kamrangirchar nobabgonj section shonglogno khal  ---- 02_4556
অন্তহীন সমস্যায় জর্জরিত রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দারা। ন্যূনতম নাগরিক সেবাও পাচ্ছেন না তারা। তিন বছর আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত হলেও এখনও সংস্থার কাঠামোভুক্ত হয়নি এই এলাকা। ওয়ার্ড পর্যায়ের নাগরিক সেবা প্রদানের জনবল নিয়োগ দেয়া হয়নি। প্রায় ১০ লাখ লোকের এ এলাকাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫৫, ৫৬ ও ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
সম্প্রতি কামরাঙ্গীরচরে সরেজমিন ঘুরে ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তাদের দুঃখ দুর্দশার কথা। এলাকাবাসীর মতে এলাকার প্রধান সমস্যা ভাঙ্গাচোরা সড়ক, আবর্জনার অব্যবস্থাপনা, নদী-খাল দখল, অপরিকল্পিত নগরায়ন, সড়কে বাতি না থাকা, মশার উপদ্রব, এখনও গড়ে তোলা হয়নি পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের আংশিক এবং পুরো ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকাজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট। এলাকাবাসী নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের কাছে এসব সমস্যার সমাধান চান।
সত্তর ভাগ সড়কই ভাঙ্গাচোরা : কামরাঙ্গীরচর থানার তিন ওয়ার্ডে সড়কের পরিমাণ প্রায় ৩০ কিলোমিটার। এর ৭০ ভাগ সড়কই ভাঙ্গাচোরা। সড়কগুলোর পিচ ও খোয়া উঠে বেরিয়ে এসেছে মাটি। বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায় এসব সড়ক। রিকশা, ভ্যান, সিএনজি উল্টে দুর্ঘটনা নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাজারীবাগ বেড়িবাঁধ বাসস্ট্যান্ড থেকে ঝাউচর বাজার পর্যন্ত সড়কটি ভেঙ্গেচুরে একাকার। সড়কের ঝাউচর বাজার অংশ দখল করে গড়ে উঠেছে শতাধিক দোকান। মাছ, সবজি, মুদি মালামাল বিক্রি হচ্ছে এসব দোকানে। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এ বাজার বসানো হয়েছে। তারা এসব দোকান থেকে দৈনিক ২০০-৩০০ টাকা চাঁদা তোলেন। এ বাজারের মাছ ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, কোনো উপায় না থাকায় এখানে বসতে হচ্ছে। প্রতিদিন যা রোজগার করি তার অর্ধেকই চলে যায় চাঁদায়।
সরেজমিনে আরও দেখা গেছে, হুজুরপাড়া, মুন্সিবাড়ি, রনি মার্কেট, মুজিবর ঘাট, কলেজ রোড, রহমতবাগ, রসুলবাগ এলাকার প্রধান সড়ক ও অলিগলির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।
হুজুরপাড়ার বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক সাদিকুর রহমান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থাকাকালে সড়কগুলোর যে চিত্র ছিল, সিটি কর্পোরেশনভুক্ত হওয়ার পর অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। সড়ক এতই নাজুক যে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছি না আমরা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বাকের হোসেন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, কামরাঙ্গীরচর সিটি কর্পোরেশনের নতুন এলাকা। সব কিছু নতুন করে করতে হচ্ছে। সড়কের সমস্যার কথা আমাদের জানা আছে। কিছু সড়কে সংস্কার চলছে পর্যায়ক্রমে সব সড়কের সমস্যার সমাধান করা হবে।
আবর্জনায় অতিষ্ঠ মানুষ : কামরাঙ্গীরচর লোহার ব্রিজ থেকে বিদ্যুৎ স্টেশন পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা খালের দু’পাশ ঘুরে দেখা গেছে, দু’পাশ থেকে যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে আবর্জনা। অনেকে যেমন বাড়ির আবর্জনা ফেলছে বুড়িগঙ্গা খালে। তেমনি বিভিন্ন সমিতির মাধ্যমে সংগ্রহ করা ময়লাও ফেলা হচ্ছে বুড়িগঙ্গা খালে। স্বল্পপরিসরে সিটি কর্পোরেশন যে আবর্জনা সংগ্রহ করছে তা ল্যান্ডফিলে না নিয়ে ‘সিটি কর্পোরেশন’ লেখা গাড়িতে করেই ফেলছে বুড়িগঙ্গা খালে।
খালের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা গেছে, আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাচ্ছে খালটি। অনেকে আবর্জনায় ভরাট জায়গা দখল করে দোকানপাট গড়ে তুলছে। খালের প্রায় দুই কিলোমিটার পাড়ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে গড়ে উঠেছে দুই শতাধিক টংঘর ও দোকানপাট। এসব অবৈধ স্থাপনা থেকে ভাড়াবাণিজ্য করছেন স্থানীয় মাস্তানরা।
কোম্পানিঘাটের বাসিন্দা মো. শাফায়েত হোসেন বলেন, বুড়িগঙ্গাখালের আবর্জনার দুর্গন্ধের কারণে এলাকায় বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সিটি কর্পোরেশনের এসব নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব থাকলেও সংস্থাটি এ ব্যাপারে উদাসীন।
দেখা গেছে, মাতবর বাজার এলাকার প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে আবর্জনা। হাজারীবাগ বাসস্ট্যান্ডের ঢালে সিটি কর্পোরেশনের গাড়িতে করে আবর্জনা সংগ্রহ করে ফেলা হচ্ছে। ফলে ওই এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক-শ্রমিক ও বসবাসকারীদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
হাজারীবাগ বাসস্ট্যান্ডের দোকানদার মো. আলামিন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে এখানে ময়লা ফেলছে সিটি কর্পোরেশন। ময়লার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ আমরা। দোকানে ক্রেতা কমে গেছে। গাড়ি থেকে নেমে লোকজন নাক চেপে ধরে দ্রুত এ এলাকা ত্যাগ করেন।
হাজারীবাগ বেড়িবাঁধের ঢালে ময়লা ফেলেন ওই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ময়লা সংগ্রাহক বিল্লাল হোসেন। তিনি ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, ময়লা ফেলার আর কোনো জায়গা না থাকায় এ জায়গায় ময়লা ফেলা হচ্ছে; বিষয়টি সিটি কর্পোরেশনের সবার জানা। ময়লা আবর্জনার বেহাল চিত্র লক্ষ্য করা গেছে, আবু সাঈদের বাজার, রনি মার্কেট, হুজুরপাড়া, খোলামোড়া এলাকার সড়ক ও অলিগলিগুলো। আবর্জনা ফেলার ক্ষেত্রে বসবাসকারীদেরও সচেতনতার অভাব লক্ষ্য করা গেছে। ম্যাটাডোর শিল্পপার্ক সংলগ্ন কামরাঙ্গীরচর অংশের কয়েকটি গলি ঘুরে দেখা গেছে, দোতলা-তিনতলা বাসা থেকে নিচে খালি জায়গায় আবর্জনা ছুড়ে ফেলছেন গৃহিণীরা।
দখল হচ্ছে নদী-খাল : কামরাঙ্গীরচর ঝাউচর বাজার রোড এলাকার নদীর পাড় গিয়ে দেখা গেছে, নদীর বিশাল এলাকায় বাঁশপুতে টিনশেডের ঘর তৈরির কাজ চলছে।
নির্মাণ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নদী সংলগ্ন জমিটি জনৈক সাগরের। শ্রমিকরা মালিককে চিনেন না। এক সর্দারের মাধ্যমে তারা কাজ করছেন। সর্দার মমিনুল হক ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘সাগর সাহেব যেভাবে কাজ করতে বলেছেন আমরা সেভাবে কাজ করছি। এখানে আমাদের ব্যক্তিগত কোনো ব্যাপার নেই।’
বুড়িগঙ্গা নদী সংলগ্ন ঝাউচর বাজারের রোডের ৬৯ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা আবদুল করিম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, জোর যার মুল্লুক তার। প্রবহমান নদী দখল করে ঘর তৈরি করছেন। কেউ কোনো বাধা দিচ্ছে না। সবাই ভয় পাচ্ছে; কিছু বললে তার ক্ষতি হতে পারে।
বুড়িগঙ্গা খালের বেড়িবাঁধ ও কামরাঙ্গীরচর অংশের দু’পাড়ে রীতিমতো দখলের মহোৎসব চলছে। খাল ভরাট করে গড়ে উঠেছে ট্রাকস্ট্যান্ড। জাল কাগজপত্র করে অনেকে খালের জায়গা ভরাট শুরু করেছেন। জায়গা দখল করে মসজিদ, দোকানপাট, বসতবাড়ি, সমিতির অফিস, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয়, ক্লাব গড়ে তোলা হয়েছে। ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বছরে দু’একবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও এসব দখল ক্রমে বেড়েই চলেছে।
অপরিকল্পিত নগরায়ণ : রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) তথ্য মতে, কামরাঙ্গীরচর একটি আবাসিক এলাকা। কিন্তু যার যেখানে ইচ্ছে ফ্যাক্টরি, কলকারখানা গড়ে তুলছেন। এমনও আছে একই বাড়িতে আবাসিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে। পলিথিনের উৎপাদন ও বাজারজাত নিষিদ্ধ হলেও কামরাঙ্গীরচরের অলিগলিতে যত্রতত্র পলিথিন তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে।
কামরাঙ্গীরচর উন্নয়ন আন্দোলন কর্মী ইলিয়াস আহমেদ বাবুল ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ৪০ বছরে এই এলাকার শুধুই অধঃপতন দেখলাম। বেশির ভাগ জলাধার দখল-ভরাট হয়ে গেছে। সরকারি খাসজমিগুলো বিভিন্ন সময়ে প্রভাবশালী মহল জাল দলিল করে বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন এলাকার শিশু-কিশোররা খেলাধুলার জায়গা পায় না। বাসিন্দাদের দুর্ভোগের অন্ত নেই। তিনি বলেন, এখনও এই এলাকার যেটুকু খালি জায়গা, জলাধার রয়েছে এগুলো বাঁচাতে না পারলে এলাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। এজন্য নবনির্বাচিত কাউন্সিলরদের উদ্যোগ নিতে হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন কামরাঙ্গীরচর এলাকার ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন বন্ধ রেখেছিল রাজউক। আর এই সময়ে গড়ে উঠেছে শত শত ভবন। এসব ভবন নির্মাণের সময় যথাযথ মান মেইনটেইন করা হয়নি। ফলে যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে এসব ভবন ভেঙে প্রাণহানি ঘটার শংকা রয়েছে। তিন বছরে কামরাঙ্গীরচরে একাধিক ভবন ধসের ঘটনা ঘটেছে।
রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, কামরাঙ্গীরচর আবাসিক এলাকা হলেও ওই এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ছড়াছড়ি। রয়েছে অনেক অবৈধ ভবন। এসব এখন নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে। অবৈধ ভবনের ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
রাজউক অঞ্চল-৫ এর পরিচালক শাহ আলম চৌধুরী ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, কামরাঙ্গীরচরের সমস্যার শেষ নেই। নিয়মবহির্ভূত অনেক কিছু হয়েছে ওই এলাকায়। এখন আমরা এটাকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি। নকশা অনুমোদনবহির্ভূত ভবনগুলোর ব্যাপারে রাজউকের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সিদ্ধান্তের আলোকে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কোনো সড়কে বাতি নেই : সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম একটি সেবা ‘সড়ক বাতি’। রাতে চলাচল নির্বিঘ্ন ও দুর্ঘটনা এড়াতে এই সেবা দেয়া হয়। কামরাঙ্গীরচর তিন বছরেও এ সেবা পায়নি।
খোলামোড়ার বাসিন্দা ইব্রাহীম খলিল পলাশ বলেন, রাতে চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে মানুষ। ছিনতাই, ইভটিজিং-এর ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-৩ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, আমার টাকা ও জনবল সংকট চলছে। এই কারণে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও কামরাঙ্গীরচরে সড়কে বাতি লাগানো সম্ভব হয়নি। তবে এখন আমরা মেয়র মহোদয়কে ওই এলাকার সমস্যার কথাগুলো জানাব।
মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী : কামরাঙ্গীরচর এলাকায় অনেক ডোবানালা রয়েছে। গত তিন বছরে একবারও পরিষ্কার করেনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। এসব ডোবানালা ময়লা-আবর্জনায় ভর্তি। মশা-মাছির প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে এসব। ফলে কামরাঙ্গীরচর এলাকার বাসিন্দারা মশা-মাছির উপদ্রবে অতিষ্ঠ।
সিটি কর্পোরেশনের নিয়মানুযায়ী, এলাকার ডোবানালাগুলোয় লার্ভা নিধনে ওষুধ ছিটানোর কথা। কিন্তু এসব কার্যক্রম শুরুই করেনি সিটি কর্পোরেশন। ফলে এই এলাকার বাসিন্দারা মশার কামড়ে অতিষ্ঠ।
আরও যত সমস্যা : ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের আংশিক এবং ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে কয়েক বছর ধরে। এলাকার জনপ্রতিনিধিদের কাছে এ ব্যাপারে অভিযোগ করে কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না তারা। এই কারণে হতাশ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।
রহমতবাগের গৃহবধূ আমেনা খাতুন বলেন, আমরা গ্যাস বিল দিলেও রান্নার জন্য গ্যাস পাই না। আমরা এ সমস্যার সমাধান চাই। কাউন্সিলররা সিটি নির্বাচনের আগে অঙ্গীকার করেছিল সংকটের সমাধান করবেন। আমরা তাদের দিকে চেয়ে আছি। কামরাঙ্গীরচরে এখন পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। এখনও ঢাকা ওয়াসার সাপ্লাই পানি পান না ওই এলাকার বাসিন্দারা। নলকূপ বসিয়ে তারা পানির চাহিদা মেটান।
কাউন্সিলররা যা বললেন : ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী মো. নুরে আলম বলেন, ওয়ার্ডে অনেক সমস্যা রয়েছে সত্য। আমি নতুন কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছি। সিটি কর্পোরেশনের সহায়তা নিয়ে এসব সমস্যার সমাধানে কাজ করব।
৫৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন বলেন, আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা, রাজনীতির হাতে খড়ি সবই এখানে। এলাকাবাসী আমাকে কাউন্সিলর নির্বাচিত করে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। আমি প্রত্যাশার বাস্তবায়ন করতে চাই। এলাকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত। পর্যায়ক্রমে মেয়র এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধান করব। এ এলাকাকে আমি বাসযোগ্য এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে চেষ্টা করব।
৫৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। এখন এলাকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব।

তুনতুন হাসানশেষের পাতা
অন্তহীন সমস্যায় জর্জরিত রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দারা। ন্যূনতম নাগরিক সেবাও পাচ্ছেন না তারা। তিন বছর আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত হলেও এখনও সংস্থার কাঠামোভুক্ত হয়নি এই এলাকা। ওয়ার্ড পর্যায়ের নাগরিক সেবা প্রদানের জনবল নিয়োগ দেয়া হয়নি। প্রায় ১০ লাখ লোকের এ এলাকাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫৫, ৫৬ ও...