93131_152
যে কোন স্বপ্ন বা লক্ষ্য পূরণে বয়সটা কোন বাধা নয়। কেউ যদি ইচ্ছাশক্তির বলে বলীয়ান হয়ে সামনে এগোতে চান, তাকে কেউ আটকাতে পারে না। এ কথাটা আরও একবার প্রমাণিত হলো। প্রমাণ করলেন ভারতের বিহার রাজ্যের রাজধানী পাটনার বাসিন্দা রাজ কুমার বৈশ্য। তার বয়স ৯৫ বছর। এ বয়সেও তিনি অদম্য। তিনি এখন সমাজের সবার কাছে অনুপ্রেরণার নাম। নালন্দা ওপেন ইউনিভার্সিটিতে (এনওইউ) অর্থনীতিতে মাস্টার্স কোর্স করার জন্য ভর্তি হয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা ও বেকার সমস্যা সমাধানে দেশ কেন ব্যর্থ হয়েছে, তা বুঝতে তিনি অর্থনীতি বিষয়ে পড়তে চান এবং সম্ভব হলে দেশের জন্য অবদান রাখতে চান। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা আইএএনএস। ১৯৮০ সালে একটি প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপকের পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন তিনি। দ্বিতীয় পুত্র ও পুত্রবধূর সঙ্গে থাকেন রাজ কুমার। ১০ বছর আগে স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি তাদের সঙ্গেই বসবাস করছেন। বাড়িতে লেখাপড়ার পরিবেশ তাকে আরও পড়ালেখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে বলে জানান তিনি। তার পুত্র সন্তোষ কুমারের বয়স ৭০ বছরের কোঠায় এবং তার স্ত্রী ভারতী এস কুমারের বয়স ৬০ বছরের কোঠায়। পাটনার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে অবসর নিয়েছেন পুত্র সন্তোষ। অন্যদিকে, পুত্রবধূ পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। ৯৫ বছর বয়সী রাজ কুমার বলছিলেন, তারা আমাকে বলেছিলেন, এ বয়সে পড়াশোনা সহজ কাজ নয়। কিন্তু, আমার প্রবল আগ্রহ দেখে তারা আমাকে সমর্থন দিতে রাজি হয়। আমার পুত্র আমাকে গণিত এবং পরিসংখ্যান শেখাবে এবং পুত্রবধূ অন্যান্য বিষয়ে সহযোগিতা করবে। তিনি বলছিলেন, প্রতিদিন সকালে ২ ঘণ্টা এবং রাতের সময়টা পড়াশোনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি। তবে তিনি শুধু মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করতে আগ্রহী, পিএইচডি ডিগ্রি নয়। নালন্দা ওপেন ইউনিভার্সিটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বয়সে এত প্রবীণ একজন শিক্ষার্থী পেয়ে বেশ আনন্দিত। ২০১৫-১৬ সেশনের জন্য গত ৮ই সেপ্টেম্বর ভর্তি করা হয় রাজ কুমারকে এবং হিন্দিতে লেখা বইপত্র দেয়া হয়। কিন্তু, তিনি ইংরেজিতে লেখা বই চেয়েছেন। অচিরেই কর্তৃপক্ষ সে ব্যবস্থা করবে। এ বয়সেও পড়া ও লেখায় বেশ স্বচ্ছন্দ ও পারদর্শী তিনি। চশমা ছাড়াই তিনি আজও লিখতে পারেন। হাত কাঁপে না। হিন্দি ও ইংরেজিতে সমান দক্ষতায় লিখতে পারেন। এমনিতে সুস্থই তিনি। কয়েক বছর আগে পায়ে আঘাত পাওয়ায় শুধু একটি লাঠি ব্যবহার করতে হয়। এত বছর ভালভাবে বাঁচার রহস্য হলো, সাদাসিধা জীবনযাপন এবং বাকি সমস্ত কিছু ঈশ্বরের ওপর ছেড়ে দেয়া। তিনি বলছিলেন, কোন ঘটনা যেভাবে ঘটে, আমি সেটাকে সেভাবেই গ্রহণ করি। আজ অন্য যে কোন কিছুর চেয়ে উদ্বেগই বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। তিনি বলেন, মানুষকে বিশেষ করে তরুণ ও যুবকদের মানসিক চাপ ছাড়া বাঁচার চর্চা গড়ে তোলা উচিত। তিনি নিরামিশাষী এবং স্বাভাবিক খাবার দাবার গ্রহণ করেন। প্রয়োজনের তুলনায় সবসময়ই একটু কম খেতেন বলে জানান তিনি। তেলে ভাজা খাবার কখনোই খাননি। রাজ কুমার বলছিলেন, না খেয়ে থাকার চেয়ে অতিরিক্ত খাওয়াই বেশি মানুষের মৃত্যুর কারণ। ১৯২০ সালের ১লা এপ্রিল ভারতের উত্তর প্রদেশের বারেলি শহরতলিতে জন্মগ্রহণ করেন রাজ কুমার বৈশ্য। ১৯৩৮ সালে আগ্রা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ১৯৪০ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি নেন। কিন্তু, পারিবারিক দায়িত্ব বেড়ে যাওয়ায় তখন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিতে পারেননি রাজ কুমার বৈশ্য। নিয়মিত বই, সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিন পড়েন তিনি এবং টিভিতে ঐতিহাসিক ও শিক্ষামূলক কিছু সিরিয়াল দেখেন।

হীরা পান্নাএক্সক্লুসিভ
যে কোন স্বপ্ন বা লক্ষ্য পূরণে বয়সটা কোন বাধা নয়। কেউ যদি ইচ্ছাশক্তির বলে বলীয়ান হয়ে সামনে এগোতে চান, তাকে কেউ আটকাতে পারে না। এ কথাটা আরও একবার প্রমাণিত হলো। প্রমাণ করলেন ভারতের বিহার রাজ্যের রাজধানী পাটনার বাসিন্দা রাজ কুমার বৈশ্য। তার বয়স ৯৫ বছর। এ বয়সেও তিনি অদম্য।...