প্রধান প্রতিবেদক ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ স্বাধীনতা বিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী শক্তি আর কখনোই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে দেশের উন্নয়ন ও প্রগতির ধারাকে যেনো বাধাগ্রস্ত করতে না পারে এ জন্য দেশাসীকে সতর্ক করে দিয়েছেন।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

তিনি বলেন, যারা মানবতা বিরোধী কাজ করেছে, যারা এ দেশের মানুষকে হত্যা করেছে, লুটপাট করেছে, অগ্নিসংযোগ করেছে, মা-বোনদের ইজ্জত লুটেছে এবং তাদের পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে- এই খুনিরা যেনো আর কোনদিন ক্ষমতায় আসতে না পারে, দেশকে আর যেনো ধ্বংস করতে না পারে।

শেখ হাসিনা বলেন, আপনাদের কাছে আমার আহ্বান- যারা স্বাধীনতায়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এবং দেশের উন্নয়নে বিশ্বাস করে, তারা যেনো অন্তত এ ব্যাপারে সজাগ থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল সমাবেশে সভাপতির ভাষণে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এতিমের টাকা চুরি করে, দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে, যারা দেশের মানুষকে হত্যা করে, আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ায়, ২৭ জন আইন শৃঙ্খলা-রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যকে হত্যা করেছে এদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আর যে উন্নয়নের কাজ আমরা করেছি, সাধারণ মানুষের কাছে সেটা তুলে ধরতে হবে। আমাদের নেতা-কর্মী যারা আছে তাদের আমি এই আহ্বান জানাবো-আপনারা গ্রামে-গঞ্জে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় আমাদের উন্নয়ন কর্মকান্ডকে জনগণের কাছে তুলে ধরবেন।

ভবিষ্যতে যে কাজ আমরা করবো সেটাও মানুষের কাছে তুলে ধরবেন উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, আমরা মেট্রো-রেল তৈরি করছি, কর্নফুলী নদীর তলদেশে টানেল তৈরি করছি, মানুষের জন্য ঘর-বাড়ি তৈরি করে দিচ্ছি। একটা মানুষও আজকে কুঁড়েঘরে বসবাস করে না। জাতির পিতার গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প এবং তাঁর সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং গৃহায়ণ তহবিল থেকে এসব বাড়িঘর নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় তাঁর সরকারের শাসনে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের তথ্য তুলে ধরে উন্নয়নের এই ধারাটা যেনো বজায় থাকে তা নিশ্চিত করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

সমাবেশে জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এবং বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এমপি এবং লে. কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতা বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মীর্জা আজম এমপি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহ এমপি এবং দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসনাত, আওয়ামী যুব লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস এমপি বক্তৃতা করেন।

কবি নির্মলেন্দু গুণ ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের প্রেক্ষাপট নিয়ে তার বিখ্যাত কবিতা ‘স্বাধীনতা শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’ অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করে শোনান।

২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো জাতির পিতার ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব ইতিহাসের অমূল্য প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সংস্থাটির ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্ত করায় এবারের ৭ মার্চ এক ভিন্ন উদ্দীপনা নিয়ে আসে সকলের মাঝে। সেদিনের সেই শ্রেষ্ঠ বিকেলের গল্পই যেন পুনরায় শুনতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এদিন হাজির হয়েছিলেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরের সারথীরা।

দুপুর ১২টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মূল মঞ্চ থেকে ঘোষণা দিয়ে জানানো হয় সমাবেশস্থল পূর্ণ হয়ে গেছে। তাই মূল সমাবেশস্থলের বাইরেও আরো অনেক লোক সমাগমের সৃষ্টি হয়।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, শাহবাগ, নীলক্ষেত, দোয়েল চত্বরসহ বিভিন্ন পথে যেনো জনস্রোত নামে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অভিমুখে। শাহাবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবন এলাকা, টিএসসি, বাংলা একাডেমি, দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট, প্রেসক্লাব সংলগ্ন এলাকাগুলোও কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

লাল-সবুজের টি-শার্ট ও মাথায় ক্যাপ পরে পায়ে হেঁটে বা পিকআপ ভ্যান, ট্রাক ও বাসযোগে বিভিন্ন সড়ক ধরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে দলে দলে ছুটে আসেন ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন এবং আশপাশের জেলাগুলো থেকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থক, আর জাতি- ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণী-পেশার সর্বস্তরের জনগণ।

রং-বেরংয়ের পোশাক পরে আসে দলে দলে লোক, প্রায় প্রতিটি নেতা-কর্মীর হাতে শোভা পায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি ও স্লোগান-সম্বলিত নানান রঙয়ের ব্যানার, ফেস্টুন, প্লাকার্ড এবং আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক ছোট ছোট নৌকার প্রতিকৃতি।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে আয়োজিত এ সমাবেশ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের মধ্যদিয়ে শুরু হয়। সমাবেশ পরিচালনায় ছিলেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এবং সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল। দুপুর আড়াইটায় পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলো পাঠের মাধ্যমে বিশাল সমাবেশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

এর আগে জনসভা মঞ্চে সকাল থেকেই বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, দেশাত্মবোধক গান বাজানো হয়। জনসভা শুরুর আগে দলের এমপি মমতাজ সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2018/03/106.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2018/03/106-300x300.jpgজান্নাতুল ফেরদৌস মেহরিনজাতীয়
প্রধান প্রতিবেদক । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ স্বাধীনতা বিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী শক্তি আর কখনোই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে দেশের উন্নয়ন ও প্রগতির ধারাকে যেনো বাধাগ্রস্ত করতে না পারে এ জন্য দেশাসীকে সতর্ক করে দিয়েছেন।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের। তিনি বলেন, যারা মানবতা বিরোধী কাজ করেছে, যারা এ দেশের মানুষকে হত্যা করেছে, লুটপাট...