1441744949
মেধা খাটিয়ে আর লক্ষ্য স্থির করে যদি পরিশ্রম করা যায় তাহলে অল্প লেখা-পড়া শিখেও স্বাবলম্বী হওয়া যায়। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ কুষ্টিয়া কোর্টের অনেক ঐতিহাসিক মামলাসহ ৭ সহাস্রাধিক মামলার লেখক ২৮ নং লাইসেন্সধারী আইনজীবি সহকারী মোফাজ্জেল হক ওরফে নেন্টু মহুরী (৫৭)।

কোর্টের জুনিয়ররা তো বটেই সিনিয়র এ্যডভোকেটরা পর্যন্ত কোন মামলার এজাজার লিখলে মামলায় অনেক ফাক-ফোকর থাকে। নেন্টু মহুরীর লেখা এজাহারে সাধারনত ফাক-ফোকর থাকেনা। যার কারণে কুষ্টিয়া কোর্টের অনেকেই নেন্টু মহুরীকে এজাহার লেখা বিশেষজ্ঞ বলে সম্বোধন করে। অথচ কুষ্টিয়া কোর্টে একই পেশায় একটানা ৩৫ বছর যাবৎ মহুরী (আইনজীবি সহকারী) পেশায় কর্মরত নেন্টু মহুরীর শিক্ষাগত যোগ্যতা মাত্র পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত।

নেন্টু মহুরীর সাথে আলাপকালে তিনি ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, বাবার অবস্থা ভাল না থাকায় মেধাবী হওয়া সত্বেও ছাত্রবস্থায় পঞ্চম শ্রেনীতে কৃতিত্বের সাথে পাশ করার পর ষষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্ত্তি হয়ে বেতন দেবার সামর্থ্য হয়নি। ফলে তাকে স্কুল থেকে বের করে দেয়া হয়। এরপর তিনি কিশোর বয়সে অন্যের চায়ের দোকানে,মুদি দোকানে ও কসমেটিক্স দোকানে চাকুরী নিয়ে দৈন্যতা কাটানোর সংগ্রামে লিপ্ত হন। তাতেও ফলপ্রসু কিছু না হওয়ায় আপন খালাতো বড় বোন বতমানে কুষ্টিয়া কলকাকলি স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা জাহানারা খাতুনের উৎসাহে ১৯৭৫ সালে কুষ্টিয়া কোটে আইনজীবি সহকারী হিসাবে কাজ শুরু করেন।

পরে তিনি কোর্টের সেরেস্তাদার ঝিনাইদহের গোলাম মোস্তফা, প্রয়াত এ্যডভোকেট নুরুল ইসলাম ও প্রয়াত এ্যডভোকেট আশরাফ আলীর কাছ থেকে মামলার এজাহার লেখার খুটিনাটি বিষয় শিখেছেন বলেও জানান। নেন্টু মহুরী আরো জানান,এই পেশায় আশার পর অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের স্মৃতি রয়েছে।

এরমধ্যে বিশেষভাবে উলে­খযোগ্য ইয়াজউদ্দিন-ফখরুদ্দিন-মঈন উদ্দিনের তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মিরপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এস কামরুজ্জামান পিপিএম তাকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে একটানা ২ বছর মামলার এজাহার লেখা বন্ধ করে রেখেছিল। সেই কষ্টটা আজোও নেন্টু মহুরীকে তাড়া করে ফেরে।

সিভিল ও ক্রিমিনাল মিলে ৭ সহাস্রাধিক মামলার লেখক ২ পুত্র ও ২ কন্যা সন্তানের জনক নেন্টু মহুরী মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামের মৃত আবুবক্কর সিদ্দিকের ছেলে । বর্তমানে তিনি মিরপুর উপজেলা ডাক বাংলো সংলগ্ন বাড়ী করে বসবাস করছে।

তুনতুন হাসানআইন-আদালত
মেধা খাটিয়ে আর লক্ষ্য স্থির করে যদি পরিশ্রম করা যায় তাহলে অল্প লেখা-পড়া শিখেও স্বাবলম্বী হওয়া যায়। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ কুষ্টিয়া কোর্টের অনেক ঐতিহাসিক মামলাসহ ৭ সহাস্রাধিক মামলার লেখক ২৮ নং লাইসেন্সধারী আইনজীবি সহকারী মোফাজ্জেল হক ওরফে নেন্টু মহুরী (৫৭)। কোর্টের জুনিয়ররা তো বটেই সিনিয়র এ্যডভোকেটরা পর্যন্ত কোন...