image_241692.razib
গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক ব্লগার প্রকৌশলী রাজীব হায়দার শোভন হত্যা মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন আপন ছোট ভাই।
রবিবার এ মামলায় ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণের জন দিন ধার্য ছিল। এদিন সাক্ষ্য দিতে ট্রাইব্যুনালে হাজির হন নিহতের ছোট ভাই গোলাম মোর্তুজা হায়দার।
সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাইদ আহমেদ সাক্ষির সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সকল আসামিদের পক্ষে তাকে জেরা করেন আইনজীবীরা। জেরা শেষে বিচারক পরবতী সাক্ষির জন আগামী ১৪ জুলাই দিন ধার্য করেন। এনিয়ে মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত ৫৫ জনের মধ্যে তিন জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হল।
সাক্ষ্য গ্রহণের সময় মামলার আসামি আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের প্রধান মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানী, রাজধানীর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল বিন নাইম ওরফে দিপু (২২), মাকসুদুল হাসান অনিক (২৬), এহসানুর রেজা রুম্মান (২৩), মো. নাঈম সিকদার ওরফে ইরাদ (১৯), নাফির ইমতিয়াজ (২২), সাদমান ইয়াছির মাহমুদ (২০)-কে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তবে অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের শিক্ষার্থী রেদোয়ানুল আজাদ ওরফে রানা (৩০) পলাতক।
রাষ্ট্রপক্ষে ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনা করেন বিশেষ পিপি মাহাবুবুল আলম। আসামিদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ফারুক আহমেদ। এর আগে গত ২৪ জুন সাক্ষ্য দেন অভিযোগপত্রভুক্ত দ্বিতীয় সাক্ষি নিহতের খালাতো ভাই কাজী গালিবুল ইসলাম। গত ২৭ মে সাক্ষ্য দেন মামলার প্রথম সাক্ষি নিহতের পিতা ডা. নিজামউদ্দিন।
মামলার অভিযোগপত্রে ত্রুটি থাকায় গত ২১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২৭ ধারায় সংশোধিত অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলার প্রধান আসামি আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতী জসীমউদ্দিন রাহমানীর বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৩০২/১০৯ ধারায় এবং অন্য সকলের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা গত ৯ মে এক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে মামলাটি ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ১১ মে মামলার নথি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হলে ১৭ মে ধার্য করা হয়। ওইদিন ফের অভিযোগ গঠনের জন্য দিন ধার্য করা হয়।
এর আগে গত ১৮ মার্চ ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রথমবার অভিযোগ গঠন করা হয়। গত বছরের ২৮ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক নিবারণ চন্দ্র বর্মন উল্লেখিত ৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রে রাহমানীকে ‘হত্যাকাণ্ডে অনুপ্রেরণাকারী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হলেন নর্থ সাউথের শিক্ষার্থী রেদোয়ানুল আজাদ ওরফে রানা। তার গ্রামের বাড়ি ফেনীর দাগনভূঞার উত্তর জয়লস্করে।
বলা হয়, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাত শিক্ষার্থী ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি মুহাম্মদ জসীমউদ্দিন রাহমানীর জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। গ্রেপ্তার হওয়া নর্থ সাউথের ছয় শির্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ, আসামিদের দেয়া স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি ও তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, আসামিরা জসীমউদ্দিন রাহমানীর বই পড়ে, সরাসরি তার বয়ান ও খুতবায় অংশ নিয়ে ‘নাস্তিক ব্লগার’দের খুন করতে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত হন।
এছাড়া হত্যার আগে যে দোকান থেকে আসামিরা সিমকার্ড ও চাপাতি-ছুরি কিনেছিলেন, ওই দোকান মালিকেরা এ বিষয়ে তারা আদালতে সাক্ষি হিসাবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে মামলার বাদী ও নিহতের বাবা ডা. নিজামউদ্দিন, ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজন, পুলিশ ও চিকিৎসকসহ ৫৫ জনকে মামলায় সাক্ষি করা হয়েছে। ৭৮ প্রকার আলামত উদ্ধার করা হয়েছে মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে।
কারাগারে থাকা আসামিরা সবাই হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। মুফতী জসীমের নির্দেশে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তার স্বীকারোক্তি দিলেও মুফতি জসীম তার স্বীকারোক্তিতে নিজের জড়িত থাকার বিষয়ে কোন কথা বলেননি।
২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাসায় ফেরার পথে গণজাগরন মঞ্চের অন্যতম সংগঠক রাজীব হায়দার শোভনকে পল্লবীর কালশীর পলাশনগরে অজ্ঞাত আততায়ীরা কুপিয়ে হত্যা করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘থাবাবাবা’ নামে একটি ব্লগে তিনি লেখালেখি করতেন। এ ঘটনায় নিহতের পিতা মো. নিজামউদ্দিন রাজধানীর পল্লবী থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

হীরা পান্নাআইন-আদালত
গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক ব্লগার প্রকৌশলী রাজীব হায়দার শোভন হত্যা মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন আপন ছোট ভাই। রবিবার এ মামলায় ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণের জন দিন ধার্য ছিল। এদিন সাক্ষ্য দিতে ট্রাইব্যুনালে হাজির হন নিহতের ছোট ভাই গোলাম মোর্তুজা হায়দার। সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাইদ আহমেদ সাক্ষির সাক্ষ্য...