1435688688

বঙ্গভঙ্গ রদের ‘ক্ষতিপূরণ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ‘শিক্ষাই আলো’ এমন স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু করা বিশ্ববিদ্যালয়টি এ দেশকে শুধু শিক্ষায় নয় স্বাধীনতা ও মুক্তির আলোতেও আলোকিত করেছে। স্বাধীন বাংলাদেশের একপ্রকার পথনির্দেশক ও অভিভাবকের জায়গাও অর্জন করেছে দেশের উচ্চশিক্ষার সবচেয়ে প্রাচীন শিক্ষায়তনটি। কালের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আজ বুধবার ৯৫ বছরে পা রাখছে। ‘উচ্চশিক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন’ স্লোগানকে প্রতিপাদ্য করে ৯৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার।

শুরুর সময় থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার সংখ্যায় ও কলেবরে বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ। বিশ্ববিখ্যাত পণ্ডিত-বিজ্ঞানী এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, এফ সি টার্নার, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, জি এইচ ল্যাংলি, হরিদাস ভট্টাচার্য, ডব্লিউ এ জেনকিন্স, রমেশচন্দ্র মজুমদার, স্যার এ এফ রহমান, নরেশ চন্দ্র সেনগুপ্ত, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, প্রফেসর আবদুর রাজ্জাকের মত বিজ্ঞজনরা শিক্ষকতা করেছেন। সত্যেন্দ্র নাথ বসু এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরিতে বসেই ‘বোস কণা’ আবিষ্কার করেছিলেন। দেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র।

১৯২১ সালের ১ জুলাই তিনটি অনুষদ ও ১২টি বিভাগে ৮৭৭ শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩৭ হাজার ৬৪ জন। অনুষদ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩টিতে, চালু রয়েছে ৮০টি বিভাগ। এছাড়া রয়েছে ১১টি ইনস্টিটিউট, ৫২টি গবেষণা ও ব্যুরো কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠাকালে শিক্ষক ছিলেন মাত্র ৬০ জন, এখন শিক্ষক সংখ্যা ১ হাজার ৯২৬। সূচনাকালে আবাসিক হল তিনটি থাকলেও এখন এর সংখ্যা ১৯টি আর হোস্টেল ৪টি।

দিবসটি উপলক্ষে এক বাণীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও জ্ঞানালোক সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের মহান ব্রত নিয়ে শতকের পথে এগিয়ে চলেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। দেশ ও জাতির প্রয়োজনে সবসময়ে পরিবর্তিত জীবনাদর্শ, বাস্তবতা, উদ্ভাবন ও বিবর্তন বিশ্লেষণ করে জাতিকে দিক-নির্দেশনা দেয় এই বিদ্যাপীঠের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এখানে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার অবারিত সুযোগ, মেধাচর্চার আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল তৈরিতে সবসময় আপন দায়িত্ব ও কর্তব্য নিষ্ঠার সাথে পালিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতিকে উদারনৈতিক উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত নতুন প্রজন্ম উপহার দিতে সদাসচেষ্ট।

আজ সকাল ১০টায় ৯৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনসংলগ্ন মল চত্বরে জাতীয় পতাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হলগুলোর পতাকা উত্তোলন এবং উদ্বোধনী সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে। উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. গওহর রিজভী। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে শোভাযাত্রা নিয়ে মল চত্বরে জমায়েত হবেন। সেখান থেকে সবাই শোভাযাত্রা নিয়ে টিএসসি যাবেন। বেলা ১১টায় টিএসসি মিলনায়তনে আলোচনা ও স্মৃতিচারণ পর্ব শুরু হবে।

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোতে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। সিনেট ভবন, প্রশাসনিক ভবন, কলা ভবন, টিএসসি, কার্জন হলের রঙ্গীন আলোকসজ্জা মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ‘উচ্চশিক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের বক্তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম খান।

এদিকে দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদ, বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও হল দিনব্যাপী নিজস্ব কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ‘দুর্লভ পাণ্ডুলিপি প্রদর্শনী’ চলবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে, সকাল ১০টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বায়োমেডিকেল ফিজিক্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগের উদ্ভাবিত চিকিত্সা প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি-গবেষণার প্রদর্শনী চলবে কার্জন হল ভবনের দক্ষিণ-পূর্ব বারান্দায়, বেলা ১১টা থেকে চারুকলা অনুষদে চলবে শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত চারুকলা অনুষদ গ্যালারিতে চলবে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল শিল্পকর্মের প্রদর্শনী। এছাড়া থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের আয়োজনে বিকাল ৪টায় নাট-মণ্ডল মিলনায়তনে বিশেষ বক্তৃতা ও বিকাল সাড়ে ৪টায় বাংলা নাটক ‘স্বদেশী নকশা’ প্রদর্শন করা হবে।

অর্ণব ভট্টশেষের পাতা
বঙ্গভঙ্গ রদের ‘ক্ষতিপূরণ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ‘শিক্ষাই আলো’ এমন স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু করা বিশ্ববিদ্যালয়টি এ দেশকে শুধু শিক্ষায় নয় স্বাধীনতা ও মুক্তির আলোতেও আলোকিত করেছে। স্বাধীন বাংলাদেশের একপ্রকার পথনির্দেশক ও অভিভাবকের জায়গাও অর্জন করেছে দেশের উচ্চশিক্ষার সবচেয়ে প্রাচীন শিক্ষায়তনটি। কালের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়...