1435949366

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) সদস্যদের পদোন্নতির জন্য ‘ঘুষের তহবিল’ সংগ্রহের বিষয়টি আগেই অবগত ছিলেন পুলিশ কমিশনার ও অপর শীর্ষ কর্মকর্তারা। তহবিল সংগ্রহের পর সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে টাকা পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বে ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) জিল্লুর রহমান। তাকে সাসপেন্ড করার পর তিনি ৫০ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে আত্মসমর্থনমূলক বক্তব্য দিয়ে তদন্ত কমিটির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তদন্ত কমিটি এবার পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরীকে প্রত্যাহার করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান পুলিশ সিকিউরিটি সেলের অতিরিক্ত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক আলমগীর আলম জানান, বিষয়টি আগে ভাগেই পুলিশ কমিশনারসহ শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা অবহিত ছিলেন। পুলিশ কমিশনার তদন্ত কর্মকর্তার চেয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হওয়ায় তিনি শুধু প্রত্যাহার করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছেন। তদন্তকালে যেসব বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর জানতে পেরেছে তাতে বিএমপিতে জনবল বৃদ্ধির অনুমোদন করানোই ছিলো এ ঘুষ বাণিজ্যের প্রধান লক্ষ্য। জনবল বৃদ্ধি হওয়ার সাথে সাথে ২৩০ পুলিশ সদস্যের পদোন্নতি নিশ্চিত বিষয় ছিলো। তাই জনবল বৃদ্ধির জন্য স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রনালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরকে ম্যানেজ করার দায়িত্ব দেয়া হয় উপ-পুলিশ কমিশনার জিল্লুর রহমানকে। অপর তিন উপ-পুলিশ কমিশনার ও খোদ পুলিশ কমিশনার বিষয়টি অবগত ছিলেন। এমনকি কোন দপ্তরে কাকে কত টাকা দেয়া হবে তা অবগত ছিলেন পুলিশ কমিশনার। এমন তথ্য পেয়েই সিকিউরিটি সেল পুলিশ সদর দপ্তরকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করেছে।

এদিকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকার কথা অস্বীকার করে পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী জানান, বিএমপি’র পক্ষ থেকে পুলিশ সদর দপ্তরের আগেই এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন বিষয়টি তিনি জানার সাথে সাথেই উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) সোয়েব আহমেদকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। ঐ তদন্ত কমিটির প্রধানের কাছে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড হওয়া উপ-পুলিশ কমিশনার জিল্লুর রহমান দু’টি হিসাব নম্বর থেকে ২৫ লাখ করে ৫০ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করেছেন। চেক দু’টি আগামীকাল রবিবার ডাচ বাংলা ব্যাংকের বরিশাল শাখায় পুলিশের ঘুষ বাণিজ্যের তহবিলের জন্য যে হিসাব নম্বর খোলা হয়েছিলো সেখানে জমা দেওয়া হবে। ঐ একাউন্টে আরো ১৭ লাখ টাকা রয়েছে।

এদিকে ডাচ বাংলা ব্যাংকে জমা হওয়া টাকা পুলিশ সদস্যদের ফেরত দেওয়ার জন্য উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আবু রায়হানকে আহবায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ঘুষ তহবিল গঠনের দায়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের তিন এএসআই, এক নায়েক ও ছয় কনস্টেবলকে ২৭ জুন সাসপেন্ড করা হয়। ১ জুন ঘটনার সাথে জড়িত উপ-পুলিশ কমিশনার জিল্লুর রহমানকে সাসপেন্ড করে সিলেট রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়।

তুনতুন হাসানপ্রথম পাতা
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) সদস্যদের পদোন্নতির জন্য ‘ঘুষের তহবিল’ সংগ্রহের বিষয়টি আগেই অবগত ছিলেন পুলিশ কমিশনার ও অপর শীর্ষ কর্মকর্তারা। তহবিল সংগ্রহের পর সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে টাকা পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বে ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) জিল্লুর রহমান। তাকে সাসপেন্ড করার পর তিনি ৫০ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে আত্মসমর্থনমূলক বক্তব্য দিয়ে...