89154_34
দীর্ঘ ১৭ বছর পর পরিবর্তন আনা হচ্ছে জাতীয় টেলিযোগাযোগ নীতিমালায়। সময় ও চাহিদার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রায় ঢেলে সাজানো হচ্ছে নীতিমালাকে। এজন্য রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হয়েছে। ৩০শে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নীতিমালা তৈরির কাজ শেষ করবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। সদ্য নিয়োগ পাওয়া মন্ত্রী তারানা হালিম এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন এ নিয়ে। নীতিমালার ওপর অনলাইনে মতামত নেয়ার কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। গত ১২ই আগস্ট মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ৭ দিনের জন্য নীতিমালার খসড়া দিয়ে মতামত চাওয়া হয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রায় ৫০টি মতামত দিয়েছেন বিভিন্ন সেক্টরের সংশ্লিষ্টরা। বেশির ভাগ মতামতই খুব গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী। নীতিমালায় স্থানীয়ভাবে টেলিযোগাযোগ পণ্য উৎপাদনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক বাজার, গ্রাহক অধিকার সুরক্ষা, সাইবার স্পেস ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ২০২১ সালের মধ্যে সকল ইউনিয়নে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নীতিমালার খসড়ায় দেশে প্রথমবারের মতো বেতার তরঙ্গ বিষয়ক আলাদা ইনস্টিটিউট স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি টেলিযোগাযোগ খাতে মানবসম্পদ উন্নয়নে পৃথক আরও একটি ইনস্টিটিউট স্থাপনেরও লক্ষ্য রয়েছে। লক্ষ্যমাত্রায় আরও রয়েছে ২০২১ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ এবং ২০২৫ সালের মধ্যে ৯০ শতাংশ মানুষকে ইন্টারনেট সেবার আওতায় আনা। মানসম্মত সেবা না পেলে গ্রাহক কিভাবে তার প্রতিকার পাবেন সে বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করা হচ্ছে। টেলিযোগাযোগ নীতিমালার রোডম্যাপ প্রসঙ্গে সিনিয়র সহকারী সচিব রায়হান আকতার গতকাল ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ১১ই আগস্ট টেলিকম নিয়ে নিয়মিত কাজ করেন এমন সাংবাদিকদের সংগঠন টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের (টিআরএনবি) সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে মতামত নেয়া হয়েছে। সেসব মতামত এরই মধ্যে মন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। তিনি নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে ওয়েবসাইটে সব শ্রেণী, পেশার মানুষের মতামত নেয়া শেষ হয়েছে। এখন মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন এমটব ও বিভিন্ন এসোসিয়েশন যেমন আইসিএক্স, এনটিটিএন, পিএসটিএন ও আইজিডব্লিউ এর প্রধানদের সঙ্গে ২টি বৈঠক করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট থাকায় ওই দুটি বৈঠকে মন্ত্রী নিজে উপস্থিত থাকবেন। এরপর সবার মতামত নিয়ে একটি আলাদা সুপারিশমাালা তৈরি করা হবে। পরে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে মতামত চেয়ে চিঠি পাঠানো হবে। তাদেরকে সর্বোচ্চ ১০ দিন সময় বেঁধে দেয়া হবে। এরপরই নীতিমালা চূড়ান্ত করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, বাংলাদেশ নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হলে স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত সেবা নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলবে। যে কারণে নতুন নীতিমালায় স্যাটেলাইট ব্যবস্থাপনা এবং প্রাপ্ত সেবা সম্পর্কিত বেশ কিছু বিষয় সংযুক্ত করা হচ্ছে। প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার নীতির পাশাপাশি বেতার তরঙ্গ বা স্পেকট্রাম সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের দিক নির্দেশনা থাকছে নীতিমালায়। কোন প্রতিষ্ঠানের কাছে অব্যবহৃত বেতার তরঙ্গ থাকলে তা গ্রহণযোগ্য উপায়ে ফেরত নিয়ে কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া নতুন নীতিমালায় সাধারণ মানুষের সাইবার জগতে অবাধ ও নিরাপদে কাজ করার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য এ ব্যবস্থাপনায় দেশে ডাটা সার্ভার তৈরি, তথ্যের নিরাপত্তা এবং সাইবার অপরাধ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়গুলো সুনির্দিষ্ট করা হচ্ছে। ১৯৯৮ সালে সরকার প্রথম টেলিযোগাযোগ নীতিমালা তৈরি করলেও পরবর্তীতে ২০০১ সালে টেলিযোগাযোগ আইন করা হয়। সময়ের প্রয়োজন অনুভব করলেও দীর্ঘ সময়ে এ নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েও কোন সরকার তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। সাবেক টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী দায়িত্ব নেয়ার পরপরই নীতিমালা পরিবর্তনের ঘোষণা দেন। কিন্তু এ নিয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ৭ই মে দেশের বর্তমান টেলিযোগাযোগ নীতিমালা সংশোধন করার ঘোষণা দেন। এরপরই নড়েচড়ে বসে মন্ত্রণালয়। তারা বিষয়টি নিয়ে দু্রত কাজ শুরু করেন।

হাসন রাজাএক্সক্লুসিভ
দীর্ঘ ১৭ বছর পর পরিবর্তন আনা হচ্ছে জাতীয় টেলিযোগাযোগ নীতিমালায়। সময় ও চাহিদার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রায় ঢেলে সাজানো হচ্ছে নীতিমালাকে। এজন্য রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হয়েছে। ৩০শে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নীতিমালা তৈরির কাজ শেষ করবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। সদ্য নিয়োগ পাওয়া মন্ত্রী তারানা হালিম এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন...