1435863921

মামলার দীর্ঘসূত্রিতা ও অবৈধ দখলদারদের কারসাজিতে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের কোটি কোটি টাকার জমি বেহাত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। নগরীর প্রাণকেন্দ্র আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় সরকারি সিজিও ভবন সম্মুখস্থ মূল্যবান ১৬ কাঠা জমি দীর্ঘদিন ধরে বেদখল হয়ে আছে। ইতিমধ্যে এর ৮ কাঠায় দালান নির্মাণ করা হয়েছে। বাকি ৮ কাঠায় মসজিদ হেফজখানা করার পর এখন বহুতল ভবন নির্মাণ করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলে জানা যায়।

জানা যায়, স্বাধীনতার পূর্বে নিউ এ্যারো ট্রেডিং কোম্পানির নামে ৩৩ দশমিক ৭৮ কাঠা জমি ছিল। স্বাধীনতার পর অবাঙালির উক্ত সম্পত্তি সরকারি নির্দেশনায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে আসে। শিল্প মন্ত্রণালয় ১৯৯৫ সালে ওই জমি বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশনকে রেজিস্ট্রি মূলে হস্তান্তর করে।

বিএসইসি ২০০৫ সালে ওই জমি তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজকে ভোগদখল ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দেয়। সে সময় প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ ৩৩ দশমিক ৭৮ কাঠার মধ্যে মাত্র ১৭ দশমিক ৭৮ কাঠা দখল করতে পারে। বাকি ১৬ কাঠার মধ্যে ৮ কাঠায় জনৈক ব্যক্তি দালানসহ মার্কেট তৈরি করে এবং বাকি ৮ কাঠায় শাহ মজিদিয়া কমপ্লেক্স নামের একটি মসজিদ ও এতিমখানা গড়ে তোলে। প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালেই চট্টগ্রামের যুগ্ম জেলা জজ আদালতে উচ্ছেদ মামলা করা হয়। কিন্তু দখলদার পক্ষ বারবার সময় প্রার্থনার মাধ্যমে দীর্ঘসূত্রিতায় ফেলে ৮ কাঠায় দালান নির্মাণসহ মার্কেট গড়ে তোলে।

এদিকে সমপ্রতি বাকি ৮ কাঠায় স্থাপিত অস্থায়ী শাহ মজিদিয়া কমপ্লেক্স ভেঙ্গে বহুতল ভবন নির্মাণের তোড়জোড় শুরু করে। এ কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার জন্য স্থানীয় ডবলমুরিং থানায় ডায়েরি করা হয়। অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মিস মামলা দায়ের করে। এতে আদালত পক্ষদ্বয়ের মধ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ প্রদান করে। ডবলমুরিং থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং তফসিলভুক্ত সম্পত্তিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটে এরূপ কোন কাজ থেকে বিরত থাকাসহ সমুদয় কাগজপত্রসহ থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু বিবাদী পক্ষ থানায় হাজির হয়নি। বরং তারা অবৈধভাবে নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছে বলে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে বলা হয়। প্রগতি ২০০৫ সালের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুনরায় নিষেধাজ্ঞার জন্য যুগ্ম জেলা জজ আদালতে আবেদন করে। আদালত আগামী ৭ সেপ্টেম্বর মামলার শুনানির দিন ধার্য করে। কিন্তু এ সুযোগে বিবাদী পক্ষ পূর্বের ন্যায় জমিতে স্থাপনা নির্মাণ কাজ করবে এই আশংকা করে প্রগতির পক্ষ থেকে আদালতে মামলা করলে আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দখলে থাকা লোকজন অবকাঠামো নির্মাণের কাজ অব্যাহত রেখেছে। প্রগতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত জজকোর্ট উক্ত স্থানে স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়। তাছাড়া ইতিমধ্যে শোকজও করা হয়েছে। কিন্তু অবৈধ দখলদাররা তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাওয়া হলেও কাজ বন্ধের কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না বলে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল খায়ের সরদার ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান। তাছাড়া চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সিটি কর্পোরেশনকেও দখলকৃত জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে অবহিত করা হয়েছে। প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ার পরও সরকারের বিভিন্ন সংস্থা থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের ব্যাপারে সহযোগিতা তেমন একটা পাওয়া যাচ্ছে না বলে প্রগতির সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান।

এদিকে শাহ মজিদিয়া মসজিদ কমপ্লেক্সের সাধারণ সম্পাদক আহমদ হোসেন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, আমরা নিজেদের জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করছি। আদালত থেকে উক্ত জমির ওপর স্থিতিবস্থা দেয়া হয়েছে কিনা তার জানা নেই বলে তিনি জানান।

কংকা চৌধুরীশেষের পাতা
মামলার দীর্ঘসূত্রিতা ও অবৈধ দখলদারদের কারসাজিতে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের কোটি কোটি টাকার জমি বেহাত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। নগরীর প্রাণকেন্দ্র আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় সরকারি সিজিও ভবন সম্মুখস্থ মূল্যবান ১৬ কাঠা জমি দীর্ঘদিন ধরে বেদখল হয়ে আছে। ইতিমধ্যে এর ৮ কাঠায় দালান নির্মাণ করা হয়েছে। বাকি ৮ কাঠায় মসজিদ হেফজখানা করার পর...