0166-150x88
ভারি বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধায় ৭টি ইউনিয়নের প্রায় ৭০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তিস্তার পানি বুধবার দুপুর থেকে একটু একটু করে বাড়তে থাকে। বিকেল সাড়ে ৩টার দিক থেকে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে।

জানা গেছে, তিস্তাপাড়ের লোকজনের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভারত গজলডোবা ব্যারাজের অধিকাংশ গেট খুলে দেওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছেন।

প্রচণ্ড গতিতে পানি বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে। আরও কি পরিমাণ পানি আসবে তা ধারণা যাচ্ছে না। পানির গতি নিয়ন্ত্রণ করতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে তিস্তার পানিতে বহুল আলোচিত ছিটমহল আঙ্গোরপোতা-দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিঙ্গিমারী, সিন্দুনা, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের চর এলাকার প্রায় ৭০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনী গ্রামে বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। এ বাঁধ ভেঙ্গে গেলে তিস্তার পানি হাতীবান্ধা শহরে ঢুকে পডবে। ইতোমধ্যে চর এলাকাগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে গেছে। চর এলাকাগুলো থেকে খবর আসছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এখন পানিবন্দী পরিবারগুলোর মধ্যে কোনো খাবার বিতরণ করতে দেখা যায়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, তিস্তা নদীর পানির বর্তমান পরিমাপ হল ৫২ দশমিক ৭০ পয়েন্ট, যা বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, চর গড্ডিমারী গ্রামের বাসিন্দা কাসেম, শফিকুল, আবদেন, তাজেল, আইজুলের ঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তারা এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন।

চর গড্ডিমারী গ্রামের বাসিন্দা হোসেন আলী, হাসিনা, জয়নলসহ আরও অনেকে ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা পানিবন্দী হয়ে পড়েছি। এখন পর্যন্ত আমাদের কোনো ত্রাণ দেওয়া হয়নি। আমাদের বিশুদ্ধ পানি ও খাবার দরকার।

হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ফেরদৌস আহম্মেদ ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, এ উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নের প্রায় ৭০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তাদের সর্বক্ষণিক খোঁজ-খবর নিয়ে জেলা প্রশাসককে অবগত করা হচ্ছে। এ ছাড়া সাত ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ওই এলাকার খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।

গড্ডিমারী ইউয়িন পরিষদের চেয়ারম্যান জালার হোসেন বুলু ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের ১ থেকে ৬নং ওয়ার্ডের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তার মধ্যে ৩০০ বাড়ির অবস্থা খুবই খারাপ। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সাময়িকভাবে তাদের ৫০০ বস্তা দেওয়া হয়েছে।’

গড্ডিমারী ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য জাকির হোসেন বলেন, ‘আমার এলাকার অবস্থা খুবই খারাপ। আমি দুপুর থেকে আমার এলাকায় ঘুরছি ও তাদের খোঁজ-খবর নিচ্ছি।’

হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, বন্যাকবলিত এলাকার লোকজনকে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। এ ছাড়াও ভাঙ্গনরোধে ৫০০ বস্তা বালি ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ওয়াজ কুরুনীঅন্যান্য
ভারি বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধায় ৭টি ইউনিয়নের প্রায় ৭০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তিস্তার পানি বুধবার দুপুর থেকে একটু একটু করে বাড়তে থাকে। বিকেল সাড়ে ৩টার দিক থেকে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। জানা গেছে, তিস্তাপাড়ের...