80373_f2
ইফতারে খেজুর থাকবে না তা কি করে হয়? সকল রোজাদার খেজুর মুখে দিয়েই রোজা ভাঙ্গে। আর এ কারণে রমজানে খেজুরের কদর বাড়ে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে দাম। রমজানের শুরুতেই ৫-১০ কেজির প্যাকেটজাত খেজুরের মানভেদে দাম বেড়েছে ২০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত। সংকটের অজুহাত দেখিয়ে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। অবশ্য খুচরা বিক্রেতারা দাম বাড়তির কারণ জানে না। শুধু জানে মোকামে বেড়েছে, তাই খেজুরের দাম বাড়তি। খুচরা-পাইকারি মিশ্রিত বিক্রেতাদের অভিযোগ, খেজুরের পর্যাপ্ত মজুত নেই। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক খেজুর কম এসেছে। যদিও সরকার তরফে বার বার দাবি করা হচ্ছে, রমজানের সব পণ্য মজুত রয়েছে। কোন ধরনের পণ্য সংকট নেই। আবার সরকারে ‘মজুত’ দাবির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে খেজুর আড়ৎদার ও বড় আমদানিকারকরা। তারা বলছেন, খেজুরের কোন সংকট নেই। যে সংকট দেখা যাচ্ছে তা কৃত্রিম এবং দ্রুত সমাধানযোগ্য। রাজধানীর বাবু বাজার, বাদামতলী, শ্যামবাজার, মৌলভীবাজার, কাওরানবাজারসহ বেশ কিছু খুচরা বাজার ঘুরে এসব তথ্য মিলেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৫ কেজি আজুয়া খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৯০০০ টাকা। যা কয়েক দিন আগেও ছিল ৭০০০ টাকা। ৫ কেজি মরিয়ম বিক্রি হচ্ছে ৪৫০০ টাকা। যা ক’দিন আগে ছিল ৩২০০ টাকা। ৫ কেজি বারারি-তিউনিশিয়া বিক্রি হচ্ছে ৩৫০০ টাকা। যা ছিল ২৪০০ টাকা। ৫ কেজি ফরিদা বিক্রি হচ্ছে ১১০০ টাকা। যা ছিল ৮০০ টাকা। একইভাবে ১০ কেজি বরই খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২০০০ টাকা। যা ছিল ১৪০০ টাকা। ১০ কেজি জাহিদি বিক্রি হচ্ছে ১০০০ টাকা। যা ছিল ৮০০ টাকা। এছাড়া বাংলা খেজুরের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা। যা ছিল ৬০ টাকা। এ বিষয়ে মেসার্স মনির এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আমির হোসেন মিয়া বলেন, খেজুরের সংকট। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক কম এসেছে। সে কারণে খেজুরের দাম বেড়েছে বলে মনে করেন খুচরা ও পাইকারি এই বিক্রেতা। একই কথা বললেন ফোর স্টার ফ্রুটস ইন্টরন্যাশনালের বিপণন কর্মী রফিকও। তিনি জানান, সব ধরনের খেজুরের দাম বেড়েছে। বিশেষত দুই দিনের ব্যবধানে প্রতি প্যাকেটে বেড়েছে প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। খেজুর উৎপাদনে সেরা ১০টি দেশ হচ্ছে-সৌদি আবর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর, ইরাক, ইরান, পাকিস্তান, আলজেরিয়া, সুদান, ওমান ও লিবিয়া। এসব দেশ থেকে প্রতিবছর লাখ-কোটি হাজার টন খেজুর বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। গোটা দুনিয়ার খেজুরের চাহিদা মেটাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের এসব দেশ।
ঢাকা মহানগর ফ্রুটস ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট অ্যান্ড মার্চেন্টস মাল্টিপল কো-অপারেটিভ সোসাইটির হিসাব অনুযায়ী, রমজানে ২০ থেকে ২৫ হাজার টন খেজুরের চাহিদা রয়েছে। চাহিদার বিপরীতে আমদানি করা হয়েছে প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার টন। সে হিসাবে প্রায় ৩ হাজার টন খেজুর কম এসেছে। এ বিষয়ে বাদামতলীর সব চেয়ে বড় আমদানিকারক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ইরাকের জাহিদি খেজুর পর্যাপ্ত আনা সম্ভব হয়নি। কারণ যখন খেজুর আনার সময় তখন আইএসের দখলে ছিল সংশ্লিষ্ট এলাকা। সে কারণে বাংলাদেশের সাধারণ ভোক্তাদের প্রিয় খেজুরটি পর্যাপ্ত পরিমাণ আনা যায়নি। তবে এছাড়া তেমন কোন সংকট নেই বলে জানান তিনি। তার দাবি, খেজুর বাজারের বর্তমান অস্থিরতা কয়েক দিনের মধ্যে মিটে যাবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্য বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর তথ্য অনুযায়ী, সাধারণমানের খেজুর প্রতিকেজি ৮০ থেকে ২২০ টাকা। সংস্থা ‘সাধারণ মান’ বলতে কী বোঝায় স্পষ্ট নয়। আড়ৎদার, আমদানিকারক ও বিক্রেতারা বলছেন, সাধারণমানের খেজুর সর্বনিম্নমানের। এটি প্রধানত ইরাক থেকে আমদানি করা হয়। ব্যবসায়ীরা এ খেজুরকে ‘বাংলা’ খেজুর বলে থাকেন। টিসিবির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির বলেন, ১৫০ টন খেজুর মজুত রয়েছে। এসব খেজুর ৮০ টাকা দরে প্রতিদিন টিসিবির ট্রাকে বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। সার্বিক বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহসভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, এবার কোন মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য নেই। তবে মনিটরিং সেলের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, আগের মতো বাজার তদারকি শক্ত মনে হচ্ছে না।

তাহসিনা সুলতানাঅন্যান্য
ইফতারে খেজুর থাকবে না তা কি করে হয়? সকল রোজাদার খেজুর মুখে দিয়েই রোজা ভাঙ্গে। আর এ কারণে রমজানে খেজুরের কদর বাড়ে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে দাম। রমজানের শুরুতেই ৫-১০ কেজির প্যাকেটজাত খেজুরের মানভেদে দাম বেড়েছে ২০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত। সংকটের অজুহাত দেখিয়ে অতিরিক্ত...