5221f76b49d70-rape
রাজধানীর মিরপুরে সিটি কলেজের অনার্সের ছাত্রীকে ধর্ষণ করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার ওই ছাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে তিন যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে মিরপুর থানা পুলিশ। ধর্ষিত ছাত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর বাসা বাড্ডার কবরস্থান রোড এলাকায়। সে সিটি কলেজের অনার্স প্রথমবর্ষের ছাত্রী। সে শেওড়া পাড়ার বকুল কম্পিউটার সেন্টারে কম্পিউটার কোচিং করত। প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালেও কোচিং করতে যায়। সেখান থেকে তার পূর্বপরিচিত শুভ নামে এক যুবক তাকে একটি বাসায় নিয়ে যায়। শুভ ওই ছাত্রীকে বাসায় রেখে বাইরে চলে যায়। এ সময় শাওন, রকি ও সোহেল নামে তিন যুবক বাসায় প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে শাওন ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং রকি মোবাইলে ভিডিও করে। এ সময় সোহেল মোবাইলে ছাত্রীর বেশ কিছু নগ্ন ছবি তোলে। তারা ছাত্রীকে এ ঘটনা কারও কাছে প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দেয় এবং ব্ল্যাকমেইলিং করে মোবাইলে বিকাশ করে ১০ হাজার টাকা চায়।
মেয়েটির বরাত দিয়ে মিরপুর থানা পুলিশ জানায়, ভিকটিম ছাত্রী কম্পিউটার শেখার জন্য শেওড়া পাড়ার বকুল কম্পিউটার সেন্টারে যায়। সেখানে শুভ নামে এক যুবক তাকে বলে যে স্যার আজ আসবেন না। বাসায় যেতে বলেছে। এই বলে শুভ তাকে শেওড়া পাড়ার একটি বাসায় নিয়ে যায়। মেয়েটি ওই বাসায় গিয়ে দেখে সেটা স্যারের বাসা নয়। সে বেরিয়ে আসতে চাইলে শাওন চুলের মুঠি ধরে ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে উলঙ্গ করে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনা ভিডিও করে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ছাত্র ও শাওনের বন্ধু ওয়াহিদুর রহমান রকি। যে বাসায় ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে ওই বাড়ির মালিকের শ্যালক নেওয়াজ শরীফ ও শাওনের অপর বন্ধু সোহেল তাদের শেল্টার দেয়। তারা ছাত্রীর কাছ থেকে নগদ আড়াই হাজার টাকা ও ল্যাপটপ ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। এছাড়া রকি ও সোহেল ওই ছাত্রীকে একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে বলে দ্রুত এ নম্বরে ১০ হাজার টাকা বিকাশ করতে। নইলে তার ভিডিও অনলাইনে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়।
মিরপুর থানার এসআই কামাল হোসেন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়াজ শরিফ, সোহেল ও ওয়াহিদুর রহমান রকিকে আটক করা হয়েছে। রকি ঘটনার ভিডিও করার কথা স্বীকার করেছে। এই তিন যুবক ছাত্র ও চাকরিজীবী হলেও তারা মূলত বখাটে বলে জানান এসআই কামাল। তিনি আরও বলেন, ছাত্রীটি যে বাসায় ধর্ষিত হয়েছে সেই বাসার গৃহকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সে জানিয়েছে, শাওনের সঙ্গে ওই ছাত্রীর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। ওই ছাত্রী প্রায়শই ওই বাসায় আসা-যাওয়া করত। মাঝে মাঝে দুপুরে রান্নাও করত। তবে ছাত্রী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এসআই কামাল হোসেন আরও জানান, মূল অভিযুক্ত সাব্বির আহমেদ শাওন একটি বেসরকারি টেলিভিশনে চাকরি করে। তার বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপায়। কিছু দিন আগে সে তার আপন ভাতিজীকে ধর্ষণ করেছিল বলে জানা গেছে। ওই ঘটনায় ভিকটিম এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া শনিবার যে ছাত্রী ধর্ষিত হয়েছে তাকেও ওসিসিতে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে ওই বেসরকারি টেলিভিশনে যোগাযোগ করলে তারা জানান, শাব্বির আহমেদ শাওনকে নানা অপকর্মের অভিযোগে ২ মাস আগে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। সে বিবাহিত ছিল। বছর খানেক আগে তার স্ত্রীর সঙ্গেও ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। বর্তমানে তার সঙ্গে ওই টেলিভিশন স্টেশনের কোনো সম্পর্ক নেই। মিরপুর থানার ওসি সালাহ উদ্দিন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, সকালে মেয়েটি নিজেই থানায় হাজির ধর্ষিত হওয়ার কথা পুলিকে জানায়। ছাত্রীর বর্ণনা শুনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় সাব্বির আহমেদ শাওনকে খোঁজা হচ্ছে। রাত সাড়ে ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি।

তুনতুন হাসানপ্রথম পাতা
রাজধানীর মিরপুরে সিটি কলেজের অনার্সের ছাত্রীকে ধর্ষণ করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার ওই ছাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে তিন যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে মিরপুর থানা পুলিশ। ধর্ষিত ছাত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর...