1435593586

সারাদেশে বস্তিবাসী জনসংখ্যা প্রায় ২২ লাখ ৩২ হাজার ১১৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১১ লাখ ৪৩ হাজার ৯২৫ জন, মহিলা ১০ লাখ ৮৬ হাজার ৩৩৭ জন এবং হিজড়া ১ হাজার ৮৫২ জন।

বস্তির সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার ৯৪৩ টি। এক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনসমূহে প্রায় ৯১০৭ টি বস্তি রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে এ সংখ্যা প্রায় ৩৩৯৯টি।

বস্তিশুমারি ও ভাসমান লোকগণনা ২০১৪ এর ফলাফলে এ তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ভবনে এ প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

বস্তিতে আসার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ৫১ শতাংশ এসেছে কাজের সন্ধানে। দারিদ্র্যের কারণে এসেছে ২৯%, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ১%, ডিভোর্স ১%, নিরাপত্তাহীনতা ২% খানার বস্তিতে আসার কারণ বলে শুমারিতে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়।

বস্তিসমূহের সাক্ষরতার হার (৭+ বছর) ৩৩.২৬%। বরিশাল বিভাগে এর হার প্রায় ৪৯.০১% এবং ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে কম অর্থাৎ ৩০.১৩% যা এ শুমারির জাতীয় হারের চেয়ে প্রায় ৩% কম।

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কানিজ ফাতেমা, সভাপতিত্ব করেন বিবিএস মহাপরিচালক মোহাম্মদ আবদুল ওয়াজেদ, স্বাগত বক্তব্য দেন বিবিএস উপমহাপরিচালক মো. বাইতুল আমীন ভূঁইয়া বস্তিশুমারি ও ভাসমান লোকগণনা ২০১৪ এর ফলাফল উপস্থাপনা করেন কর্মসূচি পরিচালক জাফর আহাম্মদ খান।

এ সময় জানানো হয়, ১৯৮৫ সালে ঢাকা শহরে প্রথমবারের মতো বস্তিশুমারি অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৯৮৬ চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনাকে বস্তিশুমারি আওতায় আনা হয়। এরপর ১৯৯৭ সালে পূর্ণাঙ্গ বস্তিশুমারি করা হয়।

এবারের সুমারিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বস্তিসমূহে বাসস্থানের ধরন বা কাঠামোর মধ্যে কাঁচা বা টিন দিয়ে বাসস্থান রয়েছে প্রায় ৬৩%, আধাপাকা প্রায় ২৬%, ঝুপড়ি ৬%, পাকা ৪% এবং অন্যান্য ১%। এসব বাসস্থানের খাবার পানির প্রধান উৎস নলকূপ (৫০%) ও ট্যাপ (৪৫%) এবং স্যানিটারি (ওয়াটার সিল যুক্ত) পায়খানা রয়েছে প্রায় ২৬% খানায়, পিট পায়খানা সুবিধা রয়েছে ৪২% খানায় ও টিনের পায়খানা সুবিধা ২১% খানায়।

এ শুমারির মাধ্যমে বস্তির খানার সংখ্যা এবং লিঙ্গ ও বয়সভেদে বস্তিতে বসবাসরত লোকসংখ্যা নিরূপণ, বস্তিবাসীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উপর তথ্য সংগ্রহ, বস্তিতে আগমনের কারণ ও কোন জেলা থেকে কত লোক বস্তিতে এসেছে তা নিরূপণ করা হয়।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, বস্তিসমূহে ৮৯.৬৫% খানায় আলোর প্রধান উৎস হিসেবে বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া ৯.৭০% খানায় কেরোসিন, ০.৩৩% খানায় সৌরবিদ্যুৎ আলোর প্রধান উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

দেশের বস্তিসমূহের ৩৪.৫৫% খানায় রান্নার প্রধান জ্বালানী হিসেবে গ্যাস ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়াও ৩.২৩% খানায় কেরোসিন, ১.৩৪% খানায় বিদ্যুৎ, ৪৭.৮৭% খানায় কাঠ বা বাঁশ, ১১.০৪% খানায় খড়, পাতা, কাগজ এবং ১.৯৫% খানায় অন্যান্য জ্বালানী ব্যবহৃত হয়।

এ শুমারি ফলাফলে আরও দেখা যায় যে, প্রায় ৮৪% বস্তি খানার কোন কৃষি জমি নেই। বাকী প্রায় ১৫% খানার সামান্য কৃষি জমি আছে।
বস্তিতে প্রায় ৮৪% খানায় মোবাইল ফোন রয়েছে। ৫.৬৮% খানায় রিক্সা বা ভ্যান, ৪৭.৬৭% খানায় টেলিভিশন, ২.৫৮% খানায় রেডিও রয়েছে। ১৬.৮০% খানায় আয়ের প্রধান উৎস হচ্ছে রিক্সা বা ভ্যান চালনা, ১৪.৩৫% গার্মেন্টকর্মী, ৬.৯৪% পরিবহন শ্রমিক, ৮.৩৮% নির্মাণ শ্রমিক, ২.৮২% হোটেল শ্রমিক, ১৫.৭১% ব্যবসা, ১৪.৩৩% সেবা খাত বলে উল্লেখ করেন।

বস্তির ৮৬.৬৩% খানা কোন প্রকার সরকারি বা বেসরকারি সাহায্য বা অনুদান পায়নি। অবশিষ্ট ১৩.৩৭% খানা কোন না কোন প্রকারে সাহায্য বা অনুদান পেয়েছে।

সমগ্র দেশে মোট ১৬,৬২১ জন ভাসমান লোক পাওয়া গিয়েছে যাদের কোন স্থায়ী বাসস্থান নেই। এ সংখ্যা ঢাকা সিটি কর্পোরেশনসমূহে (উত্তর ও দক্ষিণ) সবচেয়ে বেশী যা প্রায় ৭,২৪৭ জন।

ওয়াজ কুরুনীশেষের পাতা
সারাদেশে বস্তিবাসী জনসংখ্যা প্রায় ২২ লাখ ৩২ হাজার ১১৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১১ লাখ ৪৩ হাজার ৯২৫ জন, মহিলা ১০ লাখ ৮৬ হাজার ৩৩৭ জন এবং হিজড়া ১ হাজার ৮৫২ জন। বস্তির সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার ৯৪৩ টি। এক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনসমূহে প্রায় ৯১০৭ টি বস্তি রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা...