1441205853
পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, ২০০৪ সনের ইউএনডিপির আর্থিক সহায়তায় পাগমার্কের ভিত্তিতে জরীপ অনুযায়ী বাঘের সংখ্যা ৪৪০টি পাওয়া গিয়েছিল। পাগমার্ক পদ্ধতির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এটি বাঘ জরিপের বিজ্ঞান-সম্মত পদ্ধতি নয়। সম্প্রতি Strengthening Regional Cooperation for Wildlife Protection প্রকল্পের আওতায় বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে সুন্দরবনে ক্যামেরা ট্র্যাপিং-এর মাধ্যমে বাঘের জরিপ করা হয়েছে। জরিপের ফলাফল অচিরেই প্রকাশ করা হবে। বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে মন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু জানান, বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী সুন্দরবনে হরিণের সংখ্যা আনুমানিক ১ থেকে দেড় লাখ এবং কুমিরের সংখ্যা আনুমানিক ২০০ থেকে ২৫০টি এবং বানরের সংখ্যা প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।

মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের এক প্রশ্নের উত্তরে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী সংসদকে জানান—বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে গ্রামীণ পরিবেশের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে নানাবিধ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ইটভাটা গ্রামীণ পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ। বায়ুদূষণ, কৃষি জমি বিনষ্ট ও বন উজাড় জনিত গ্রামীণ পরিবেশ দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ হলো ইটভাটা। প্রযুক্তিগত উত্কর্ষতা আনয়নের মাধ্যমে ইটভাটা সৃষ্ট পরিবেশ দূষণ লাঘবে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সরকার ইট ভাটা নীতিমালা-২০০৮ প্রণয়ন করেছে। গত ২০ নভেম্বর ২০১৩ সালে ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ জারী করে যা ১ জুলাই ২০১৪ তারিখ থেকে বলবত্ করা হয়। নতুন আইনে পরিবেশবান্ধব ও জালানী সাশ্রয়ী পদ্ধতিতে ইট প্রস্তুত এবং দুই ফসলি উর্বর কৃষি জমির মাটি ব্যবহার করে ইট প্রস্তুত নিষিদ্ধ করা হয়। উক্ত আইন বাস্তবায়িত হলে সারা দেশের গ্রামীণ পরিবেশের উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধিত হবে ফলে বায়ু দূষণ হ্রাস পাবে এবং কৃষি জমি রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। ইতিমধ্যে দেশে ৩ হাজার ৪৭৪টি ইটভাটা আধুনিক প্রযুক্তিতে পরিচালিত হচ্ছে যা দেশের মোট ইটভাটার ৫০ দশমিক ১৫ শতাংশ।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রী জানান—বনজ সম্পদের ওপর আহরণ চাপ কমানো, বায়ুদূষণ হ্রাস, স্বাস্থ্য ঝুঁকি হ্রাস এবং গ্রিন হাউজ গ্যাসের নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্যে প্রকল্পের আওতায় সমগ্র দেশে মোট ৫ লাখ বন্ধু চুলা স্থাপন করা হয়েছে। গ্রামীণ পরিবেশ উন্নয়নে গৃহীত এ প্রকল্পটির ২য় পর্ব বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ২য় পর্বেও এ প্রকল্পে দেশে আরও ৪ লাখ বন্ধু চুলা স্থাপন করা হবে।

হাওড় অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিবেশ অধিদফতর নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জানিয়ে মন্ত্রী পদক্ষেপগুলো উল্লেখ করেন। পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে—হাওর এলাকার জলাভূমি সংরক্ষণ ও বনায়ন, পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর আবাস সংরক্ষণ, মত্স্য অভায়াশ্রম প্রতিষ্ঠা, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে মাছের চলাচলের পথ পুনঃরুদ্ধার, জ্বালানি কাঠের চাহিদা কমাতে উন্নত চুলা প্রচলন, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কর্মকা্ল প্রতিহতকরণ, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ বিষয়ে ভিসিজি সদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদান ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি।

চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের উত্তরে পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলায় মোট ৩৪৪ টি তরল বর্জ্য নির্গমনকারী প্রতিষ্ঠান চালু আছে। এগুলোর মধ্যে মোট ২১০টি শিল্প প্রতিষ্ঠানে তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) রয়েছে। ৩৯টি প্রতিষ্ঠানের ইটিপি নির্মাণাধীন আছে। ৯৫টি প্রতিষ্ঠানে ইটিপি নির্মাণে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুস্তম আলী ফরাজীর এক প্রশ্নের উত্তওে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সময়ে শব্দ দূষণ পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের প্রেক্ষাপট একটি মারাত্মক পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। শব্দদূষণ মানব স্বাস্থ্যের জন্য একটি নীরব ঘাতক হিসেবে চিহ্নিত। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে তাই পরিবেশ অধিদফতর কর্তৃক পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর আওতায় শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ জারীসহ নানাবিধ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। শব্দদূষণ বিধিমালা ২০০৬ মোতাবেক যানবাহনের সাইলেন্সার পাইপ থেকে ৭ দশমিক ৫ মিটার দূরত্বে শব্দের মাত্রা ৮৫ ডেসিবল নির্ধারণ করা আছে।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, যানবাহনের চালকগণ আইন ভঙ্গ করে অতিরিক্ত মাত্রার হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার মাধ্যমে শব্দ দূষণ করে থাকে। সহনীয় মাত্রার চেয়ে এ সকল শব্দ মানব স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বিধিমালাটি বাস্তবায়নের জন্য সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯ এর আওতায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ২০০৬ অন্তর্ভুক্ত না থাকায় বর্তমানে পরিবেশ অধিদফতরের ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা/দণ্ড আরোপ করা যাচ্ছে না। বিষয়টি আইনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় কর্তৃক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বস্তুত শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদফতর, বিআরটিএ এবং ট্রাফিক বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগেই হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারকারী বা শব্দের মানমাত্রা অতিক্রমকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হয়ে আসছে। বিগত ৫ বছরে ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোতে এই সংস্থাগুলোর যৌথভাবে পরিচালিত অভিযানে পাঁচ শতাধিক গাড়ির বিরুদ্ধে প্রায় ৫ লাখ টাকা জরিমানাসহ গাড়িগুলো হতে মানমাত্রা অতিক্রমকারী হর্ন খুলে নেয়া হয়েছে।

ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর প্রশ্নের উত্তরে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বলেন—সুন্দরবনের হরিণ ও বাঘের শিকারীদের এবং পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ এর শাস্তির বিধান বৃদ্ধি করা হয়েছে। উক্ত আইনের আওতায় বাঘ শিকারীর ২ থেকে ৭ বছরের জেল এবং ১ থেকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। তিনি বলেন, বিগত ১৬ অক্টোবর ২০১৪, ৬ জুন, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখ ৩ জন ও ২৬ আগস্ট ২০১৫ তারিখে ২ জন বন্যপ্রাণী পাচারকারী গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বন্যপ্রাণী পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহের সমন্বয়ে ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিট গঠন করা হয়েছে।

বন্যপ্রাণী পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহের সমন্বয়ে ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিট গঠন করা হয়েছে জানিয়ে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আরও বলেন, র্যাবের নেতৃত্বে ট্রাক্সফোর্স গঠন করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী পাচার রোধে ইন্টারপোলের সহায়তা নেয়া হচ্ছে। বন্যপ্রাণী পাচারকারীদের চিহ্নিত করার লক্ষ্যে বন-সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় জনগণের সহায়তায় বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। বাঘ ও হরিণ পাচারকারীদের তত্পরতা রোধে বেঙ্গল টাইগার কনজারভেশন একটিভিটি শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমানের অপর এক প্রশ্নের উত্তরে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় বনায়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এই প্রকল্পের আওতায় ৫০ হেক্টর ম্যানগ্রোভ বন সৃষ্টি করা হচ্ছে।

হীরা পান্নাজাতীয়
পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, ২০০৪ সনের ইউএনডিপির আর্থিক সহায়তায় পাগমার্কের ভিত্তিতে জরীপ অনুযায়ী বাঘের সংখ্যা ৪৪০টি পাওয়া গিয়েছিল। পাগমার্ক পদ্ধতির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এটি বাঘ জরিপের বিজ্ঞান-সম্মত পদ্ধতি নয়। সম্প্রতি Strengthening Regional Cooperation for Wildlife Protection প্রকল্পের আওতায় বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে সুন্দরবনে ক্যামেরা ট্র্যাপিং-এর...