2
নিজস্ব প্রতিবেদক ।
বাংলাদেশের অর্থনীতি যে গতিতে এগুচ্ছে তাতে স্বল্পন্নোত দেশের তালিকা বা এলডিসি থেকে বেরুনোর সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে ২০১৮ সালের মধ্যেই। এই অর্জনকে পরবর্তী ৬ বছর টেকসই করতে পারলে ২০২৪ সাল নাগাদ এই তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে আসতে পারবে বাংলাদেশ।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।
এর পরেও আরো তিন বছর অর্থাৎ ২০২৭ সাল পর্যন্ত এলডিসির সুবিধা পাওয়া যাবে। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা আঙ্কটাড এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে এই প্রতিবেদন তুলে ধরে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান মূল প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন। সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও গবেষণা পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বক্তব্য রাখেন।

মূল প্রবন্ধে তৌফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মাথাপিছু আয়, মানব সম্পদ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা এই তিনটি মানদ- রয়েছে। বাংলাদেশ এরইমধ্যে মানবসম্পদ উন্নয়নে জোর দিয়েছে। আর্থিক ভঙ্গুরতা সূচকে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জন করেছে। মাথাপিছু আয়েও বাংলাদেশ লক্ষ্য অর্জনের কাছাকাছি রয়েছে। এলডিসি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নের ওপর জোর দিতে হবে। উন্নয়নের গতি ধরে রাখতে হলে বাংলাদেশকে দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে একটি হলো উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং দ্বিতীয়টি হলো অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তন। কারণ আমাদের রফতানি মাত্র দু-একটি পন্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বাংলাদেশ কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে শিল্প ভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগুলেও কর্মসংস্থানে এই পরিবর্তন আনতে হবে। রপ্তানিপণ্যের বহুমূখীকরণ ও একইসঙ্গে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে অনেক ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। সে ঝুঁকিগুলো মোকাবেলায় আমাদের যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। বর্তমান বিশ্বে এলডিসি ভুক্ত দেশগুলোতে যে পরিমাণ বৈদেশিক অর্থের প্রবাহ প্রয়োজন সেটি হচ্ছে না। শুধু ২০১৪ সালে এলডিসি ভূক্ত দেশগুলোতে বৈদেশিক সহায়তা প্রবাহ কমেছে ১২ দশমিক ২শতাংশ। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বড় বিনিয়োগ আকর্ষণের সাথে সাথে ছোট ও মাঝারি বিনিয়োগ আকর্ষণে মনযোগ দিতে হবে। গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ, বিজ্ঞান ও গবেষণায় গুরুত্ব বাড়াতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সাম্প্রতিক আমাদের যে মাথাপিছু আয় বেড়েছে তাতে রেমিটেন্সের অবদান সবচেয়ে বেশি। ভবিষ্যতে সেটা নাও থাকতে পারে।

তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধি নির্ভর উন্নয়ন ধারণা বর্তমান যুগে সঠিক নয়। আইনের শাসন, মানব উন্নয়ন সবকিছু বিবেচনায় নিতে হবে। যারা বলেন, ‘উন্নয়ন আগে না গণতন্ত্র’ তারা জ্ঞানত তথ্য বিকৃত করছেন। বিশ্বের অনেক দেশ এই ধারণায় এগিয়ে পরে ছিটকে পরেছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ইথিওপিয়া প্রায় ১০ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি করছিল। তারাও তথাকথিত গণতন্ত্রের নামে উন্নয়ন করছিল। কিন্তু আঞ্চলিক সংকটকে গুরুত্ব দেয়নি। এ কারণে তারা আজ পিছিয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, আমরা কেন ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে খুশি হচ্ছি, আমাদের ৮ থেকে ১০ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হবার লক্ষ্য ছিলো, সে বিষয়ে কেউ কিছু বলছে না। তিনি আরো বলেন, মধ্যম মধ্য আয়ের দেশ বলে কিছু নেই। বিশ্বব্যাংকের তালিকা অনুযায়ী নিম্নমধ্য আয় ও উচ্চমধ্য আয়ের দেশের তালিকায় ভাগ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে নিম্ন মধ্য আয়ের দেশের তালিকায় উঠে এসেছে। ১ হাজার ২৬ ডলার মাথাপিছু আয় হলেই এই তালিকায় উঠে আসা যায়। উচ্চ মধ্য আয়ের দেশে উঠে আসছে এই আয় চারগুণ বৃদ্ধি করতে হবে। অতএব যারা বলে বাংলাদেশ মধ্যম মধ্য আয়ের দেশে উপনীত হবে সেটি হতে পারে দেশীয় সৃষ্ট মানদণ্ড।
খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2016/12/241.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2016/12/241-300x261.jpgশিশির সমরাটজাতীয়
নিজস্ব প্রতিবেদক । বাংলাদেশের অর্থনীতি যে গতিতে এগুচ্ছে তাতে স্বল্পন্নোত দেশের তালিকা বা এলডিসি থেকে বেরুনোর সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে ২০১৮ সালের মধ্যেই। এই অর্জনকে পরবর্তী ৬ বছর টেকসই করতে পারলে ২০২৪ সাল নাগাদ এই তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে আসতে পারবে বাংলাদেশ।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের। এর...