80367_31
চকবাজার। বাহারি ইফতারের জন্য প্রসিদ্ধ বাজার। পুরান ঢাকার এ ইফতারি বাজারে তাই দুপুরের আগ থেকেই ভিড় জমে প্রতিদিন। রমজানের প্রথম দিনে তাই দেখা গেছে। সময় ও আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে এবারের বাহারি ইফতারির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন আইটেম। গতকাল দুপুরের পর থেকেই চকবাজার শাহী মসজিদের সামনের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দোকানিরা আগ থেকেই মাথার ওপর সামিয়ানা টানিয়ে দোকান নিয়ে বসেন। রাস্তার মাঝখানেই বসে সারি সারি দোকান। আর তাতে বিক্রেতাদের ব্যাপক হাঁক-ডাক। ক্রেতারাও তাদের পছন্দ মতো ইফতার সামগ্রী কেনার জন্য এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়।
কাশ্মিরী শরবত। এটা পেস্তা বাদামের হলুদ রঙের শরবত। চাকবাজারে ডিসেন্ট পেস্টি সপে পাওয়া যায়। প্রতি লিটার দাম ২৮০ টাকা। চাহিদাও ব্যাপক। ইফতার কিনতে আসা প্রায় ক্রেতাদের ব্যাগেই এ শরবত। রোজদারদের মুখরোচক খাবারের সঙ্গে এটাও বেশ পছন্দের বললেন বিক্রয় প্রতিনিধিরা। চকের শাহী ইফতারি বাজারে কোয়েল পাখির রোস্ট থেকে শুরু বিশাল শিকের সঙ্গে জড়ানো সুতি কাবাব পাওয়া যায়। আধা থেকে ৫ কেজি ওজনের জাম্বো সাইজ শাহী জিলাপি। কাচ্চি, তেহারি, মোরগ পোলাও, ছোলা, মুড়ি, ঘুগনি, বেগুনি, আলুর চপ, জালি কাবাব, শাকপুলি, টিকা কাবাব, ডিম চপ, পেঁয়াজুসহ শতাধিক ইফতারি উপকরণ মেলে এ বাজারে। অনেক উপকরণ আছে যা চলে আসছে সেই মোগল আমল থেকে। আর নতুন কিছু সংযোজিত হয়ে এই ইফতারির বৈচিত্র্য বাড়িয়েছে। দুপুরের আগেই দইবড়া, ডিসেন্ট হালিম, মোল্লার হালিম, নূরানি লাচ্ছি, পনির, মৌসুমি দেশ বিদেশী ফল ভাঙি, আম, কাঁঠাল, লটকন, আনারস, তরমুজ, পেঁপে, কলা, পেয়ারা ভরে যায় চকবাজারের সার্কুলার রোড। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চকবাজারে চারদিকে চার শতাধিক ইফতারির দোকান বসে।
হাজী শহিদ বাবুর্চির দোকান থেকে ভেসে আসছিল চিৎকার। প্রায় সবার কাছে অতি পরিচিত। দোকানিরা সুর করে বলছেন, ‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোংগায় ভইরা লইয়া যায়, ধনী গরিব সবাই খায়, মজা পাইয়া নিয়া যায়।’ তার দোকানের অবস্থান একেবারে শাহী মসজিদের সামনে। এখানে প্রচণ্ড ভিড়। শখের বশে ক্রেতারা হুড়োহুড়ি করে কিনছেন। শহিদ বাবুর্চি জানান, ২১ রকমের অধিক আইটেম এবং ১২-১৩ প্রকার মসল্লা দিয়ে তৈরি হয় এ খাবার। দাম প্রতিকেজি ৪০০ টাকা। সবকিছুর দাম বাড়ায় গতবারের তুলনায় এবার কেজিতে ৫০ টাকা বেশি বলে জানান বিক্রয় প্রতিনিধিরা।
চকবাজারে ইফতারির দাম দোকানভেদে একটু আলাদা। শসা ধনেপাতা, পুদিনাপাতা, ছোলা বুট, শিঙাড়া, সমুচা, নিমকি, আলুর চপ, ঘুগনি ও মিষ্টি জাতীয় বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের দামেও রয়েছে তারতম্য। বিভিন্ন দোকানে মুরগির রোস্ট বিক্রি হয় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, শিক কাবাব ৭০ থেকে ৯০ টাকা, খাসির রানের রোস্ট ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, সুতি কাবাব গরু ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা প্রতি কেজি। হান্নান বাবুর্চি জানান, গত বছর এই সুতি কাবাব ৫০০ টাকা প্রতি কেজি ছিল। খাসি ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা প্রতি কেজি, কবুতরের রোস্ট ৫০ টাকা বেড়ে প্রতিটি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, কোয়েল পাখির রোস্ট ২০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কিমা পরোটা ৩০ টাকা, এক কেজি ওজনের শাহী জিলাপি ১৬০ টাকা, দইবড়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, দুধের তৈরি লাবাং বিক্রি হয় লিটার ১২০-১৩০ টাকায়, ডিসেন্ট শপে শাহী হালিম প্রতি বাটি (বড়) ৪৫০ টাকা, মাঝারি ৩০০ টাকা, ছোট বাটি ১৫০ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
আলাউদ্দিন সুইট মিটসে দইবড়া কেজি ২০০ টাকা, দুধের শরবত লিটার ২৪০ টাকা, বোরহানি লিটার ১২০ টাকা, চিকেন স্টিক পিস ৭০ টাকা, চিকেন নার্গেট ৫০ টাকা, বিফ জালি কাবাব ২০ টাকা, বিফ স্টিক ৪০ টাকা, কিমা পরোটা ৩০ টাকা, টানা পরোটা ২০ টাকা, চিকেন উইন্স ৩০ টাকা পিস দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাজধানীর বনশ্রী থেকে ইফতার কিনতে আসা চিশ্‌তি জানান, এ বাজারের ইফতার সেরা এবং ঐতিহ্যবাহী। তাই পুরান ঢাকা থেকে ইফতার কিনতে এসেছেন তিনি। মিরপুর থেকে ইফতার কিনতে আসা চাকরিজীবী মাহমুদ বললেন, প্রতি বছর এখান থেকে ইফতার কেনা তার শখ। কেরানীগঞ্জ থেকে ইফতার কিনতে আসা মোবারক বললেন, এখানে আসলে ভাল ইফতার পাওয়া যায়।

তাহসিনা সুলতানাএক্সক্লুসিভ
চকবাজার। বাহারি ইফতারের জন্য প্রসিদ্ধ বাজার। পুরান ঢাকার এ ইফতারি বাজারে তাই দুপুরের আগ থেকেই ভিড় জমে প্রতিদিন। রমজানের প্রথম দিনে তাই দেখা গেছে। সময় ও আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে এবারের বাহারি ইফতারির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন আইটেম। গতকাল দুপুরের পর থেকেই চকবাজার শাহী মসজিদের সামনের রাস্তায় যান চলাচল...