1436122777
গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাজিউর রহমান ও একজন ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে এই আদেশ তামিল করে আদালতে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সহকারী পুলিশ সুপারকে (এ সার্কেল) নির্দেশ দেয়া হয়।

গাইবান্ধার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম এসএম তাসকিনুল হক গতকাল রবিবার এই আদেশ জারি করেন। ওই আদালতের কর্মচারী অফিস সহকারী কমল চৌধুরীসহ তিনজন কর্মচারীকে মারপিট ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে কমল চৌধুরী নিজেই বাদী হয়ে রবিবার মামলা দায়ের করলে আদালত এই আদেশ দেয়।

মামলার অন্য আসামিরা হচ্ছেন সোনালী ব্যাংক গাইবান্ধা প্রধান শাখার ব্যবস্থাপক আয়েশ উদ্দিন, গাইবান্ধা ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের উপ-পরিদর্শক রাকিব হোসেন, সহকারী উপ-পরিদর্শক আইয়ুব হোসেন, ওই ব্যাংক শাখার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কনস্টেবল সাদ্দাম, সাইমুম, শাহিনুর, আব্দুল্ল­া, বাবলু ও আইয়ুব।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, আদালতের কর্মচারী কমল চৌধুরী গত ২ জুলাই সকালে একজন বিচারক ও তিনজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতনের টাকা উত্তোলনের জন্য দুইটি চেক নিয়ে সোনালী ব্যাংক গাইবান্ধা শাখায় যান। তিনি চেক দুইটি ব্যাংকে জমা দিয়ে টোকেন সংগ্রহ করেন। বিকাল তিনটার দিকে টাকা উত্তোলনের জন্য পুনরায় তিনি ব্যাংকে গিয়ে চেক দুইটি ভাঙানোর কথা বলেন। কিন্তু উপস্থিত ব্যাংক কর্মকর্তা সময় শেষ হয়ে যাওয়ার কথা বলেন। পরে ব্যাংকের ব্যবস্থাপক চেক দুইটি নিয়ে ১০ মিনিট পরে আসতে বলেন। তখন কমল চৌধুরী চেক দুইটি ব্যবস্থাপককে দিয়ে ব্যাংক ভবনের বাইরে যান।

বিকাল পাঁচটার পর কমল চৌধুরী ব্যাংকের ভেতর হৈচৈ শুনে এগিয়ে যান। তিনি ব্যাংকের ভেতরে ঢুকে দেখেন পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক আইয়ুব হোসেন নিজেই ক্যাশ কাউন্টারের ভেতর চেকের সিরিয়াল ওলটপালট করছেন। এসময় কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গাইবান্ধা মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের রেকর্ড কিপার মোজাম্মেল হক, ক্যাশিয়ার জুয়েল কবীরসহ অন্য গ্রাহকরা ওই সহকারী উপ-পরিদর্শকের কাজের প্রতিবাদ জানান। এতে আইয়ুব হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে ধমক দিয়ে বলেন যে, আমি পুলিশের লোক, বেশি বাড়াবাড়ি করলে ব্যাংক ডাকাতির মামলায় ফেলে দেবো। তখন কমল চৌধুরী উভয় পক্ষকে শান্ত হওয়ার জন্য বলেন। এতে তিনি আরো উত্তেজিত হয়ে কমল চৌধুরীকে গালিগালাজ করেন এবং ব্যাংক ডাকাতি মামলায় জড়ানোর হুমকি দেন। পরে তিনি তার হাতে থাকা হাতকড়া দিয়ে ব্যাংকের কলাপসিবল গেটে তালা লাগিয়ে দেন এবং অন্য পুলিশ সদস্যদের পোশাক পরে তৈরি হতে বলেন।

এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। কিছুক্ষণ পর আইয়ুব হোসেন গেট খুলে দিলে সাদা পোশাকে উপ-পরিদর্শক রাকিব হোসেনের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের লোকজন ব্যাংকে ঢোকে। এ সময় ওই ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক কমল চৌধুরীকে তার কক্ষে নিয়ে বসান। ওই কক্ষেই ডিবি পুলিশ কমল চৌধুরীকে এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করে এবং টেনে হিঁচড়ে কক্ষের বাইরে নিয়ে যায়। এসময় তারা কমলের সঙ্গে থাকা চেকের টোকেন ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে।

এরই মধ্যে আইয়ুব হোসেনের নির্দেশ পেয়ে ব্যাংক শাখায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল সাদ্দাম, শাহিনুর, সাইমন, আব্দুল্ল­াহ, বাবলুসহ আরো কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে কিল ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মারতে থাকে। এতে কমল চৌধুরী মারাত্মক আহত হন। শুধু তাই নয় খবর পেয়ে সদর থানার ওসি রাজিউর রহমান ব্যাংক শাখায় গিয়ে কমলকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে কমলের শার্ট ছিঁড়ে যায়। পরে তাকে সদর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ওইদিনই কমল চৌধুরীকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বাদী পক্ষের আইনজীবী আনিছুর রহমান জানান, এই ঘটনায় কমল চৌধুরী বাদী হয়ে রবিবার দুপুরে সদর থানার ওসি রাজিউর রহমানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গাইবান্ধার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হচ্ছেন গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাজিউর রহমান, সোনালী ব্যাংক গাইবান্ধা প্রধান শাখার ব্যবস্থাপক আয়েশ উদ্দিন, গাইবান্ধা ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের উপ-পরিদর্শক রাকিব হোসেন, সহকারী উপ-পরিদর্শক আইয়ুব হোসেন, ওই ব্যাংক শাখায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কনস্টেবল সাদ্দাম, সাইমুম, শাহিনুর, আব্দুল্ল­াহ, বাবলু ও আইয়ুব। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

ওয়াজ কুরুনীপ্রথম পাতা
গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাজিউর রহমান ও একজন ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে এই আদেশ তামিল করে আদালতে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সহকারী পুলিশ সুপারকে (এ সার্কেল) নির্দেশ দেয়া হয়। গাইবান্ধার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম এসএম তাসকিনুল হক গতকাল রবিবার এই আদেশ...