আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।
ইরান এবং সৌদি আরবের মধ্যে যুদ্ধের আশংকা করা হচ্ছে। লেবাননকে ঘিরে তাদের মধ্যে এই আশংকা তীব্র হচ্ছে। এই আশংকা এবং দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন বিবিসি’র পল অ্যাডামস। খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

অ্যাডামসের মতে, ইরান আর সৌদি আরবের মধ্যে যদি যুদ্ধ বাধে, সেটা হবে একটা বিরাট বিপর্যয়। কেউই আসলে মনে করে না, এই দুই দেশের মধ্যে এরকম যুদ্ধের সম্ভাবনা আছে। কিন্তু তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত দিনে দিনে বাড়ছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্য-জুড়ে বিভিন্ন দেশে ইরান আর সৌদি আরব কার্যত এক ছায়া যুদ্ধে লিপ্ত।

কী নিয়ে দ্বন্দ্ব

মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতা আর প্রভাব বিস্তার নিয়ে সৌদি আরব আর ইরানের দ্বন্দ্ব চলছে গত প্রায় চল্লিশ বছর ধরে। ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র দুটি স্থান মক্কা এবং মদিনা হচ্ছে সৌদি আরবে। কাজেই সৌদি আরব মনে করে তারা ইসলামি বিশ্বের অবিসংবাদিত নেতা। কিন্তু ১৯৭৯ সালে ইরানে এক ইসলামি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এলেন আয়াতুল্লাহ আল খামেনি। এটি সৌদি আরবকে খুবই শংকিত করে তুললো। হঠাত্ তারা দেখলো, ইসলামি বিশ্বে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী এক রাষ্ট্রের উত্থান ঘটছে। গত ৪০ বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিরাট অংশজুড়ে ইরানের প্রভাব দিনে দিনে বেড়েছে। ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, ওমান, ইয়েমেন এসব দেশ যেভাবে ইরানের প্রভাব বলয়ে চলে গেছে বা যাচ্ছে, তাতে সৌদিরা রীতিমত আতংকিত। এর সঙ্গে ইসলামের বহু পুরোনো দ্বন্দ্ব শিয়া-সুন্নি বিরোধ তো আছেই। সৌদি আরব সুন্নি আর ইরান শিয়া ইসলামের পৃষ্ঠপোষক। কাজেই সৌদি-ইরান ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের একটা ধর্মীয় মাত্রাও আছে। ইয়েমেনে গত কয়েক বছর ধরে চলছে গৃহযুদ্ধ। সৌদি আরব লড়ছে এক পক্ষে, ইরান হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষে। সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট আসাদকে সমর্থন করছে ইরান। সেখানে তারা সৈন্য এবং অস্ত্রশস্ত্র পাঠিয়েছে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। অন্যদিকে সৌদি আরব সমর্থন যোগাচ্ছে বিদ্রোহীদের। তারা অর্থ, অস্ত্র, প্রশিক্ষণ সবই দিচ্ছে বিদ্রোহীদের।

ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর ইরানের প্রভাব অনেক বেড়ে গেছে। সৌদি আরবও সমপ্রতি ইরাকে তাদের প্রভাব বাড়াতে সক্রিয়। এখন লেবাননকে ঘিরেও শুরু হয়েছে তীব্র ইরান-সৌদি দ্বন্দ্ব। লেবানন এমনিতেই খুব জটিল রাষ্ট্র। সেখানে শিয়া, সুন্নি এবং খ্রিষ্টানদের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। ইরান বহু বছর ধরে লেবাননের শিয়া দল হিজবুল্লাহ এবং তাদের মিলিশিয়াকে নানাভাবে সমর্থন জুগিয়ে চলেছে। হিজবুল্লাহ লেবাননের সরকারের অংশ। কিন্তু একইসঙ্গে তারা সিরিয়া, ইয়েমেন এবং ইরাকে লড়াই করছে। যেভাবে ইরান এবং হিজবুল্লাহর প্রভাব বলয় বাড়ছে তাতে সৌদি আরব রীতিমত শংকিত। তাহলে এখন কী ঘটবে? সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, এমবিএস নামে যাকে ডাকা হয়, তিনিই কার্যত এখন দেশ চালান। সামপ্রতিককালে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে খুবই কড়া ভাষায় কথা বলছেন। নানা হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করছেন, ইরান মুসলিম বিশ্বে একক আধিপত্য কায়েম করতে চাইছে। বেশিরভাগ মানুষের বিশ্বাস, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানই আসলে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে পদত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সাদ হারিরি সৌদি রাজধানী রিয়াদ থেকেই হঠাত্ পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে চমকে দিয়েছিলেন সবাইকে।

সন্দেহ করা হচ্ছে, সৌদি আরব আসলে লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে আগ বাড়িয়ে একটা যুদ্ধ বাধাতে চাইছে। তাদের উদ্দেশ্য লেবাননে হিজবুল্লাহকে দুর্বল করা এবং ইরানের প্রভাব খর্ব করা। এটা সত্যি হলে তা খুবই বিপজ্জনক খেলা হবে। সৌদি আরব আর ইরানের চলমান স্নায়ুযুদ্ধে এক নতুন বিপজ্জনক লড়াই শুরু হয়ে যেতে পারে লেবাননকে ঘিরে।
খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের। সূত্র : বিবিসি।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2017/11/816.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2017/11/816-300x300.jpgশিশির সমরাটজাতীয়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক । ইরান এবং সৌদি আরবের মধ্যে যুদ্ধের আশংকা করা হচ্ছে। লেবাননকে ঘিরে তাদের মধ্যে এই আশংকা তীব্র হচ্ছে। এই আশংকা এবং দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন বিবিসি’র পল অ্যাডামস। খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের। অ্যাডামসের মতে, ইরান আর সৌদি আরবের মধ্যে যদি যুদ্ধ বাধে,...