90045_x5
কল ড্রপ, হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, সেবার উচ্চমূল্য, তরঙ্গ ব্যবহারের যথার্থতা ও ইন্টারনেটের ধীরগতি-এ ৫ ইস্যুতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ নিয়ে গঠন করা হয়েছে ৬ সদস্যের তিনটি কমিটি। গ্রাহকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও কারিগরি টিমসহ মোবাইল অপারেটরদের প্রতিনিধি নিয়ে গ্রাম থেকে শহরে যাচ্ছেন তারা। এজন্য বেছে নেয়া হয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা ১৫টি জেলা। প্রতিটি কমিটিকে ৫টি জেলার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অভিজ্ঞতার আলোকে কমিটির সদস্যরা আলাদা রিপোর্ট তৈরি করবেন। পরে বিটিআরসি ওইসব রিপোর্টের ভিত্তিতে গ্রাহক ও অপারেটরদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নির্দেশনা দেবে। বিটিআরসি জানায়, দেশে ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা বাড়লেও তারা প্রায়ই উচ্চমূল্যের পাশাপাশি ধীরগতি নেট প্রাপ্তি, নেটওয়ার্ক সমস্যা, কল ড্রপ (কানেকশনের সময় কল কেটে যাওয়া), সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও ব্যবহারের চেয়ে বেশি টাকা কেটে নেয়ার বিষয়ে অভিযোগ করে আসছেন। তাই পর্যবেক্ষণ টিম ইন্টারনেট এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করবে। গ্রাহকদের অভিযোগের বিষয়ে এরইমধ্যে অভিযোগ বক্স স্থাপন করেছে বিটিআরসি। ‘কমপ্লেইন ফর ইন্টারনেট’ নামে গত এপ্রিলে একটি অভিযোগ বক্স স্থাপন করা হয়। মোবাইল সেবার মান পর্যবেক্ষণ প্রসঙ্গে বিটিআরসির সচিব ও মুখপাত্র সরওয়ার আলম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, এ উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সংবেদনশীল ও জটিল। একদিকে রয়েছে মোবাইল অপারেটর অন্যদিকে রয়েছেন সাধারণ গ্রাহক। মোবাইল অপারেটররা হাজার হাজার কোটি টাকা এ খাতে বিনিয়োগ করেছেন। তাই হঠাৎ করে তাদের বিরুদ্ধে কোন অবস্থান নেয়া যাবে না। আবার গ্রাহক স্বার্থের বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, পর্যবেক্ষণ টিম টেকনিক্যাল বিষয়টি দেখার পাশাপাশি গ্রাহকদের নানা অভিযোগ খতিয়ে দেখবে। তাদের প্রতিবেদনের পর বিটিআরসি একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে। এদিকে বিটিআরসির গঠন করা ১ম পরিদর্শন দলে আছেন-প্রতিষ্ঠানটির এসএস শাখার পরিচালক লে.কর্নেল মোহাম্মদ জুলফিকার, সহকারী পরিচালক সনজিব কুমার সিংহ, ইএন্ডও বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ কামাল হোসেন ফরাজী, বাংলালিংকের কিউওএস জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার শামসি উল্লা চৌধুরী ও বিটিআরসির কম্পিউটার অপারেটর আমিনুল ইসলাম। এ কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে-ঠাকুরগাঁও, ঝিনাইদহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও হবিগঞ্জ। ২য় পরিদর্শন দলে আহ্বায়ক হিসেবে আছেন এসএস শাখার পরিচালক লে.কর্নেল মোহাম্মদ জুলফিকার। অপর সদস্যরা হলেন-বিটিআরসির এসএস শাখার সহকারী পরিচালক মাহদী আহমদ, ইএন্ডও এর সহকারী পরিচালক আসফাক আহমেদ, বিটিআরসির বগুড়া মনিটরিং স্টেশন এর সহকারী পরিচালক ইসরাফিল হক, গ্রামীণফোনের সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার মোবাসিন হাসান ও বিটিআরসির রেকর্ড কিপার আবদুর রাজ্জাক জিন্নাহ। এ কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সিলেট, বগুড়া, পটুয়াখালী, ময়মনসিংহ ও রংপুর। তৃতীয় টিমের আহ্বায়ক বিটিআরসির এসএস শাখার পরিচালক লে.কর্নেল মোহাম্মদ জুলফিকার। অপর সদস্যরা হলেন- এসএস শাখার সহকারী পরিচালক ইশতিয়াক আরিফ, এলএল শাখার সহকারী পরিচালক বেলায়েত হোসেন, বিটিআরসির চট্টগ্রাম মনিটরিং স্টেশনের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ কামরুল হাসান ভু্‌ঞা, রবি আজিয়াটা লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার মোস্তফা ইমরান বারী ও বিটিআরসির পিএবিএক্স অপারেটর সজল মণ্ডল। এ কমিটির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে রাজধানী ঢাকাসহ চাঁদপুর, রাজশাহী, খুলনা ও কক্সবাজার। পরিদর্শন টিমের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে সেবার মানের ওপর দেশের ছয়টি মোবাইল অপারেটরের র‌্যাঙ্কিং বা অবস্থান প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে বিটিআরসির। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে বিটিআরসির জারি করা নির্দেশনায় মোবাইল ফোন অপারেটরদের প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে সেবার মান-সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা বলা আছে। উল্লেখ্য বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান টেলিটকসহ মোট ৬টি মোবাইল ফোন অপারেটর সেবা দিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ চলতি বছরের জুন মাসের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের মোট গ্রাহক সংখ্যা ১২ কোটি ৬৮ লাখ ৬৬ হাজার। আর ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা চার কোটি ৮৩ লাখ ৪৭ হাজার। ছয়টি মোবাইল অপারেটরের মধ্যে সিটিসেল ছাড়া থ্রি-জি সেবা দিচ্ছে পাঁচটি অপারেটর। থ্রি-জি সেবার মান নিয়েও গ্রাহকদের রয়েছে নানান অভিযোগ। অনেক জায়গায় থ্রি-জির মূল্য কাটা হলেও গ্রাহকদের দেয়া হচ্ছে টু-জি সেবা।

অর্ণব ভট্টএক্সক্লুসিভ
কল ড্রপ, হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, সেবার উচ্চমূল্য, তরঙ্গ ব্যবহারের যথার্থতা ও ইন্টারনেটের ধীরগতি-এ ৫ ইস্যুতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ নিয়ে গঠন করা হয়েছে ৬ সদস্যের তিনটি কমিটি। গ্রাহকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও কারিগরি টিমসহ মোবাইল অপারেটরদের প্রতিনিধি নিয়ে গ্রাম থেকে শহরে যাচ্ছেন তারা।...