1435171861
যাত্রীদের নিরাপত্তা জোরদার ও নজরদারি বৃদ্ধিতে ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটের প্রতিটি লঞ্চে ক্লোজ সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ও ক্যামেরা স্থাপনের জন্য গত জানুয়ারি মাসে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। অদ্যাবধি তা কার্যকর হয়নি। ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে ছয়টি মাস। আসন্ন ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের জিনিসপত্র হারানোসহ আবারো বিপদে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অজ্ঞান পার্টিসহ বিভিন্ন অপরাধীর তত্পরতা ঠেকাতে লঞ্চ মালিকরা কোনো উদ্যোগ নেননি। এমনকি আনসার বা কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পরিবহন চলছে লঞ্চগুলোতে।

নদীবেষ্টিত এ অঞ্চলের লাখ লাখ যাত্রীকে এরই ওপর ভরসা করে লঞ্চগুলোতে যাতায়াত করতে হয়। ঈদ ও কোরবানির সময় যাত্রীদের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তখন অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টিসহ সংঘবদ্ধ চুরি ও ছিনতাইয়ের সাথে জড়িতরা তত্পর হয়ে ওঠে। ঈদ-কোরবানির পূর্বে প্রতিদিন গড়ে লঞ্চগুলোতে ১০/১২ জন যাত্রী অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে সব হারায়। এরা অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে হাসপাতালেও ভর্তি হয়। কিন্তু অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা ধরে পড়ে না। এ ছাড়াও এ সব লঞ্চের কেবিনে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার মতো বড় অপরাধের নজির রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসজুড়েই একাধিক লঞ্চে নাশকতার ঘটনা ঘটে। ‘সুরভী-৭’ লঞ্চ যাত্রী নিয়ে বরিশাল নৌ-বন্দর ত্যাগ করার পর লঞ্চে বোমা থাকার কথা উল্লেখ করে তা বিস্ফোরণে যাত্রীদের হত্যার হুমকি দিয়ে লঞ্চ মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠায় দুর্বৃত্তরা। লঞ্চ মালিক ও লঞ্চের যাত্রী এবং তাদের স্বজনদের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসন চরম উত্কণ্ঠায় পড়েন। বোমা হামলা না হলেও ঐ লঞ্চে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। নৌ-বন্দরে নোঙ্গর করা ডাবল ডেকার ও একতলা লঞ্চেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব অপরাধের সাথে যুক্ত কাউকে আটক করা যায়নি।

২১ জানুয়ারি ঢাকার উদ্দেশে বরিশাল লঞ্চঘাট ত্যাগ করার সময় যাত্রীবাহী ‘এমভি সুন্দরবন-৭’ ও ‘এমভি পারাবাত-২’ লঞ্চের চারটি প্রথম শ্রেণির কেবিনে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। ওইদিন সন্ধ্যায় যাত্রীদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও লঞ্চে ওঠা যাত্রীদের ওপরে নজরদারি বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বরিশাল বন্দর বিভাগ জরুরি সভার আয়োজন করে। সভায় ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী প্রত্যেকটি লঞ্চের সামনে, প্রথম শ্রেণির কেবিন এলাকায়, প্রতিটি ডেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিসিটিভি-ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। একই সাথে লঞ্চের কেবিনে যাতায়াতকারী যাত্রীদের নাম-ঠিকানা লিপিবদ্ধ করে রাখার জন্য লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু লঞ্চ মালিকরা নৌ-বন্দর ত্যাগ করার পূর্বে কেবিনের চাবি যাত্রীদের বুঝিয়ে দেয়ার পরিবর্তে লঞ্চ ছাড়ার পর যাত্রীদের হাতে কেবিনের চাবি দেয়া ছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে আর কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেনি।

ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে ১৮টি বিলাসবহুল লঞ্চ চলাচল করে। প্রতিদিন কমপক্ষে ২০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করে। ঈদে যাত্রীর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রতিদিন এক লাখ। এই বিপুলসংখ্যক যাত্রীর নিরাপত্তা দেয়ার জন্য প্রতি লঞ্চে ৪ থেকে ৬ জন করে আনসার থাকার কথা থাকলেও অধিকাংশ লঞ্চে আনসার বা নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী নেই।

ক্রিসেন্ট নেভিগেশনের পরিচালক ‘সুরভী’ লঞ্চের স্বত্বাধিকারী রেজীন-উল-কবির জানান, লঞ্চের সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের প্রধান সমস্যা বিদ্যুত্ ও দক্ষ অপারেটর। লঞ্চে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুত্ দিয়ে বিজলি বাতি ও টেলিভিশন চালু রাখা হয়। ওই বিদ্যুত্ দিয়ে কম্পিউটার চালু রাখা যায় না। জেনারেটরের বিদ্যুত্ ভোল্টেজ ওঠা-নামা করায় সিসিটিভি-ক্যামেরার সাথে কম্পিউটারও নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া পুরো লঞ্চে সিসিটিভি-ক্যামেরা চালু করতে কোটি টাকা দরকার। সুন্দরবন নেভিগেশনের চেয়ারম্যান ও যাত্রীবাহী লঞ্চ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি সাইদুর রমান রিন্টু জানান, তখন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার বিরোধী আন্দোলনের নামে লঞ্চসহ বিভিন্ন যানবাহনে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করায় ঐ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে তা বাধ্যতামূলক নয়। তবে লঞ্চ মালিক ও যাত্রীদের স্বার্থে লঞ্চে সিসিটিভি-ক্যামেরা স্থাপন করা দরকার বলে তিনি মনে করেন। তিনি জানান, লঞ্চ মালিকরাই জান-মালের নিরাপত্তার স্বার্থে সিসিটিভি-ক্যামেরা বসাতে আগ্রহী। স্বল্প সময়ে এত টাকা ব্যয় করে কেউ বসাতে পারেনি। আগ্রহ রয়েছে, লঞ্চে সিসিটিভি-ক্যামেরা বসবে। এ জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আবুল বাশার মজুমদার জানান, প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিসিটিভি-ক্যামেরা স্থাপনের জন্য নির্দেশ দেয়া হলেও গত ছয় মাসে তা কেউ বাস্তবায়ন করেনি। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে লঞ্চে সিসিটিভি-ক্যামেরা স্থাপনের জন্য পুনরায় নির্দেশনা দেওয়া হবে। তিনি জানান ঈদের যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য টার্মিনালে ২৪ ঘণ্টা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক থাকবেন। পাশাপাশি তাদের সাথে বিআইডব্লিউটিএ’র বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্কাউট, রোভার স্কাউট, গার্লস গাইড ও বিএনসিসির সদস্যরা নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করবেন।

তাহসিনা সুলতানাপ্রথম পাতা
যাত্রীদের নিরাপত্তা জোরদার ও নজরদারি বৃদ্ধিতে ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটের প্রতিটি লঞ্চে ক্লোজ সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ও ক্যামেরা স্থাপনের জন্য গত জানুয়ারি মাসে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। অদ্যাবধি তা কার্যকর হয়নি। ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে ছয়টি মাস। আসন্ন ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের জিনিসপত্র হারানোসহ আবারো বিপদে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অজ্ঞান পার্টিসহ বিভিন্ন অপরাধীর...