চাকরি দেওয়ার ফাঁদে ফেলে আদিবাসী তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা দুজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের কর্মকর্তারা।
ধর্ষণের শিকার আদিবাসী তরুণী ওই দুজনকে শনাক্তও করেছেন। গ্রেপ্তার করা দুজন হলো আশরাফ খান ওরফে তুষার (৩২) ও জাহিদুল ইসলাম ওরফে লাভলু (২৬)। গতকাল বুধবার র্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাদের গণমাধ্যমের সামনে নিয়ে আসা হয়।
র্যাব জানায়, এ দুজনই একটি বায়িং হাউসের গাড়িচালক। ওই বায়িং হাউসের মাইক্রোবাসেই গারো মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়। মাইক্রোবাসটিও জব্দ করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে অস্ত্রের মুখে মাইক্রোবাসে তুলে ধর্ষণের অভিযোগে পরদিন দুপুরে ওই তরুণী রাজধানীর ভাটারা থানায় মামলা করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, চলন্ত মাইক্রোবাসে পাঁচজন তাঁকে ধর্ষণ করেছে।
তবে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানিয়েছে, পাঁচজন নয়, গ্রেপ্তার দুজনই তরুণীকে ধর্ষণ করেছে। র্যাব কর্মকর্তারা জানান, মামলা করার সময় মেয়েটি ছিলেন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাঁর স্বজনেরাই মামলা করার সময় মূল ভূমিকা পালন করেন। সেই স্বজনেরাই হয়তো মেয়েটির কাছ থেকে ভালো করে না শুনেই এজাহার লিখে থানায় জমা দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, মঙ্গলবার রাতে পটুয়াখালীর কলাপাড়া থেকে তুষারকে ও তাঁর কাছ থেকে তথ্য নিয়ে গতকাল ভোরে রাজধানীর গুলশান থেকে লাভলুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বনানী থেকে মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়।
তুষার সাংবাদিকদের জানান, ১৬ মে তিনি বায়িং হাউসের দুই বিদেশি কর্মকর্তাকে নিয়ে যমুনা ফিউচার পার্কে যান। সেখানে মেয়েটির কর্মস্থল দোকানটি থেকে দুই বিদেশি কিছু কেনাকাটা করেন। সেখানেই মেয়েটির সঙ্গে তাঁর দেখা ও কথা হয়। মেয়েটি জানতে চান, ওই দুই বিদেশি বাংলাদেশে কী করেন। তিনি জানান, তিনি যে বায়িং হাউসে চাকরি করেন, এঁরা সেই বায়িং হাউসের কর্মকর্তা। এরপর মেয়েটি বায়িং হাউসে চাকরির সুযোগ, চাকরির যোগ্যতা সম্পর্কে তাঁর কাছে জানতে চান। তিনি মেয়েটিকে চাকরির আশ্বাস দেন এবং তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলেন। তাঁদের মধ্যে মুঠোফোন নম্বর বিনিময় হয়।
তুষারের দাবি, ২১ মে মেয়েটি জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন বলে ঠিক হয়। তুষার যখন এ দাবি করছিলেন, তখন র‌্যাবের একজন কর্মকর্তা বলেন, ওই চার দিনের মধ্যে অন্য দুই গাড়িচালক লাভলু ও ফিরোজের সঙ্গে মেয়েটিকে ধর্ষণের পরিকল্পনা করেন তুষার। এ সময় তুষার বলে ওঠেন, ‘তয় ফিরোজ আছিল না স্যার।’ র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা বলেন, ২১ মে গাড়ি নিয়ে অন্য জায়গায় যাওয়ায় তুষারের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি ফিরোজ। ফিরোজকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
তুষার জানান, ২১ মে রাত নয়টার দিকে তিনি যে মাইক্রোবাস চালান, সেটিতে লাভলুকে নিয়ে যমুনা ফিউচার পার্কের উল্টো দিকে যান। রাত সাড়ে নয়টার দিকে মেয়েটি আসেন। জীবনবৃত্তান্ত তাঁর হাতে দেন। মেয়েটি জানান, তিনি উত্তরায় থাকেন। তুষার তাঁকে মাইক্রোবাসে করে পৌঁছে দিতে চাইলে মেয়েটি মাইক্রোবাসের দ্বিতীয় সারির আসনে বসেন, তিনিও সেখানে বসেন। লাভলু গাড়িটি কুড়িল উড়ালসড়কের দিকে চালাতে থাকেন।
কিছুক্ষণ পর তুষার চলন্ত মাইক্রোবাসে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। গাড়িটি কুড়িল উড়ালসড়কে চক্কর দিতে থাকে। পরে তুষার গাড়ির চালকের আসনে বসলে লাভলুও মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। এরপর তাঁরা মেয়েটিকে উত্তরায় নামিয়ে দেন।
র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান বলেন, ওই দুজনকে মেয়েটি শনাক্ত করেছেন।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রংও প্রথম আলোকে জানান, মেয়েটির সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনের ছবি মেয়েটি দেখেছেন। ওই দুজনকে তিনি শনাক্ত করেছেন।
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল মোত্তাকিন বলেন, তুষার ও লাভলুকে রাতে থানায় হস্তান্তর করেছে র্যাব। মামলাটি তদন্ত করছে ভাটারা থানার পুলিশ।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/05/rape.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/05/rape-300x262.jpgশুভ সমরাটঅপরাধের ডায়েরী থেকে
চাকরি দেওয়ার ফাঁদে ফেলে আদিবাসী তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা দুজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের কর্মকর্তারা। ধর্ষণের শিকার আদিবাসী তরুণী ওই দুজনকে শনাক্তও করেছেন। গ্রেপ্তার করা দুজন হলো আশরাফ খান ওরফে তুষার (৩২) ও জাহিদুল ইসলাম ওরফে লাভলু (২৬)। গতকাল বুধবার র্যাব সদর...