1443623036
অবশেষে কাউন্টার জঙ্গি দমনে পুলিশের বিশেষ ইউনিট কাউন্টার টেররিজম ইউনিট গঠন করা হচ্ছে। এমনই আশার কথা জানিয়েছেন পুলিশ সদর ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় সূত্র। তবে কবে নাগাদ এ ইউনিটের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে সে ব্যাপারে পুলিশের কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা কোনো ধরনের মন্তব্য করেননি।

একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেছেন, পুলিশকে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অনেক কিছু তরারকি করতে হয়। কিন্তু এই বিশেষ ইউনিট চালু করা হলে জঙ্গি দমনে পুলিশের সক্ষমতা অনেকাংশে বাড়বে। গত ৬ বছর ধরে এ ইউনিট গঠন নিয়ে চলছে চিঠি চালাচালি।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, জঙ্গ দমনে ‘কাউন্টার টেররিজম ইউনিট’ গঠন একান্ত প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর নানা দিক নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। আশা করা যাচ্ছে—এ ইউনিটটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে গঠন এবং এর কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়—সময়ের প্রয়োজনে জঙ্গি দমনে বিশেষ টিম গঠন করা অতীব জরুরি হয়ে পড়েছে। এ ইউনিট চালু করা হলে জঙ্গি সংগঠনগুলোর তত্পরতা নিয়ন্ত্রতে পুলিশের সক্ষমতা বাড়বে। সে দিক বিবেচনায় নিয়েই ২০০৯ সালের মাঝামাঝি সময় কাউন্ডার টেররিজম ইউনিট গঠনের জন্য পুলিশ সদর দফতর প্রক্রিয়া শুরু করে। কাউন্টার টেররিজম ইউনিট হলো—সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ন্যাশনাল পুলিশ ব্যুরো অব কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ফোর্সের আদলে এই ইউনিট গঠন করার কথা। সে মোতাবেকই পুলিশ সদর দফতরের সংশিষ্ট বিভাগ থেকে গঠন প্রক্রিয়া, জনবলসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের (অর্গানোগ্রাম) খসড়া তেরি করে ওই বছরের নভেম্বর মাসে পাঠানো হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কয়েক দফায় যাচাই-বাছাই করে এ টি পাঠানো হয় স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়। সেখান থেকেও দুই দফায় কিছু সংশোধনের জন্য আবার পুলিশ সদর দফতরে পাঠানো হয়। নির্দেশ মতো আবারো সংশোধন বিয়োজন করে প্রস্তাবনার কপি পাঠানো হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখানে কয়েক দফায় আবারো যাচাই-বাছাই করা হয়। পাঠানো হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ে। এরপর পাঠানো হয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে।

সূত্র জানান, ‘কাউন্টার টেররিজম ইউনিট’ গঠনের ফাইলটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েই পড়ে আছে।

সূত্র ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে আরো জানায়, একই সময় প্রক্রিয়া শুরু হলেও ভিভিআইপিদের নিরাপত্তায় স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন বা এসপিবিএন, গুরুত্বপূর্ণ মামলা তদন্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই, বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় ‘এয়ারপোর্ট এপিবিএন’, পোশাক কারখানার নিরাপত্তায় শিল্প পুলিশের পাশপাশি টুরিস্ট, নৌ-পুলিশসহ বেশ কয়েকটি ইউনিট গঠন শেষে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আর এসব ইউনিট সফল ভাবেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্লগার ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, জঙ্গি দমনে গঠিত চৌকস বাহিনী কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কার্যক্রম না থাকায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে জঙ্গিরা। একে একে ব্লগার খুন হচ্ছে জঙ্গিদের হাতে। জঙ্গিরা তাদের পরিকল্পনাতেই সফল হচ্ছে। ধরা পড়ছে না দেশে অরাজকতা সৃষ্টিকারী শীর্ষস্থানীয় জঙ্গিরা। পাশাপাশি উগ্রবাদী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আদর্শপুষ্ট জঙ্গিরা ব্লগারদের পেছনে ছায়ার মতো লেগে আছে। সর্বশেষ গত সোমবার সন্ধ্যায় গুলশান-২-এর ৯০ নম্বর সড়ক দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ইতালির নাগরিক তাভেল্লা সিজারকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বত্তরা।

উল্লেখ, ২০১২ সালের ৬ ডিসেম্বর সারদায় পুলিশ একাডেমির শতবর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা-বিরোধীদের অপতত্পরতা ও জঙ্গিবাদ দমনের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘ন্যাশনাল পুলিশ ব্যুরো অব কাউন্টার টেররিজম ইউনিট’ গঠন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/09/1443623036.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/09/1443623036-300x300.jpgতাহসিনা সুলতানাপ্রথম পাতা
অবশেষে কাউন্টার জঙ্গি দমনে পুলিশের বিশেষ ইউনিট কাউন্টার টেররিজম ইউনিট গঠন করা হচ্ছে। এমনই আশার কথা জানিয়েছেন পুলিশ সদর ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় সূত্র। তবে কবে নাগাদ এ ইউনিটের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে সে ব্যাপারে পুলিশের কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা কোনো ধরনের মন্তব্য করেননি। একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে ...