three men were arrested after a raid at a madrassa in chittagong, police said_88178
রমজান মাসজুড়ে রাজধানীতে তিন স্তরের নজিরবিহীন নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নেওয়া হয়েছে নানা কৌশল। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, পুলিশ ও র‌্যাব বিশেষ দল গঠন করেছে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী, পকেটমার ও অজ্ঞানপার্টির সদস্যদের পাকড়াও করতে। শপিং মল, ব্যাংক সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। নজরদারি রাখা হচ্ছে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ কারসাজির অবৈধ সিন্ডিকেটের ওপর। রেল স্টেশন, বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাটসহ জনবহুল ১০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে র‌্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলোয় অবাঞ্ছিত ঘটনা প্রতিরোধে থাকছে সার্বক্ষণিক পুলিশি নজরদারি। যানজট নিরসনে অতিরিক্ত ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশের সিভিল টিম ও পেট্রল-কার দায়িত্ব পালন করবে। রমজানের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সর্বশেষ বৈঠকে এসব বিষয়ে নানা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রমজান মাস শুরুর আগের দিন গতকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে নেমেছে। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) এ কে এম শহীদুল হক সোমবার বলেছেন, রমজানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সাধ্যের সর্বোচ্চ দিয়ে দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ। মহাসড়কগুলোয় গাড়ি থামিয়ে যানজট সৃষ্টি করে কোনো চাঁদাবাজি চলবে না। পুলিশের কোনো সদস্য এ ধরনের কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ ও র‌্যাব সূত্র জানায়, সাধারণত রমজান মাসে ফজরের নামাজ এবং ইফতারের আগে ও পরে অপরাধ সংঘটিত হয় বেশি। এ সময়ে পুলিশ ও র‌্যাব বিশেষভাবে তৎপর থাকবে। এ ছাড়া রমজানের প্রথম ১০ দিনের জন্য থাকবে এক ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা, দ্বিতীয় ভাগে থাকবে শপিং মল এবং ব্যাংকপাড়ায় সাদা পোশাকে অতিরিক্ত বাহিনী। তৃতীয় ভাগে টিকিট কালোবাজারি, টার্মিনাল, ঘাটে তৎপরতা বাড়ানো হবে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান গতকাল বলেন, প্রতি বছর রমজান এলেই সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা ব্যবসায়ীদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে বসে। বিভিন্ন বিপণিবিতানে ছিনতাইকারীরা সক্রিয় থাকে। নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন ব্যবসায়ীসহ ক্রেতা-বিক্রেতারা। এবার র‌্যাব অনেকটা আগে থেকেই বাড়তি সতর্কাবস্থা গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, ক্রেতা-বিক্রেতারা যেন নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারে সে জন্য র‌্যাব মাঠে থাকবে। চাঁদাবাজি, ছিনতাই রোধে র‌্যাবের গোয়েন্দা ইউনিট সার্বক্ষণিক কাজ করছে। রাজধানীতে সব কটি ব্যাটালিয়নকে বাড়তি সতর্ক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিহ্নিত অপরাধপ্রবণ এলাকা, শপিং মল ও টার্মিনাল এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে ১০টি অস্থায়ী ক্যাম্প। ডিএমপি সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীকে বিশেষ কয়েকটি অপরাধ জোনে ভাগ করে একজন ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজধানীকে ১৩টি অপরাধ জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রতি জোনে একজন ডিসির নিয়ন্ত্রণে পুলিশসহ ২৬ সদস্যের একটি টিম দায়িত্ব পালন করবে। সূত্রমতে, রমনা, লালবাগ, তেজগাঁও, মিরপুর, ওয়ারী, মতিঝিল, গুলশান ও উত্তরা বিভাগ থেকে গঠিত অপরাধ বিভাগের আটটি সিভিল টিম বিভিন্ন কৌশলে অপরাধী ধরতে ওত পেতে থাকবে। সূত্র জানায়, রাজধানীর সব পেশাজীবীর নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরাপদ করা হবে রাজধানীর ভোরের রাস্তা। পেট্রল টহল, চেকপোস্টের পুলিশের পাশাপাশি থাকবে সাদা পোশাকের বিশেষ গোয়েন্দা পুলিশ। সূত্রমতে, বিভিন্ন মার্কেট ও শপিং কমপ্লেক্সের সামনে থাকবে বাড়তি নিরাপত্তা। মার্কেটের নিজস্ব সিকিউরিটি ও মার্কেট কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সমন্বয়ে অতিরিক্ত প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। থাকবে ডিবি পুলিশের বিশেষ টিম। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সূত্র জানায়, ছিনতাই, ডাকাতি ও পকেটমার ধরতে অর্ধশত স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা বিভিন্ন ছদ্মবেশে অবস্থান নিয়ে থাকবেন। ফার্মগেট, মগবাজার, মৌচাক, মহাখালী, গাবতলী, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, কারওয়ান বাজার, কমলাপুর রেল স্টেশন, কাকরাইল, পল্টন, গুলশান, নিউমার্কেটসহ রাজধানীর বিলাসবহুল শপিং মল ও মতিঝিলের বিভিন্ন ব্যাংক ভবন এলাকায় তারা দায়িত্ব পালন করবেন। ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানায়, রমজান মাসে যানজট নিরসনে অতিরিক্ত ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশের সিভিল টিম ও পেট্রল-কার দায়িত্ব পালন করবে। শাহবাগ থেকে জাহাঙ্গীর গেট, মিরপুর ও সাতরাস্তা মোড় থেকে আবদুল্লাহপুর ক্রসিং পর্যন্ত তিনটি পেট্রল-কার থাকবে। যানজট দেখামাত্রই তারা সেখানে ছুটে যান নিয়ন্ত্রণ করবে। এ ছাড়া ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের ভিডিওচিত্র ধারণ কিংবা ছবি তুলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবেদন দাখিল করে ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। রং পার্কিং ও রোড ব্লক করে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানো গাড়ির বিরুদ্ধে মামলাসহ চালকদের আটক করে তাদের লাইসেন্স জব্দ করা হবে। ট্রাফিক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের একজন এডিসির অধীনে অপরাধ বিভাগ থেকে গঠিত সিভিল টিম ও পেট্রল-কারগুলো দায়িত্ব পালন করবে।

তুনতুন হাসানঅন্যান্য
রমজান মাসজুড়ে রাজধানীতে তিন স্তরের নজিরবিহীন নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নেওয়া হয়েছে নানা কৌশল। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, পুলিশ ও র‌্যাব বিশেষ দল গঠন করেছে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী, পকেটমার ও অজ্ঞানপার্টির সদস্যদের পাকড়াও করতে। শপিং মল, ব্যাংক সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। নজরদারি রাখা হচ্ছে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ কারসাজির...