90209_x1
যে স্কুলে দিনের আলোয় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিদ্যা অর্জনে মরিয়া। সে স্কুলের মাঠে রাতের আঁধারে বসে মাদকের হাট। রাস্তার পাশের এ হাটে প্রকাশ্যে ইয়াবা, ফেনসিডিল, বিয়ার, গাঁজা আর হেরোইন বিক্রি চলছে অবাধে। স্থানীয় থানা পুলিশের সোর্সের পুত্রের নেতৃত্বে চার মাদক কারবারি এখানে প্রতিরাতে মাদকের হাট বসায়। আর সন্ধ্যা হলেই মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। এ মাদকের হাট চলে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। স্থানীয় অনেকে বিদ্যালয়ের মাঠে মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে প্রতিবাদ করতে গিয়ে মাদক কারবারিদের হাতে নাজেহাল হয়েছেন। কোন প্রতিকার না হওয়ায় ক্রমেই ফুলেফেঁপে উঠছে এখানকার মাদক ব্যবসা। উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া এলাকার পশ্চিমগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বসছে এ হাট।
এলাকাবাসী জানায়, পূর্ব চনপাড়া এলাকার পশ্চিমগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতি রাতেই বসে মাদকের হাট। রূপগঞ্জ থানা পুলিশের সোর্স আফসারের মাদক কারবারি ছেলে কাইল্লা ফারুক আর সহযোগী বাইট্রা সেলিম, অপু আর তপু বসায় এ মাদকের হাট। তারা স্কুল মাঠে আর ছাদে বসে মাদকসেবীদের কাছে ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ নানা ধরনের নেশাজাত সামগ্রী বিক্রি করে। প্রতিদিন সন্ধ্যা হলেই বিভিন্ন এলাকা থেকে বিশেষ করে রাজধানী থেকে মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। এ চার মাদক কারবারির রয়েছে ১৫ জনের মতো শিশু সেলসম্যান। আর তাদের সমস্ত মাদক সরবরাহ করেন চনপাড়া এলাকার মাদকের ডিলার স্থানীয় ইউপি সদস্য বজলুর ভাই বোতল মিজু, স্বপন আর সাহাবুদ্দিন। সুরক্ষিত বাউন্ডারি দেয়ালের ভেতরে কোন প্রকার উটকো ঝামেলা না থাকায় মাদকসেবীদের আনাগোনা দিন দিন বাড়ছে এখানে। স্থানীয়রা থানা পুলিশের কাছে অভিযোগও দায়ের করেছেন। কোন প্রতিকার না হওয়ায় ক্রমেই এখানকার মাদক ব্যবসা ফুলেফেঁপে উঠছে। অভিযোগ রয়েছে, কাইল্লা ফারুকের পিতা আফসার মিয়া থানা পুলিশের সোর্স হওয়ায় পুলিশ এ মাদক কারবারিকে ধরতে অনীহা দেখাচ্ছে। এ ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে কাইল্লা ফারুক আর তার সহযোগীরা দেদারছে মাদক বিক্রি করে যাচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় লাখ টাকার মাদক বিক্রি হয় এ হাটে। তাদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী সোচ্চার হলেও ভয়ে কেউ নাম প্রকাশ করতে চাননি। আর মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়তে গিয়ে কয়েকজন নাজেহাল হয়েছেন। স্কুলে মাদক বিক্রি করতে নিষেধ করায় গত ২৯শে আগস্ট মাদক কারবারিরা স্কুলের নৈশপ্রহরীকে পিটিয়ে আহত করেছে। স্কুলমাঠে মাদক বিক্রির বিষয়টি স্কুলের দপ্তরি আরিফুল আলম স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে জানালে তার বাড়িঘরে হামলা, লুটপাটসহ তাকে মারাত্মকভাবে পিটিয়ে আহত করে মাদক ব্যবসায়ীরা। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মাজেদা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, মাঠে মাদক ব্যবসা আর দপ্তরিকে মারধরের বিষয়টি নৈশপ্রহরী আমাকে জানিয়েছে। আমি পুলিশকে জানিয়েছি। এর বেশিতো আমার করার কিছু নেই। রূপগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শফিকুল ইসলাম সরকার ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, আমরা থানা পুলিশকে সুপারিশ করেছি দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। আর কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এড. গোলজার হোসেন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, চনপাড়া বস্তি এলাকা হওয়ায় এখানে মাদকসহ সকল ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড হয়ে থাকে। জনগণ সচেতন হলেই কেবল স্কুল থেকে মাদক ব্যবসা নির্মূল করা সম্ভব। এসব ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, মাদক ব্যবসাতো এমনিতে অপরাধ। তার উপর স্কুলে ব্যবসা করাতো আরও অন্যায়। সোর্সের ছেলে বলে তাকে ধরা হচ্ছে না এমন অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি বলেন, তাদের গ্রেপ্তারের জন্য কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছে। স্কুলের দপ্তরিকে মারধরের ঘটনায় মামলা রুজু করার প্রস্তুতি চলছে।

অর্ণব ভট্টএক্সক্লুসিভ
যে স্কুলে দিনের আলোয় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিদ্যা অর্জনে মরিয়া। সে স্কুলের মাঠে রাতের আঁধারে বসে মাদকের হাট। রাস্তার পাশের এ হাটে প্রকাশ্যে ইয়াবা, ফেনসিডিল, বিয়ার, গাঁজা আর হেরোইন বিক্রি চলছে অবাধে। স্থানীয় থানা পুলিশের সোর্সের পুত্রের নেতৃত্বে চার মাদক কারবারি এখানে প্রতিরাতে মাদকের হাট বসায়। আর সন্ধ্যা হলেই মাদকসেবীদের...