1435519336
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এই কর্মচারীর ভবিষ্যতে পদোন্নতির কোন সম্ভাবনা নাই” সার্ভিস বুকে গ্লানিকর ও অপমানজনক এই লেখাগুলো থেকে মুক্তি পেতে চান জয়পুরহাটের এক নারী মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারা বেগম।

জয়পুরহাট পৌরসভার খনজনপুর মহল্লার বঙ্গবন্ধু পাড়ার আবুল কালামের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৬৪)। ১৯৬৯ সালের ১ অক্টোবর ভুটিয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য ভারতের কুরমাইল ক্যাম্প ও পরে চেঙ্গিসপুর ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী হিসেবে একটি লাল রংয়ের কার্ডও দেয়া হয়েছিল। দেশ স্বাধীন হবার পর আবার চাকরিতে যোগদান করেন। বঙ্গবন্ধুর ঘোষণায় প্রাথমিক স্কুলগুলো জাতীয়করণ হলে আনোয়ারা বেগম খনজনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি হয়ে আসেন। দায়িত্ব পালনের এক পর্যায়ে প্রমোশনের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করেন। তত্কালীন উপজেলা শিক্ষা অফিসার (লুত্ফর রহমান) ১৯৮৫ সালের ২৬ মে আনোয়ারা বেগমের সার্ভিস বুকে এই কথাগুলো লিখেন (১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এই কর্মচারীর ভবিষ্যতে পদোন্নতির কোন সম্ভাবনা নাই)। স্বাধীনতা অর্জনের ১৫ বছর পর একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অপমানজনক এই লেখার প্রতিবাদ করেও কোন ফল হয়নি বলে জানান আনোয়ারা বেগম। সার্ভিস বুকে ওই লেখাগুলোর কারণে প্রমোশন বন্ধ হয়ে যায়। ইনক্রিমেন্ট দেয়ার কথা বলে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের কার্ডটি জমা নেয়া হলেও পরে আর তা ফেরত দেয়া হয়নি। অনেক লেখালেখির বিনিময়ে দীর্ঘ ৩০ বছর পর ২০০১ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পান আনোয়ারা বেগম। কিন্তু সার্ভিস বুকের লেখাগুলো মুছে যায়নি। আনোয়ারা বেগম বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আমার অহংকার, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করা কি অপরাধ ছিল আমার! সার্ভিস বুকের সেই কলঙ্ককজনক লেখা থেকে আমি মুক্ত হতে চাই। ২০০৮ সালে চাকরি থেকে অবসর নিলেও সার্ভিস বুকের ওই লেখা খুবই অবমাননাকর বলে মনে করেন তিনি।

আনোয়ারা বেগম বলেন, মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি চাই না। কোন সুযোগ সুবিধাও চাই না। শুধু গ্লানি থেকে মুক্তি পেতে চাই। সে কারণে অপমানজনক ওই কথাগুলোকে বাতিল করার জন্য বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সরকারের নিকট আবেদন জানান তিনি। মুক্তিযোদ্ধা জেলা ইউনিট কমান্ডার আমজাদ হোসেন বলেন, লেখাটি মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করা হয়েছে। এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে সরকারের দেখা উচিত্।

তাহসিনা সুলতানাশেষের পাতা
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এই কর্মচারীর ভবিষ্যতে পদোন্নতির কোন সম্ভাবনা নাই” সার্ভিস বুকে গ্লানিকর ও অপমানজনক এই লেখাগুলো থেকে মুক্তি পেতে চান জয়পুরহাটের এক নারী মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারা বেগম। জয়পুরহাট পৌরসভার খনজনপুর মহল্লার বঙ্গবন্ধু পাড়ার আবুল কালামের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৬৪)। ১৯৬৯ সালের ১ অক্টোবর ভুটিয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক...