87477_thumb_f1
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিশ্বের ১২২টি দেশের পণ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাজার-সুবিধা (জিএসপি) নবায়ন করা হলেও সেই তালিকায় আসেনি বাংলাদেশ। দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর)-এর ওয়েবসাইটে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এখনও ওই সুবিধা স্থগিত থাকার কথা জানানো হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের সার্বিক শ্রম অধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে সরকারকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে পোশাক শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতে অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশের আরও অগ্রগতি প্রয়োজন। জিএসপি পুনর্বহালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী সরকারের বাণিজ্য সচিবসহ ঢাকার কর্মকর্তারা এ খবরে হতাশা প্রকাশ করেছেন। একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পণ্য রপ্তানি করে যুক্তরাষ্ট্রে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হিসাবে, বাংলাদেশের আড়াই হাজার কোটি ডলারের রপ্তানির মধ্যে প্রায় ২১ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রে যায়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী পণ্যের জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে দেয়ার আহ্বানে সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ক্যারোলিন বি ম্যালোনি। দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাতে গতকাল ম্যালোনি প্রশ্ন তুলেন কেন মার্কিন বাজারে বাংলাদেশকে ওই সুবিধা দেয়া হবে না? ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ যেন জিএসপি ফিরে পায়, সে লক্ষ্যে ককাসের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তিনি মার্কিন প্রশাসনের কাছে ইস্যুটি উত্থাপনের আশ্বাসও দিয়েছেন। তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ড ও রানা প্লাজা ধসে সহসস্রাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার নিশ্চিতে বিধিবদ্ধ যোগ্যতার প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ২০১৩ সালের ২৭শে জুন বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংগঠন ‘আমেরিকান অর্গানাইজেশন অব লেবার-কংগ্রেস ফর ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (এএফএল-সিআইও) এর আবেদনে বিষয়টি আমলে নেয় মার্কিন প্রশাসন। জিএসপির আওতায় বাংলাদেশ পাঁচ হাজার ধরনের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধায় রপ্তানি করতে পারত। ২০১২ সালে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা এই সুবিধার আওতায় তিন কোটি ৪৭ লাখ ডলারের তামাক, ক্রীড়া সরঞ্জাম, চিনামাটির তৈজসপত্র ও প্লাস্টিক সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করেন, যাতে তারা শুল্ক ছাড় পান ২০ লাখ ডলারের মতো। অবশ্য বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য ‘তৈরী পোশাক’ ওই সুবিধা পেত না। বাংলাদেশের জিএসপি স্থগিত হওয়ার মাসখানেকের মাথায় যুক্তরাষ্ট্রের টেড প্রেফারেন্স এক্সটেনশন আইনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের জিএসপি ব্যবস্থাই স্থগিত হয়ে যায়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সমপ্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস জিএসপি প্রোগ্রাম নবায়নের প্রস্তাব অনুমোদন করে এবং প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত ২৯শে জুন এ সংক্রান্ত আইনে সই করেন। এতে বলা হয়, বন্ধ হওয়ার সময় থেকে অর্থাৎ, ২০১৩ সালের ৩১শে জুলাই থেকেই এ সুবিধা কার্যকর বলে ধরা হবে এবং এর মেয়াদ হবে ২০১৭ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত। আগে যে ১২২টি দেশ ও অঞ্চল যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এই শুল্কমুক্ত সুবিধা পেত, এখনও তাদের ক্ষেত্রেই এ সুবিধা প্রযোজ্য। সার্ক জোটের দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তান এই তালিকায় থাকলেও বাংলাদেশকে ফেরানো হয়নি। অথচ জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র যে ১৬টি শর্ত দিয়েছিল, তার প্রায় সবই বাংলাদেশ পূরণ করেছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। শর্ত পূরণের অগ্রগতি জানিয়ে গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরে প্রতিবেদনও পাঠায় বাংলাদেশ। অবশ্য তার আগে যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার বলেছে, শর্ত পূরণে বাংলাদেশ ‘কিছু অগ্রগতি’ দেখালেও তা জিএসপি ফিরে পাওয়ার জন্য ‘যথেষ্ট নয়’। ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের দেয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী গত জানুয়ারিতে ‘ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ’ (ইউএসটিআর) বাংলাদেশের বিষয়ে পর্যালোচনা করেছে। সেখানে বাংলাদেশের ব্যাপারে তারা একটি সিদ্ধান্তেও উপনীত হয়। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ গত বছর পোশাক শ্রমিকদের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিতে অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তা ইস্যুগুলোতে উন্নতি করলেও, আরও অগ্রগতির প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করে ইউএসটিআর।
বাংলাদেশের আহ্বানের পক্ষে মার্কিন কংগ্রেসম্যান: মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ক্যারোলিন বি ম্যালোনি। নিউ ইয়র্কের দ্বাদশ কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধি এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্য। ‘কংগ্রেশনাল বাংলাদেশ ককাস’-এর সদস্যও তিনি। গতকাল তার সঙ্গে দেখা করেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন। বাংলাদেশ দূতাবাস সেই সাক্ষাতের বিষয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে কংগ্রেস সদস্য ক্যারোলিন বি মেলোনির ম্যানহাটন কার্যালয়ে আধ-ঘণ্টা বৈঠকটি স্থায়ী হয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি, নারীর ক্ষমতায়ন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বহুমুখী সহযোগিতার বিষয়সহ গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন। জবাবে ম্যালোনি বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং দেশটি সন্ত্রাসবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। কেন বাংলাদেশকে মার্কিন বাজারে জিএসপি সুবিধা দেয়া হবে না? যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ যাতে জিএসপি সুবিধা ফিরে পায়, সে লক্ষ্যে ককাসের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তিনি মার্কিন প্রশাসনের কাছে ইস্যুটি উত্থাপনের ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন।

তালুকদার বাবুলজাতীয়
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিশ্বের ১২২টি দেশের পণ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাজার-সুবিধা (জিএসপি) নবায়ন করা হলেও সেই তালিকায় আসেনি বাংলাদেশ। দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর)-এর ওয়েবসাইটে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এখনও ওই সুবিধা স্থগিত থাকার কথা জানানো হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের সার্বিক শ্রম অধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে সরকারকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে পোশাক শ্রমিকদের...