বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ আগামী ১৮ জুন। গতকাল (সোমবার) বিশেষ আদালতে বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে শুনানি শেষে তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদার এ দিন ধার্য করেন। এদিকে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ বাতিলের জন্য করা আবেদন নামঞ্জুর করেছেন বিশেষ আদালত। এর আগে গত ৫ মে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এরপর আদালত ২৫ মে সাক্ষ্য-জেরার জন্য দিন ধার্য করেন। গতকাল ধার্যদিন অনুযায়ী হাজিরা দিতে বিশেষ জজ আদালতে উপস্থিত হন বেগম খালেদা জিয়া। আদালতে খালেদা জিয়া উপস্থিত হওয়ার আগেই শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। গতকাল সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত হন। আদালতে প্রবেশের আগেই সকালে মামলার বাদী দুদকের কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার সাক্ষ্য দেয়া শুরু করেন। এরপর খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে ৫ মে গ্রহণ করা সাক্ষ্যগ্রহণ পুনরায় শুরু করার আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। আবেদনের উপর শুনানি শেষে আদালত তা খারিজ করে দেন। পরে ১০টা ৫৫ মিনিটে খালেদা জিয়া এজলাস কক্ষে প্রবেশ করেন। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন মোশাররফ হোসেন কাজল। মামলার কার্যক্রম শুরুর পর আদালত খালেদা জিয়ার পক্ষে জেরা করার জন্য তার আইনজীবীদের বলেন। এসময় আইনজীবীরা বলেন, আমরা বার নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় জেরা করার জন্য প্রস্তুত নই। জেরা করার জন্য আমাদের সময় দেয়া হোক। অপর দিকে আমাদের একটি আবেদন রয়েছে, তা শুনার জন্য আদালতকে অনুরোধ করছি। খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, খালেদার অনুপস্থিতে যে সাক্ষী নেওয়া হয়েছে তা অবৈধ। এ ধরনের সাক্ষী আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয়। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতে বাদীর যে সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে তা বাতিল করে নতুন করে সাক্ষ্য নেওয়া হোক। এসময় দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, আদালত খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান জানিয়ে তার অনুপস্থিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেনি। আইনানুযায়ী মামলার বাদী যে সাক্ষ্য দিয়েছেন তা বৈধ। অপর আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী আদালতকে বলেন, আমরা সাক্ষী বাতিল চেয়ে যে আবেদনটি করেছি আপনি তা নামঞ্জুর করেছেন। আমরা এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব। তাই সাক্ষী মুলতবী রেখে সময় দেয়া হোক। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক আদেশে বলেন, সাক্ষ্য বাতিলের সুযোগ নেই। সময়ের আবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত থাকাটা যৌক্তিক। প্রস্তুতির জন্য সময় দেওয়া যেতে পারে। তবে হাইকোর্টে যাবেন, সেজন্য সময় দিতে পারব না। পরে ১৮ জুন মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করে দেন বিচারক। এদিকে শুনানি শেষে খন্দকার মাহবুব হোসেন সংবাদিকদের বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধি ৩৩৯-বি(২) অনুযায়ী আসামির উপস্থিতিতেই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ করতে হয়। যদি আসামি অনুপস্থিত থাকেন বা তাঁকে সময় দেওয়া হয় তাহলে সাক্ষ্যগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে তাঁকে সময় দেওয়া হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও নেই। তাই তাঁর অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ অবৈধ। এদিকে মোশাররফ হোসেন কাজল সাংবাদিকদের বলেন, আসামিপক্ষ যে আবেদন করেছে তা কোনো ফৌজদারি কার্যবিধিতে নেই। আসামিপক্ষ বারবার সময় আবেদন করেছে আদালত তাঁর (খালেদা জিয়া) প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সময় দিয়েছেন এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে মামলার কার্যক্রম সচল রেখেছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা : খালেদা জিয়ার আসার উপলক্ষে সকাল থেকেই আদালত ভবনের আশেপাশের এলাকা এবং সামনের মাঠে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। আশপাশের সড়কেও দেখা যায় পুলিশ ও র‌্যাবের উপস্থিতি। ১০টা ৫০ মিনিটে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনী সিএসএফ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে বিশেষ আদালতের কক্ষের সামনে পৌঁছেন খালেদা জিয়া। এর আগে আদালতে পৌঁছার আগে থেকেই বিএনপিপন্থী সিনিয়র আইনজীবীরা তাকে স্বাগত জানান। মামলার তারিখ নির্ধারণ হওয়ার পর দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে খালেদা জিয়া বাসার উদ্দেশ্যে আদালত ত্যাগ করেন। এ নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া চারবার বিশেষ আদালতে হাজিরা দিতে উপস্থিত হন।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/05/khaleda-jia.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/05/khaleda-jia-300x300.jpgশুভ সমরাটআইন-আদালত
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ আগামী ১৮ জুন। গতকাল (সোমবার) বিশেষ আদালতে বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে শুনানি শেষে তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদার এ দিন ধার্য করেন। এদিকে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ বাতিলের জন্য করা আবেদন...