brtc-bus-photo_89447
সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) অব্যাহত লুটপাট, অনিয়মে বেহাল হয়ে পড়েছে। নিম্নমানের গাড়ি কেনা, বেসরকারি খাতে লিজ প্রদান এবং বাস অপারেশনে কয়েক বছর ধরে অনিয়ম-দুর্নীতিতে লোকসানে পড়েছে সংস্থাটি। অব্যবস্থাপনার কারণে বিআরটিসির এক-তৃতীয়াংশ নিম্নমানের বাস বিকল হয়ে ডিপোতে পড়ে আছে। বেসরকারি লিজের কারণে রাস্তায় যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে যাত্রীদের অসন্তোষ বেড়েই চলেছে। এসব প্রেক্ষাপটে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি একাধিকবার সংস্থাটির দুর্নীতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

একসময় বিআরটিসি বাস সার্ভিসের মাধ্যমে সারা দেশের যাত্রীরা নিরবচ্ছিন্ন সেবা পেত। বর্তমানে সেই যাত্রীসেবা তলানিতে পেঁৗছেছে। লিজের মাধ্যমে গাড়ি পরিচালনার কারণে বেসরকারি অপারেটরদের যাত্রী হয়রানি বেড়ে গেছে। এ ছাড়া বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাড়া খাটা বাস মিলিয়ে বিআরটিসির বিপুলসংখ্যক বাস এখন প্রত্যক্ষভাবে যাত্রীসেবায় নেই। এর মধ্যে গতকাল পর্যন্ত বিআরটিসির বহরে ১ হাজার ৫৩২টি বাসের মধ্যে রাস্তায় চলেছে ১ হাজার ৫৩টি। ৪৭৮টি বাস ডিপোবন্দী। লিজে চলছে ৯৫টি বাস। এ ছাড়া ঢাকা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ভাড়া খাটছে বিআরটিসির ১১৫টি বাস। সব মিলিয়ে যাত্রী পরিবহনে রাস্তায় বিআরটিসির বাসের সংখ্যা কমে এসেছে। বিআরটিসির লিজের বাস নিয়ে সংস্থাটি চাপের মুখে রয়েছে জানিয়ে বিআরটিসির একজন মহাব্যবস্থাপক বলেন, পর্যায়ক্রমে বিআরটিসির লিজের বাস বন্ধ করা হবে।

জানা গেছে, ২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সালে চীন ও কোরিয়া থেকে কেনা নিম্নমানের ৯৫৮টি বাসের অধিকাংশই এখন অচল হয়ে ডিপোবন্দী। এর আগে সুইডেন থেকে কেনা সোয়া কোটি টাকা দামের ৫০টি দ্বিতল ভলভো বাস ঢাকার রাস্তায় যাত্রীনির্ভরতার বড় সহায় হলেও অব্যবস্থাপনার কারণে সে বাসগুলো কয়েক বছর পরই বিকল হয়ে পড়ে। এগুলো মেরামতের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যক্তিগত তৎপরতায় ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও সে টাকা লুটপাট হয়েছে বলে অডিট অধিদফতরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। জানা গেছে, বিআরটিসির প্রধান কার্যালয়সহ সংস্থাটির ডিপোগুলোয় একশ্রেণির কর্মকর্তার মাধ্যমে লুটপাট, অনিয়ম হচ্ছে। বাস পরিচালনা, লিজ প্রদান, ভাড়া আদায়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ অনিয়ম করা হয়। এসব প্রেক্ষাপটে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ২৯ মার্চ বিয়াম মিলনায়তনের এক অনুষ্ঠানে বলেন, বিআরটিসিতে অনেক অনিয়ম, দুর্নীতি হচ্ছে। সব সময়ই বাসগুলো ময়লা, আবর্জনাপূর্ণ ও নোংরা থাকে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেন। বাসে ফ্যান থাকে না, লাইটও জ্বলে না। বাসগুলো লিজ দেওয়ার কারণে যে অনিয়ম হয় তা বন্ধ করতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেই সরকারি গণপরিবহন সংস্থাটিকে কার্যকর যাত্রীসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে নজর দেয়। এ সময় চীন ও কোরিয়ার ঋণের টাকায় তিন বছরে ডাবল ও সিঙ্গেল ডেকার, এসি ও নন এসি, আর্টিকুলেটেড মিলিয়ে ৯৫৮টি বাস কেনা হয়। কিন্তু চীন-কোরিয়ার নিম্নমানের বাসগুলোর অনেক এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। অব্যাহত লোকসানের কারণে বাকিগুলো চলছে বেসরকারি ইজারায়। ঋণের টাকায় কেনা বাসগুলোর একটি বড় অংশ বিকল হয়ে গ্যারেজবন্দী হলেও আগামী ৩০ বছর পর্যন্ত সরকারকে বাস কেনা বাবদ সুদসহ ঋণ পরিশোধ করতে হবে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ ঋণের দায় বিআরটিসিকে দীর্ঘ সময় ধরে ভোগান্তিতে রাখবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআরটিসির একজন উপ-মহাব্যবস্থাপক বললেন, ‘প্রতিষ্ঠানে ভাড়া দেওয়া বাসগুলো তো যাত্রীই পরিবহন করে। এসব যাত্রী কোনো না কোনো রুটে যাতায়াত করত। বাসগুলো গণপরিবহনে যুক্ত না থাকলেও আমরা যৌক্তিক ভাড়া পাচ্ছি। বাসের কন্ডিশনও ভালো থাকছে।’ তিনি বলেন, ‘লিজের বাস মেয়াদ শেষে বন্ধ করে দিয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালানো হবে।’

তাহসিনা সুলতানাশেষের পাতা
সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) অব্যাহত লুটপাট, অনিয়মে বেহাল হয়ে পড়েছে। নিম্নমানের গাড়ি কেনা, বেসরকারি খাতে লিজ প্রদান এবং বাস অপারেশনে কয়েক বছর ধরে অনিয়ম-দুর্নীতিতে লোকসানে পড়েছে সংস্থাটি। অব্যবস্থাপনার কারণে বিআরটিসির এক-তৃতীয়াংশ নিম্নমানের বাস বিকল হয়ে ডিপোতে পড়ে আছে। বেসরকারি লিজের কারণে রাস্তায় যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া...