Oporadher Dairy Theke
অন্ধকার জীবন ছেড়ে আলোর পথে আসতে চান ছিটমহলের বাসিন্দরা। বদলাতে চান জীবনযাপনের রুটিন। বাংলাদেশের অন্য বাসিন্দাদের মতোই জীবনযাপন করতে চান তারা।

বাংলাদেশের ঠিকানা পাওয়ার আগে ছিটমহলের বাসিন্দরা অন্ধকারের বাসিন্দা ছিলেন। মদ-গাঁজা ছিল তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। ছিটমহলের বাসিন্দারা মাদক ব্যবসা, গরু পাচার, চিনি-মসলা চোরাচালান ও নারী-শিশু পাচারকে পেশা হিসেবেই বিবেচনা করতেন। এ ছাড়া বড় বড় সন্ত্রাসীদের শেল্টার দেওয়া, দুর্ধর্ষ আসামিদের অবস্থান করতে দেওয়া, গাঁজা চাষ, পতিতাবৃত্তি ছিল অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। ছিটমহলের বিভিন্ন হাট-বাজারে পণ্যের সঙ্গে বেচাকেনা হতো ফেনসিডিল, গাঁজাসহ বিভিন্ন মদক দ্রব্য। অনেক ছিটমহলে সপ্তাহে দুই দিন ফেনসিডিলের হাটও বসত। ছিটমহলগুলো অনেকটাই অপরাধীদের অভয়াশ্রম ছিল। দুদেশের সন্ত্রাসীরা বিপদে পড়লেই নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ছিটমহল এলাকাকে বেছে নিত। আইন প্রয়োগের দুর্বলতার কারণে ভয়ে ছিটমহলের স্থায়ী বাসিন্দারাও কোনো কিছুতে প্রতিবাদ করার সাহস দেখাতেন না। সরেজমিন অনুসন্ধান চালিয়ে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ধারণা পাওয়া গেছে, এখন তারা বাংলাদেশের ঠিকানা পাওয়ার পর সব অন্ধকারের পথ ছাড়তে চান। নতুন জীবনে দাঁড়াতে চান তারা। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা সদরের অভ্যন্তরে ভারতীয় ছিটমহল দাসিয়ারছড়া। যার বর্তমান ঠিকানা বাংলাদেশ। এই ছিটেও ব্যাপক হারে গাঁজার চাষ হয়। এই ছিটমহলের পশ্চিম প্রান্তের কয়েকটি পাড়ার বাড়ির আঙিনায় ও বাড়ির আশপাশে গাঁজার চাষ হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ হওয়ার পর অনেকেই কিছু গাঁজার গাছ কেটে ফেলেছেন। তারপরও অনেক বাড়িতে গাঁজার চাষ আছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। বাংলাদেশ হওয়ার আগে এই ছিটে ফেনসিডিলের হাটও বসত। সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, দাসিয়াছড়া ছিটের পশ্চিমটারীর অনেকের বাড়িতেই গাঁজার গাছ আছে। সামাদ নামের এক বাসিন্দা গাঁজাচাষি হিসেবেই পরিচিত। তার বাড়িতে ২০টি ছোটবড় গাঁজার গাছ রয়েছে। পুরনো গাছের সঙ্গে এ বছর নতুন গাছও লাগিয়েছেন তিনি। অনেকের বাড়ির আঙিনায় ১৪-১৬ ফুট উচ্চতার পুরনো গাঁজার গাছ আছে। বীজ রোপণের ছয় মাসের মধ্যে এসব গাছ থেকে গাঁজা উৎপাদন হয়। একেকটি গাছ থেকে উৎপাদন হয় ১ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত গাঁজা। তখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা এসে গাঁজা নিয়ে যান। বিক্রি করতে কোনো সমস্যা হয় কি না- জানতে চাইলে একজন বলেন, ‘মেলা প্রকার মহাজন আহে। কত মহাজন আহে গাঁজা নেওনের লাইগ্যা। ফুলবাড়ির যেইগল্যা ভ্যাটান ভ্যাটান (হোমরা চোমরা) দেহেন, সউগ এইগল্যার মহাজন।’ জানা গেছে, শুধু এই ছিটমহলে ৫০ মণ গাঁজার উৎপাদন হয়। এর বাইরে সারা বছরই পাশের দেশ থেকে আসা গাঁজা-মদ-ফেনসিডিলের সব চালানও এই ছিটমহল থেকেই বিক্রি হয়। অনেকেই গাঁজার চাষের বিরোধী হলেও চোরাকারবারি ও সন্ত্রাসীদের সমর্থন থাকায় কাউকেই কেয়ার করছে না গাঁজা চাষিরা। এ ব্যাপারে ফুলবাড়ি থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, এতদিন আইনগত কারণে আমরা ভারতের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে যেতে পারিনি। এখন আমরা মনিটরিং করব।

তাহসিনা সুলতানাঅপরাধের ডায়েরী থেকে
অন্ধকার জীবন ছেড়ে আলোর পথে আসতে চান ছিটমহলের বাসিন্দরা। বদলাতে চান জীবনযাপনের রুটিন। বাংলাদেশের অন্য বাসিন্দাদের মতোই জীবনযাপন করতে চান তারা। বাংলাদেশের ঠিকানা পাওয়ার আগে ছিটমহলের বাসিন্দরা অন্ধকারের বাসিন্দা ছিলেন। মদ-গাঁজা ছিল তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। ছিটমহলের বাসিন্দারা মাদক ব্যবসা, গরু পাচার, চিনি-মসলা চোরাচালান ও নারী-শিশু পাচারকে পেশা হিসেবেই বিবেচনা করতেন।...