বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ১১:৪০ অপরাহ্ন
Uncategorized

নুতন পে-কমিশন চূড়ান্ত অনুমোদন পাচ্ছে কাল

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০১৫
  • ৬ দেখা হয়েছে

43-290x163
বহুল আলোচিত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো সোমবার মন্ত্রিসভায় উঠছে। এটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেতে পারে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

বেতন কমিশনের বিষয়টি চূড়ান্ত হলেও টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড নিয়ে সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি। নতুন বেতন কমিশনের সঙ্গে কাল এটি মন্ত্রিসভায় উঠছে বলে জানা গেছে।

নতুন বেতন কমিশনের সঙ্গে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানা গেছে। ৬ জুলাই এটি মন্ত্রিসভায় উঠলেও পহেলা জুলাই থেকেই নতুন বেতন স্কেল কার্যকর হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন বলে জানা গেছে।

এরই মধ্যে অবশ্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এই বেতন কাঠামোর প্রস্তাবে স্বাক্ষর করে মন্ত্রিসভায় পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছেন।

সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বহাল রাখা বা বাদ দেয়ার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় কোনো দায়িত্ব নিচ্ছে না। বিষয়টি ছেড়ে দেয়া হয়েছে মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্তের ওপর। তার আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন করে প্রণীত মূল বেতনের সঙ্গে সবধরণের ভাতা পুরনো হারেই পাবেন।

নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী চাকরিজীবীরা জুলাই থেকে বেতন পেলেও অপেক্ষা করতে হবে ভাতার জন্য। ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ীই বেতন নির্ধারিত হবে। তবে ৩০ জুন পর্যন্ত যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী সিলেকশন গ্রেড বা টাইম স্কেল পেয়েছেন তাদের নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ হবে। যদি মন্ত্রিসভার বৈঠকে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড না রাখা হয় তবে ১ জুলাই থেকে আর কারও নতুন করে সিলেকশন গ্রেড বা টাইম স্কেল দেয়া হবে না।

অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও পে-স্কেল পর্যালোচনা-সংক্রান্ত সচিব কমিটির সদস্য মাহবুব আহমেদ জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর তা বাস্তবায়ন শুরু হবে।

চলতি (২০১৫-১৬) অর্থবছরের বাজেট উত্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সংসদে বলেছেন, ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেতন ও চাকরি কমিশন ২০১৩ গঠন করেছিলাম। ১ জুলাই ২০১৫ থেকে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়ন শুরু হবে। গৃহীত পদক্ষেপগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবো।

তবে পর্যায়ক্রমে পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি ভালোভাবে দেখছেন না সরকারি চাকরিজীবীরা। তাদের মতে, পে-স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে সবকিছুর দাম বেড়ে যাবে। আর এটি যদি দুই বছরে বাস্তবায়ন হয়, তাহলে আর্থিক ক্ষতিতে পড়বেন তারা। কারণ পাঁচ বছর পর পর পে-স্কেল বাস্তবায়ন হয়। এক বছর আগেই এ সময় শেষ হয়েছে। এখন এটি বাস্তবায়ন করতে আরও দুই বছর লাগলে ক্ষতিতে পড়বেন কর্মকর্তারা।

প্রস্তাবিত পে-স্কেলে টাইম স্কেল না থাকা ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে জানান নিম্নস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এ প্রসঙ্গে ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড কর্মচারীদের আন্দোলনের ফসল। কিন্তু পে-কমিশন এটি বাতিলের সুপারিশ করেছে। পে-কমিশনে সরকারি কর্মচারীদের সঠিক প্রতিনিধিত্ব না থাকায় তাদের স্বার্থ দেখা হয়নি।

২০১৬ সালের জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেলের মূল বেতনের সঙ্গে অন্য ভাতাগুলোও পাওয়া যাবে। অর্থাৎ ২০১৬ সালের জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি কার্যকর হবে। অষ্টম বেতন কাঠামো পর্যালোচনার জন্য গঠিত সচিব কমিটির প্রতিবেদনে এ সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নতুন স্কেলের শুধু বেতন বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত পাঁচ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ খাতে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ ছিল ২৯ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৫ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু বেতন বাবদ সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৪ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে একই খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৯ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা। তবে বিভিন্ন ধরনের ভাতা বাস্তবায়ন করা হবে না বিধায় প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ বেশি বাড়ানো হয়নি। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বিভিন্ন ধরনের ভাতা বাস্তবায়নের জন্য ১৬ হাজার ২৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে একই খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৬ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, নতুনভাবে অনেকে চাকরিতে যোগদান করায় তাদের কারণে ভাতার বরাদ্দ বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অষ্টম পে-স্কেলে সর্বোচ্চ বেতন হচ্ছে ৭৫ হাজার টাকা ও সর্বনিম্ন আট হাজার ২৫০ টাকা। নতুন কাঠামোতে বেতনের গ্রেড থাকছে ২০টি। তবে মন্ত্রিপরিষদ ও মুখ্য সচিবের বেতন ধরা হয়েছে ৯০ হাজার টাকা (নির্ধারিত) এবং সিনিয়র সচিবের বেতন ৮৪ হাজার টাকা (নির্ধারিত)।

প্রসঙ্গত, প্রস্তাবিত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেতন ও চাকরি কমিশন ২০১৩ গঠন করেছিলাম। আশা করি নতুন বেতন কাঠামো সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহে স্বস্তি এনে দেবে। অতিরিক্ত অর্থ সঞ্চালনে আর একটি অবদান হবে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি, যা অর্থনীতির সার্বিক প্রবৃদ্ধির হারে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে।’

শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী

© All rights reserved by Crimereporter24.com
themesba-lates1749691102