1438496891
নিমপাতা এমন একটি প্রাকৃতিক উপাদান যেটি যুগ যুগ ধরেই চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। জীবাণু ও সংক্রমণ প্রতিরোধে এই পাতা অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এটি ছত্রাকনাশক, ব্যাকটেরিয়া রোধক, ভাইরাস রোধক, কীটপতঙ্গ বিনাশে, ম্যালেরিয়া নিরাময়ে, দন্ত চিকিৎসায়, ব্যথামুক্তি ও জ্বর কমাতে, জন্ম নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়। শুধু স্বাস্থ্য নয়, রূপচর্চায়ও নিমপাতার উপকারী গুণের কথা সকলের জানা। এটি ত্বকের ময়লা পরিষ্কারের পাশাপাশি ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। কাজেই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং ত্বকের যত্নে আমাদের সকলেরই নিমপাতা ব্যবহার করা উচিত।

জেনে নিন নিমপাতার নানা গুণের কথা-

স্বাস্থ্য সুরক্ষায়

অ্যাজমা উপশমে নিমপাতা
নিম পাতার তেল অ্যাজমা উপশমে অনেক বেশি জরুরী একটি উপাদান। নিম পাতার তেল কাশি, মিউকাস এবং জ্বর পর্যন্ত কমানোর ক্ষমতা রাখে। নিম পাতা ধুয়ে খাওয়ার অলিভ অয়েলে দিয়ে গরম করুন। পাত্রটি আলাদা করে ৩ দিন রেখে দিন। এরপর নিমপাতা তুলে নিয়ে তেলটুকু আলাদা করুন। প্রতিদিন সামান্য পরিমাণে এই তেল খেলে অ্যাজমা উপশম হবে।

পেটের নানা সমস্যা সমাধানে
অনেকে মাঝে মধ্যই পেটের সমস্যায় ভুগে থাকেন। এই ধরনের সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য নিমপাতা এবং নিম গাছের বাকল ধুয়ে পরিষ্কার করে পানিতে ফুটিয়ে নিয়ে এই পানি দিনে ২ বার পান করুন। পেটের সমস্যা একেবারেই দূর হবে। এটি ম্যালেরিয়া এবং চামড়ার অনেক সমস্যার সমাধানেও সাহায্য করে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে
নিমপাতার রস রক্তের চিনির মাত্রা কমাতে বেশ উপযোগী। তাই ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিন নিমপাতার রস খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

দাঁত ও দাঁতের মাড়ির সমস্যা সমাধানে
অনেক দিন আগে থেকেই দাঁত মাজার উপকরণ হিসেবে নিম গাছের ডাল ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে অ্যান্টিফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল নামে এমন কতকগুলো উপাদান রয়েছে যা দাঁত এবং মাড়ির সুরক্ষায় কাজ করে।

ত্বকের সুরক্ষায়

ত্বকের যত্নে
নিমপাতার রস টোনার হিসেবে প্রতিদিন ব্যবহার করলে ব্রণ, ত্বকের দাগ, ত্বকের রুক্ষতা এবং ব্ল্যাকহেডস দূর হয়। ২০-২৫ টি নিমপাতা ২ গ্লাস পানিতে ফুটিয়ে নিন। পানি ততোক্ষণ পর্যন্ত ফোটাবেন যতোক্ষণ পর্যন্ত নিমপাতার সবুজ রঙ বিবর্ণ না হয়ে যায়। এরপর এই পানি ছেঁকে একটি বোতলে সংরক্ষণ করুন। প্রতিদিন গোসলের পানিতে ১০০ মি.লি. পরিমাণ নিমপাতার পানি মিশিয়ে গোসল করলে চামড়ার ইনফেকশন দূর হবে। সেইসঙ্গে ব্রণ এবং হোয়াইট হেডসও দূর হবে।

স্কিন টোনার
স্কিন টোনার হিসেবেও ব্যবহার করা যায় নিমপাতা। প্রতিরাতে তুলার নরম বল নিমপাতা সিদ্ধ পানিতে ভিজিয়ে মুখে লাগালে ব্রণ, ক্ষত চিহ্ন, মুখের কালো দাগ দূর হবে।

চুলের যত্নে
নিম সেদ্ধ পানি একইভাবে গোসলের সময় চুলে ব্যবহার করলে খুশকি এবং অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধ হবে।

ফেসপ্যাক হিসেবে
১০টি নিমপাতা ও একটি ছোট কমলার খোসা ছাড়িয়ে অল্প পরিমাণ পানিতে সিদ্ধ করুন। এবার উপকরণগুলো মসৃণ করে পেস্ট তৈরি করে এতে অল্প পরিমাণ মধু ও দুধ মিশিয়ে নিন। ফেসপ্যাকটি সপ্তাহে তিনবার ব্যবহার করলে ত্বকের ব্রণ, কালো দাগ, চেহারায় ক্ষতের গর্ত দূর হবে।

কন্ডিশনার হিসেবে
কন্ডিশনার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইলে নিমপাতা, সিদ্ধ পানি ও মধুর একটি পেস্ট তৈরি করে চুলে লাগান। এটি ভালো কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। এছাড়া খুশকি দূর করতেও ভূমিকা রাখে নিমপাতা।

এছাড়া শরীরে ব্যথা হলে, কেটে গেলে, পুড়ে গেলেও নিমপাতা ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। নিমের শিকড় এবং নিমগাছের বাকলও ঔষধি গুণসম্পন্ন। চামড়ার ইনফেকশন, ব্রণ, চুলকানি ও এলার্জি রোধেও নিমপাতা কার্যকর। তাই ত্বক ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রতিনিয়ত নিমপাতা ব্যবহারের বিকল্প নেই।

তথ্যসূত্র: ওয়েবসাইট

তাহসিনা সুলতানাস্বাস্থ্য কথা
নিমপাতা এমন একটি প্রাকৃতিক উপাদান যেটি যুগ যুগ ধরেই চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। জীবাণু ও সংক্রমণ প্রতিরোধে এই পাতা অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এটি ছত্রাকনাশক, ব্যাকটেরিয়া রোধক, ভাইরাস রোধক, কীটপতঙ্গ বিনাশে, ম্যালেরিয়া নিরাময়ে, দন্ত চিকিৎসায়, ব্যথামুক্তি ও জ্বর কমাতে, জন্ম নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়। শুধু স্বাস্থ্য নয়, রূপচর্চায়ও নিমপাতার উপকারী গুণের কথা...