1_338445
শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টা। সিএনজি অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন পিকআপ ভ্যানচালক শাহজাহান। হঠাৎ অটোর সামনে ফিল্মি স্টাইলে মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়ায় দুই ব্যক্তি। সঙ্গে সঙ্গে হার্ডব্রেক কষেন অটোর ড্রাইভার। শাহজাহান গাড়ি থেকে নেমে রাস্তা ছেড়ে দিতে বলেন তাদের। অমনি তাকে লক্ষ্য করে রিভলবার দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি। তারপর মোটরসাইকেল নিয়ে বীরদর্পে দু’ব্যক্তির প্রস্থান।
ঘটনাটি ঘটে হাটহাজারীর মদনহাট ‘নামার বাজারে’। যিনি রিভলবার হাতে গুলি করেন তিনি ফতেপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সরোয়ার হোসেন প্রকাশ মাসুদ। তার সঙ্গে ছিলেন তার সঙ্গী মনসুর। এ সময় বাজারের শত শত লোক আতংকে দিগি¦দিক ছোটাছুটি শুরু করেন।
গুলিবিদ্ধ শাহজাহান ফতেপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সানাউল্লাহপাড়ার আবদুর রহমান চৌকিদার বাড়ির মৃত শাহ আলমের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শনিবার রাতে তার ভাই মো. শাহাদাৎ হোসেন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, চিকিৎসক বলেছেন চারটি গুলিই শাহজাহানের শরীর ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। তবে তার গুলিবিদ্ধ চোখটি নষ্ট হওয়ার আশংকা রয়েছে।
পুলিশ ও গুলিবিদ্ধ শাহজাহানের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পিকআপ ভ্যান চালক শাহজাহান শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ডিউটি (গাড়ি চালিয়ে) শেষ করে সিএনজি অটোরিকশায় মদনহাট বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিল। মদনহাট ‘নামার বাজারে’ ইকবাল মার্কেটের কাছে পৌঁছলে তার অটোর সামনে মোটরসাইকেলে এসে দাঁড়ান স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মাসুদ ও তার সঙ্গী মনসুর। তারা রাস্তার মাঝখানে আড়াআড়িভাবে মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকায় অটো থামাতে বাধ্য হন ড্রাইভার। শাহজাহান গাড়ি থেকে নেমে মাসুদ ও তার সঙ্গীকে রাস্তা থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য বলেন। এতে ক্ষীপ্ত হয়ে মাসুদ কোমরে থাকা রিভলবার দিয়ে শাহজাহানকে আঘাত করে রক্তাক্ত করে সটকে পড়েন। বাজারের লোকজন শাহজাহানকে উদ্ধার করে পাশের গ্রিন হেলথ হসপিটালে নিয়ে যায়। চিকিৎসা শেষে রাত সাড়ে বারোটার দিকে বাড়ি যাওয়ার পথে মাসুদ ও মনসুর আবারও একই স্টাইলে তার গতিরোধ করে। এক পর্যায়ে মাসুদ তাকে রিভলবার ঠেকিয়ে পরপর চারটি গুলি করে। একটি গুলি তার চোখের নিচে, একটি মাথায়, একটি কানে ও অপরটি হাতে বিদ্ধ হয়। এ সময় আতংকে বাজারের শত শত লোক দিগ্বিদিক পালাতে শুরু করে। ঘটনার পরপর মাসুদ ও তার সঙ্গী দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যায়।
কয়েকজন লোক শাহজাহানকে প্রথমে ফতেপুর গ্রিন হেলথ হসপিটালে ভর্তি করান। তার অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে শাহজাহান চমেক হাসপাতালের ২৮নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসক।
বাজারের লোকজন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানায়, প্রথমবার শাহজাহানকে মারধর বা গুলির উদ্দেশে মাসুদ রাস্তার মাঝখানে মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়ায়নি। মূলত ওটা ছিল তার বেপরোয়া স্বভাব। তাকে সরে দাঁড়াতে বলার কারণেই সে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহজাহানকে মারধর করে। পরে আবারও রাস্তায় গতিরোধ করে তাকে গুলি করে।
মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরে ওই এলাকা থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মাসুদের ছোট ভাই মো. শহিদুল আলম প্রকাশ সুমনকে আটক করেছেন। এ ঘটনায় মাসুদকে প্রধান আসামি করে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মাসুদ ও সুমন ফতেপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সানাউল্লাহপাড়া খয়রাতি কোম্পানি বাড়ির সৈয়দ মিয়ার ছেলে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ওই ইউনিয়নের ইসলামিয়া হাট এলাকার মৃত মফিজুর রহমানের ছেলে মো. মনসুর ও একই এলাকার মো. সৈয়দ মিয়ার ছেলে মো. শহিদুল আলম প্রকাশ সুমন।
ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে জানতে এ প্রতিবেদক একাধিকবার ফতেপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সরোয়ার হোসেন প্রকাশ মাসুদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইসমাইল পিপিএম (বার) ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে মাসুদ ভ্যানচালক শাহজাহানকে গুলি করেছে। তার (মাসুদ) ভাইকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আটকে অভিযান অব্যাহত আছে। মাসুদের বিরুদ্ধে থানায় চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানান ওসি।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/1_338445.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/1_338445-300x300.jpgতালুকদার বাবুলজাতীয়
শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টা। সিএনজি অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন পিকআপ ভ্যানচালক শাহজাহান। হঠাৎ অটোর সামনে ফিল্মি স্টাইলে মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়ায় দুই ব্যক্তি। সঙ্গে সঙ্গে হার্ডব্রেক কষেন অটোর ড্রাইভার। শাহজাহান গাড়ি থেকে নেমে রাস্তা ছেড়ে দিতে বলেন তাদের। অমনি তাকে লক্ষ্য করে রিভলবার দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি। তারপর মোটরসাইকেল নিয়ে বীরদর্পে...