prosenjeet-290x193
‘আমার আর ঋতুর একসঙ্গে ছবি করা অমিতাভ-রেখার একসঙ্গে ছবি করার মতো। তাই এমন কোনও ছবিতেই ফিরব, যা দেখে দর্শক বলবেন, এটা প্রসেনজিত-ঋতুপর্ণা ছাড়া সম্ভব ছিলো না! আর এটা একটা মিথ। ভুল কিছু করে মিথ ভেঙে দেওয়ার চেয়ে মিথ জিইয়ে রাখা ভালো…’

কিছুদিন আগে এমনটাই বলেছিলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাংলা সিনেমা শিল্প টলিউড সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সে ছবিতে তাঁর সঙ্গে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে জুটি হিসেবে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিলেন কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তেমনটা ঘটেনি! প্রসেনজিৎ অবশ্য সেই দিনই ইঙ্গিতপুর্ণ একটা কথা বলেছিলেন- যদি শিবপ্রসাদ-নন্দিতার ছবি হয়, মানে যে কনসেপ্টটা ওঁরা ভেবেছেন, সেখানে আমি আর ঋতু থাকলে, বাংলা ছবির জন্য ভালো কিছু হবে।’

ভালো কিছু? সময়টাই যে সাংঘাতিক ভালো পরিচালকদ্বয়ের। শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় আর নন্দিতা রায়ের শেষ ছবি ‘বেলাশেষে’ বাংলা ছবির বক্সঅফিসে রেকর্ড গড়েছে। ১০০ দিনে পৌঁছেও ছবি হাউজফুল! এরচেয়ে ভালো খবর আর কী হতে পারে? প্রশ্ন শুনে একটু হেসে শিবপ্রসাদ বলছেন, ‘আরও ভালো খবর আছে। আমাদের নতুন ছবিতে ১৪ বছরের বনবাস কাটিয়ে রাম ফিরছেন। সীতার কাছে।’

প্রসেনজিত-ঋতুপর্ণা জুটি আবার বড় পর্দায়? ছবির বিষয়টা কী? নন্দিতা আর শিবপ্রসাদ বলছেন, ‘ছবির নাম ‘প্রাক্তন’। এটা সম্পর্কের গল্প। আসলে আমাদের সকলের জীবনেই প্রাক্তন প্রেমের একটা গুরুত্ব রয়েছে। কখনও সেই প্রেমের ওপর একটা দুর্বলতা থেকে যায়, কখনও আবার সেই প্রেম চাপা পড়ে যায়, বহু বছর পর হয়তো নতুন করে ফিরে আসে।’

প্রসেনজিত-ঋতুপর্ণা জুটিকে ফিরিয়ে আনতেই লেখা হয়েছে এই গল্প? নাকি এই গল্পের জন্য ওঁরা দু’জন? শিবপ্রসাদ বলছেন, ‘নন্দিতাদি ২০০১ সাল নাগাদ গল্পটা লেখেন। যখন এটা লেখা হয় তখনই মনে হয়, এটা প্রসেনজিত-ঋতুপর্ণাকে নিয়ে করব। কিন্তু তখন দু’জনে একসঙ্গে কাজ করতে রাজি নন। তাই ধরে নিয়েছিলাম গল্পটাকে নিয়ে অন্য কিছু করব। তারপর কয়েকবছর আগে একটা ইভেন্ট করতে গিয়ে বুম্বাদার সঙ্গে আমার কথা হয়। একসঙ্গে কাজের প্রসঙ্গ উঠতেই বুম্বাদাকে বলি, আমি যে কাস্টিং বলবো তুমি রাজি হবে তো? আমার এই ছবিতে কিন্তু ঋতুপর্ণা থাকবে। বুম্বাদা বলল- আমি তো ছবিটা করবো শিবপ্রসাদ-নন্দিতার সঙ্গে। সেখানে বাকি চরিত্রে যেই থাকুক, আমার কোনও সমস্যা নেই। এরপর বহুবার কথা এগিয়েছে। কখনও মনে হয়েছে ছবিটা হবে। আবার কখনও মনে হয়েছে ছবিটা হবে না। শেষ পর্যন্ত হচ্ছে। আর আমরা যতো ছবি করেছি, এটা তার মধ্যে সবচেয়ে বড়ো মাত্রার ছবি। ‘বেলাশেষে’-র পর মনে হল, আরও এক ধাপ এগোনো যেতে পারে।’

প্রসেনজিত-ঋতুপর্ণা এই নাম দু’টোর সঙ্গে প্রাক্তন শব্দটার তো একটা যোগ রয়েছে… নন্দিতা আর শিবপ্রসাদ বলছেন, ‘এই ছবিটা প্রসেনজিত-ঋতুপর্ণা ছাড়া হতো না।’ আপাতত জোরকদমে চলছে ছবির চিত্রনাট্য লেখার কাজ।

বছর পনেরো আগে যখন প্রসেনজিত-ঋতুপর্ণা জুটি বেঁধে একের পর এক ছবি করছেন, তখন তাঁদের রোম্যান্স চেটেপুটে খেয়েছে বাঙালি। সেটা ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’-এর মতো বাণিজ্যিক ছবি হোক বা ‘উত্‍সব’-এর মতো অন্যধারার ছবি।

শিবপ্রসাদ বলছেন, ‘ঠিক এই জায়গাটাই ভাবায় আমাদের। বাংলায় কতোদিন একটা প্রেমের ছবি হয়নি! শেষ কয়েকবছর আমরা নানারকম এক্সপেরিমেন্টাল ছবি করছি। সফলও হচ্ছি। আবার একগুচ্ছ গোয়েন্দা ছবি হচ্ছে। কিন্তু প্রেমের ছবিও যে দর্শক দেখতে চান। নায়ক-নায়িকার মধ্যে যে তীব্র রোম্যান্স, সেটা কিন্তু ফিরিয়ে আনব এই ছবিতে।’

ছবির প্রযোজনা সংস্থা হিসেবে যেমন থাকছে উইন্ডোজ, তেমনই থাকছেন অতনু রায়চৌধুরী। এরই সঙ্গে যোগ হতে পারে ‘ইরোস’-এর নাম।

অতনু রায়চৌধুরী বলছেন, ‘পনেরো বছর পর প্রসেনজিত-ঋতুপর্ণা জুটির কামব্যাকে সবচেয়ে খুশি হবেন দর্শক। সেটাই একটা ভালোলাগার জায়গা।’

অর্ণব ভট্টবিনোদন
‘আমার আর ঋতুর একসঙ্গে ছবি করা অমিতাভ-রেখার একসঙ্গে ছবি করার মতো। তাই এমন কোনও ছবিতেই ফিরব, যা দেখে দর্শক বলবেন, এটা প্রসেনজিত-ঋতুপর্ণা ছাড়া সম্ভব ছিলো না! আর এটা একটা মিথ। ভুল কিছু করে মিথ ভেঙে দেওয়ার চেয়ে মিথ জিইয়ে রাখা ভালো…’ কিছুদিন আগে এমনটাই বলেছিলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাংলা সিনেমা শিল্প...