আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা ।
‘আড়াইহাজারে সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ’ শিরোনামে দৈনিক ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের প্রকাশের পর আড়াইহাজারে সেই সাব-রেজিস্ট্রার এসহাক আলী মণ্ডলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।
আজ রবিবার দুপুরে ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ রেজিস্ট্রেশন (আই জি আর) খান মো. আব্দুল মান্নান তাকে বরখাস্ত করেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা রেজিস্টার (ডিআর) সাবিকুন্নাহার সাব রেজিস্ট্রার এসহাক আলী মণ্ডলকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে নিশ্চিত করেন।

তিনি ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, রবিবার সকালেই সাব-রেজিস্ট্রার এসহাক আলী মণ্ডলকে আড়াইহাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। তার পরিবর্তে রূপগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার রেজাউল করিম বকশিকে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়। ওইদিন দুপুরে ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ রেজিস্ট্রেশন (আই জি আর) খান মো. আব্দুল মান্নান আড়াইহাজারে সরেজমিন পরিদর্শন আসেন। দলিল লেখকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করে ঘুষ গ্রহণের প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হয়ে তাকে বরখাস্ত করেন।

এদিকে দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন ভূইয়া ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, একজন স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার পোস্টিং দেয়ার জন্য আই জি আর এর কাছে দাবি করা হয়। তিনি তাদের দাবি দ্রুত পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন। এরপর দলিল লেখকদের কলম বিরতির স্থগিত ঘোষণা করেন।

প্রসঙ্গত, সরকারি অফিসে বসে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার এসহাক আলী মণ্ডলের ঘুষ গ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, টেবিলের উপর কম্পিউটার। রয়েছে মুঠোফোন ও ফাইলের স্তুপ। প্রতিটি ফাইলে স্বাক্ষর করার আগে টাকা গুনে ড্রয়ারে রাখেন তিনি। পাশ থেকে একজন ফাইল এগিয়ে দিচ্ছেন। এর মধ্যে একজন টাকা কম দেয়ায় টাকা ছুড়ে দিচ্ছেন। পরে আবার তার চাহিদা মত টাকা ড্রয়ারে রাখছেন। ড্রয়ারে টাকার অনেকগুলো নোট জমার পর নিজ হাতে তিনি প্যান্টের পকেটে গুজে রাখছেন। সরকারি কক্ষে বসে এভাবেই ঘুষের কারবার চালাচ্ছেন আড়াইহাজার উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার এসহাক আলী মণ্ডল।

দলিল লেখক সাজ্জাদ পারভেজ ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ব্যাংক মরগেজ চুক্তিনামা আগে কোনো টাকা লাগতো না। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার এসহাক মণ্ডল চুক্তিনামা সাক্ষর করতে এখন ১০ হাজার টাকা থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেন। পাওয়ার, পারিবারিক বন্টন দলিলে চালান বাদে সরকারকে কোনো ফি দিতে হতো না। কিস্তু এ সাব-রেজিস্ট্রার এসব দলিল থেকে সর্বনিম্নে ১০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা ঘুষ নিতেন। আগে হেবা দলিলে সরকারী ৬৪০ টাকা দিলে সাব রেজিস্টার সাক্ষর করতেন। এসহাক মণ্ডলকে হেবা দলিলে স্বাক্ষর করাতে দুই হাজার টাকা থেকে বিশ হাজার টাকা ঘুষ নেন। কোনো দলিল লেখক ঘুষ নিয়ে তার সঙ্গে দরকষাকষি করলে তিনি দলিল ছুড়ে ফেলে দিয়ে নানা অশালীন বাক্য প্রয়োগ করেন।

তিনি ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে আরো জানান, সপ্তাহের দুই তিন দিন অফিস করে আড়াইহাজার থেকে নয় থেকে দশ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে গেলেও তার চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে। তার অতিরিক্ত চাহিদার কারণে জমি বেচাকেনা কমে গেছে।সাধারণ দলিল লেখকরা দলিল করাতে না পেয়ে অন্য পেশায় যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2018/03/229.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2018/03/229-300x300.jpgশিশির সমরাটএক্সক্লুসিভ
আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা । ‘আড়াইহাজারে সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ’ শিরোনামে দৈনিক ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের প্রকাশের পর আড়াইহাজারে সেই সাব-রেজিস্ট্রার এসহাক আলী মণ্ডলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের। আজ রবিবার দুপুরে ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ রেজিস্ট্রেশন (আই জি আর) খান মো. আব্দুল মান্নান তাকে...