো বাংলাদেশ। আলোচনায় উঠে এলে উইকেটাও। কিন্তু সৌম্যের অবশ্য ভিন্ন মত। এই উইকেটে কোন টার্ন দেখছেন না সৌম্য, এমনকি প্রোটিয়া দলটিকেও খুব আহামরি মনে হয়নি তার। দোষটা যে নিজেদের সেটিই বলতে চাইলেন বারবার। সৌম্য বলেন, ‘চেয়েছিলাম, প্রথম ৬ ওভারে আমরা যদি কিছু রান করে রাখতে পারি, সেটা আমাদের জন্য ভাল হবে। আর উইকেটে টার্নের কথা যেটা বলছেন, সেরকম টার্ন কিন্তু আমরা দেখিনি। তবে মুশফিক ভাই যখন আউট হয়ে গেছে, আমাদের বেশিরভাগ ব্যাটসম্যান যখন আউট হয়ে গেছে, তখন প্রেশারে যেটা হয় আর কী; বেশির ভাগ বোলার তখন ভাল বল করতে থাকে। আমি বলবো, ওরা (দক্ষিণ আফ্রিকা) ওই রকম কিছু না। ওরা সবই সাদামাঠা ছিল। তবে আমরা আমাদের প্লানটায় সফল হতে পারিনি বলে ব্যাটসম্যানরা আউট হয়ে গেছে।’
তবে জয়ের ধারায় ফিরতে বদ্ধপরিকর টাইগার শিবির। এই জন্য তাদের প্লানও করা হয়েছে। অলোচনাও হয়েছে ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়ে। কি আলোচনা হলো আজ জয়ের জন্য? সৌম্য বলেন, ‘আলোচনা বলতে.. আসলে ওটাই কথা হয়েছে যে, আমাদের যে প্ল্যান ছিল, সেটা অনুযায়ী আমরা করতে পারিনি। আমাদের প্লান প্রথম ছয় ওভারে যদি আমরা রানটা একটু কাভার করে রাখতে পারি-চল্লিশ, পঞ্চাশ, তাহলে আমরা অনেক এগিয়ে যাবো। নেক্সট ব্যাটসম্যানদের জন্য সহজ হবে তাহলে। গত খেলায় আমরা পারিনি। প্রথমেই আমাদের দুইটা উইকেট পড়ে যায়। প্রথম ধাক্কা খাওয়ার পর আমরা পিছিয়ে পড়ি। পিছনে আমরা যে ম্যাচগুলো খেলেছি, সেখানে আমরা সাকসেস হয়েছি। কিন্তু এখানে প্রথম ম্যাচটায় আমরা হেরেছি। পরের ম্যাচে আমরা চেষ্টা করবো, রেজাল্টটা কিভাবে আমাদের পক্ষে আনা যায়। জিততে হলে আমাদের বোলিং-ব্যাটিং দুটিতেই সেরা খেলা খেলতে হবে। মাঠে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।’

সুরুজ বাঙালীখেলাধুলা
অনুষ্ঠানিক অনুশীলন ছিল না বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের। তবুও ঐচ্ছিক অনুশীলনে মাঠে এসেছিলেন মুশফিকুর রহীম, জুবায়ের হোসেন ও সাব্বির রহমান। বাকিরা টিম হোটেলেই ছিলেন। সাকিবকে দেখা গেল হোটেল ছেড়ে বাইরে যেতে, হয়তো কোন কেনাকাটা ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি হারের পর দলকে মানসিকভাবেই চাঙ্গা রাখতে তেমন কোন চাপ ছিল...