ব্যাংকের সিসিটিভি সার্বক্ষণিক সচল রাখার নির্দেশ

bank_43877_147785
ব্যাংকের সব শাখার সিসিটিভি সার্বক্ষণিক সচল রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধে ব্যাংকের সব শাখায় পর্যায়ক্রমে স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ম স্থাপন করতেও বলা হয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে দেওয়া নির্দেশনা যথাযথভাবে কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে জারি করা নির্দেশনা সংযোজন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করে সমন্বিত আকারে রোববার জারি করা একটি সার্কুলার ব্যাংকগুলোতে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক চৌধুরী মো. ফিরোজ বিন আলম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, শাখার নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে সময় সময় ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনাগুলো আলাদা সময়ে হওয়ায় ব্যাংকগুলোর বুঝতে হয়তো সমস্যা হতে পারে। এ কারণে এখন তা একত্রিত করে একটি সার্কুলার আকারে জারি করা হলো। এ সার্কুলারে অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে আসা পরামর্শও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শাখার প্রবেশ পথে, অভ্যন্তরে, বাইরে এবং সব ধরনের আইটি রুমে প্রয়োজনীয়সংখ্যক সিসিটিভি, আইপি ক্যামেরা বা স্পাই ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। এগুলো ব্যাংকের সেন্ট্রাল ইনফরমেশন নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করে সিসিটিভি যেন সব সময় সচল থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। সিসিটিভি পরিচালনায় প্রশিক্ষিত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিতে হবে। আর সব সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ ধারনের সময় থেকে অন্তত এক বছর সংরক্ষণ করতে হবে।

এতে বলা হয়েছে, চুরি-ডাকাতিসহ যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি মোকাবেলা ও প্রতিরোধের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিটি শাখায় স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ম পদ্ধতি চালু করতে হবে। এই সিস্টেমে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, নিকটবর্তী থানা ও র‌্যাব অফিসসহ অন্যান্য ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নম্বরে (হটলাইন) সংযোগ থাকতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকের সব শাখায় পর্যায়ক্রমে ‘অ্যান্টি-থিফট অ্যালার্ম’ তথা চোর এলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাজবে এমন অ্যালার্ম স্থাপন করতে হবে। আর ব্যাংকের ভল্টের নিরাপত্তার বিষয়টি অধিকতর শক্তিশালী ও মজবুত করতে কাঠামো, প্রযুক্তি, ভল্টে নগদ অর্থ সংরক্ষণ সীমা ও বীমা নিরাপত্তার বিষয়টি মেনে চলতে বলা হয়েছে সার্কুলারে।

এতে আরো বলা হয়, ব্যাংক শাখার চারপাশে বসবাসকারী বাসিন্দা বা অবস্থানকারীদের তথ্য সংগ্রহ করে তা সংশ্লিষ্ট শাখায় সংরক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে ওইসব ব্যক্তির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার মাধ্যমে সামাজিক সম্পর্ক জোরদার করতে হবে। আর সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এবং ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর আকস্মিকভাবে রাতে সুনির্দিষ্ট কর্মকর্তা শাখা পরিদর্শন করবেন।

রাষ্ট্রীয় মালিকানার ব্যাংকগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভল্ট রুমের ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গঠিত কমিটির পক্ষ থেকে গত ডিসেম্বরে দেওয়া সুপারিশের আলোকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। অন্য ব্যাংকের ভল্ট স্পেস বিশেষভাবে সুরক্ষিত করতে পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদিত নীতিমালার আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে সব ক্ষেত্রে মেঝে ও ছাদসহ ভল্টের চারপাশের নির্মিত দেয়ালের অবকাঠামোগত নিরাপত্তার বিষয়টি পুর প্রকৌশলী থেকে প্রত্যায়িত হতে হবে।

ব্যাংকের ভল্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিকিউরিটি অ্যালার্ম সার্বক্ষণিক সচল রাখার পাশাপাশি ভল্টের ভেতরে অটোমেটেড ফায়ার এক্সটিংগুইসার স্থাপন করতে বলা হয়েছে। কোনো অবস্থায় শাখা সীমার বেশি নগদ অর্থ যেন ভল্টে সংরক্ষণ না করে সে বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংককে তাদের ভল্টে রাখা অর্থের ওপর অনাকাঙ্খিত ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য আলাদা তহবিল গঠন করতে এবং অন্য ব্যাংককে তাদের ভল্টে রক্ষিত সব অর্থের পূর্ণ বীমা আচ্ছাদন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সার্কুলারে নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগের আগে তার তথ্য সংগ্রহ করে সংরক্ষণ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বেশিসংখ্যক সশস্ত্র নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ এবং সশস্ত্র নিরাপত্তা প্রহরীদের অস্ত্র চালানো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।