08_241517
পদোন্নতির জন্য ঘুষ দিতে পুলিশ সদস্যদের ‘তহবিল’ গঠনের বিষয়টি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরীও জানতেন। নগর পুলিশ সূত্রে এমন তথ্য নিশ্চিত হলেও তিনি তা স্বীকার করেননি।

আগে থেকেই জানতেন বলে এ ঘটনা তদন্তে নগর পুলিশের গঠিত কমিটির প্রধানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে কমিটির প্রধান বিএমপির উপকমিশনার (সদর) শোয়েব আহমেদকে অব্যাহতি দেন পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী।

একই সঙ্গে নতুন করে তদন্ত কমিটির প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় বিএমপির উপকমিশনার (ট্রাফিক) আবু সালেহ মো. রায়হানকে। এ ছাড়া কমিটিতে সম্পৃক্ত করা হয়েছে সহকারী কমিশনার (ট্রাফিক) আসাদুজ্জামান, সহকারী কমিশনার (সিটিএসবি) রুনা লায়লা ও সহকারী কমিশনার (স্টাফ অফিসার) অপু সরোয়ারকে।

তদন্ত কমিটির প্রধানকে সরিয়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে নগর পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্বচ্ছতার জন্য এটা করা হয়েছে। ঘুষের তহবিলের বিষয়টি শোয়েব আহমেদ দুই মাস আগেই জানতেন। গত ২৮ জুন পুলিশের অভ্যন্তরীণ এক বৈঠকে এ বিষয়টি জেনেছি। তাই তদন্ত কমিটি নিয়ে যাতে কোনো রকম প্রশ্ন না ওঠে সে জন্য তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

শৈবাল কান্তি বলেন, শোয়েব আহমেদ পুলিশের দুটি গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান। একই সঙ্গে তিনি মহানগর এলাকার যেকোনো পুলিশ সদস্যদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন। কিন্তু তিনি বিষয়টি জেনেও কেন তা করেননি, এ কারণে তদন্ত প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তাই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু পাঁচ দিন আগে শোয়েব আহমেদকে কেন সরিয়ে দেওয়া হয়নি- জানতে চাইলে কমিশনার ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘বিষয়টি আরো একটু নিশ্চিত হওয়ার জন্য বিলম্ব করেছি।’ তিনি দাবি করেন, ‘ঘুষ তহবিল’ গঠনের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

বিএমপির একটি সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের সদস্যদের পদোন্নতির জন্য ঘুষ সংগ্রহের বিষয়টি কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরীর নির্দেশেই হতো। তিনি আগে থেকেই সবই জানতেন। আর সদ্য বরখাস্ত হওয়া বিএমপির উপকমিশনার (উত্তর) জিল্লুর রহমান তাঁর নির্দেশেই ঘুষ নেওয়া এবং তহবিল করার কাজ করতেন। পুলিশ কমিশনার গঠিত তদন্ত কমিটি সেটা উদ্ঘাটন করায় কমিটির প্রধানকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগে আগেই সরিয়ে দিয়েছেন তিনি।

বরিশাল নগর পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ সদস্যদের পদোন্নতি নিয়ে ‘ঘুষ তহবিল’ গঠনের ঘটনায় গত ১৩ জুন পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী উপকমিশনার (সদর) শোয়েব আহমদকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন। তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী কমিশনার (কাউনিয়া থানা) শাহানাজ পারভীন ও সহকারী কমিশনার (ডিবি) আবুল কালাম আজাদ। ওই কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু গত ২০ দিনেও ওই কমিটি কোনো প্রতিবেদন দেয়নি। গতকাল শনিবার ওই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই শুক্রবার রাতে কমিটির প্রধানকে অব্যাহতি দেন পুলিশ কমিশনার।

পুলিশের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ কর্মকর্তাদের ‘ঘুষ বাণিজ্য’ নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর গত ১৩ জুন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি করেন কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী। এ কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেও অনিয়ম করা হয়েছে। তিনি কমিটি গঠন করেন ১৯ জুন। কিন্তু ১৩ জুনের তারিখ দিয়ে কমিটির সদস্যদের দেন এবং ওই তারিখে তাঁদের স্বাক্ষর করান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএমপির দুই কর্মকর্তা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, সদ্য সাময়িক বরখাস্ত হওয়া উপকমিশনার (উত্তর) জিল্লুর রহমান এ পদোন্নতির ব্যাপারে গত তিন মাসে প্রায় দেড় মাস সময় ঢাকা-বরিশাল করেছেন। কখনো দপ্তর থেকে ছুটি নিয়ে, কখনো পুলিশ কমিশনারকে মৌখিকভাবে জানিয়ে। জিল্লুর রহমান প্রায়ই বিমানে ঢাকায় যেতেন পদোন্নতির ব্যাপারে কথা বলতে। আর পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে ঘুষের টাকা কমিশনারকে জানিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন এ দুই কর্মকর্তা।

কর্মকর্তারা আরো জানান, কমিশনারের কার্যালয়ের হলরুমে মাঝেমধ্যে ‘ঘুষ তহবিল’ নিয়ে সভা হতো এবং এই বিষয়ে জিল্লুর রহমান কমিশনারকে জানাতেন। তাঁদের দাবি, পুলিশ কমিশনারের করা তদন্ত কমিটি যখন এ বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে যায়, তখনই কমিটির প্রধানকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বিষয়টি ধামাচাপা দিতে। আর নতুন কমিটি করেছেন কালক্ষেপণের জন্য।

এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পুনর্গঠিত কমিটির প্রধানকেও একই কারণে কিছুদিন পর অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। কারণ পদোন্নতির জন্য ‘ঘুষ তহবিল’ সংগ্রহের বিষয়ে বিএমপির সব উপকমিশনাররাই জানেন।

তদন্ত কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া বিএমপির উপকমিশনার (সদর) শোয়েব আহমেদ বলেন, কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে তিনি একটা চিঠি পেয়েছেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে আগে থেকেই তিনি বিষয়টি জানতেন বলে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে তিনি বলেন, তদন্ত প্রায় শেষপর্যায়ে ছিল। প্রতিবেদন দেওয়ার আগেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ওয়াজ কুরুনীজাতীয়
পদোন্নতির জন্য ঘুষ দিতে পুলিশ সদস্যদের 'তহবিল' গঠনের বিষয়টি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরীও জানতেন। নগর পুলিশ সূত্রে এমন তথ্য নিশ্চিত হলেও তিনি তা স্বীকার করেননি। আগে থেকেই জানতেন বলে এ ঘটনা তদন্তে নগর পুলিশের গঠিত কমিটির প্রধানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে কমিটির প্রধান বিএমপির...