94991_152
সিম কেনার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে সরকার। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও যাচ্ছেতাই ব্যবহার বন্ধে এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এজন্য একজন গ্রাহক ২০টির বেশি সিম কিনতে পারবেন না। আবার একটি অপারেটরের সর্বোচ্চ ৫টি সিম কেনা যাবে- এমন প্রস্তাবনা তৈরি করেছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি ওই প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের অনুমোদন পেলেই তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে মন্ত্রণালয় ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (বিটিআরসি)। একটি জাতীয় পরিচয় পত্র দিয়ে প্রায় ১২ হাজার সিম কেনার তথ্য পাওয়ার পর মূলত নড়েচড়ে বসে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টরা। এরপরই সিম কেনার ক্ষেত্রে লাগাম পরানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর আগে বিষয়টি নিয়ে মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে একজন গ্রাহক ২৫টি পর্যন্ত সিম কিনতে পারেন বলে সুপারিশ পাঠানো হয় মন্ত্রণালয়ে। একইসঙ্গে যে কোন একটি অপারেটরের সর্বোচ্চ ৫টি সিম কেনার সুপারিশ থাকে তাদের পরামর্শে। শেষ পর্যন্ত মন্ত্রণালয় ২৫টির পরিবর্তে ২০টি সিমের সংখ্যা নির্ধারণ করে সুপারিশ চূড়ান্ত করে। এ প্রসঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব রায়হান আখতার ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, সিম কেনার প্রস্তাবনা তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে সংখ্যা নির্ধারণ করে দেয়ার পর মন্ত্রণালয় এ নিয়ে নির্দেশনা জারি করবে। একই প্রসঙ্গে বিটিআরসির সচিব ও মুখপাত্র সরওয়ার আলম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে কথা বলে বিটিআরসি ২৫টি পর্যন্ত সিম কেনার সুপারিশ দেয় মন্ত্রণালয়কে। একজন ব্যক্তি শুধু নিজের জন্য সিম কেনন না। তার বাবা, মা, ভাই, বোন ও স্ত্রী সন্তানদের নামেও কেনেন। অনেক সময় দেখা যায় প্রত্যন্ত গ্রামে থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্যও তাদের সিম কিনতে হয়। বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ২৫টি সিমের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ১ কোটি সিমের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে ৭৫ ভাগ সিমের নিবন্ধন ভুয়া প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে দেখা যায়, একটি ভুয়া পরিচয় পত্র দিয়েই নিবন্ধন করা হয়েছে ১৪ হাজার ১১৭টি সিম। অপর দুটি পরিচয় পত্র দিয়ে নিবন্ধন করা হয়েছে ১১ হাজার ৩২৮ ও ৬ হাজার ১৭৯টি সিম। এর মধ্যে বিভিন্ন অপারেটরের সিম রয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। তিনি ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, কর্পোরেট প্রয়োজনীয়তায় অনেক সময় একাধিক সিম রাখেন কেউ কেউ। কিন্তু ১৪ হাজারতো কোনভাবেই থাকতে পারে না। তিনি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটকসহ ৬টি অপারেটরের গ্রাহকের হাতে থাকা প্রায় ১৩ কোটি সিমের মধ্যে এক কোটির তথ্য সরকার হাতে পেয়েছে। এর মধ্যে সঠিকভাবে নিবন্ধন হয়েছে মাত্র ২৩ লাখ ৪৩ হাজার ৬৮০টি। বিটিআরসি’র মতে একজনের একাধিক সিম থাকায় কত সিম সক্রিয় আর কতটা নিষ্ক্রিয় তা বের করা কঠিন। যার কারণে এখনও অনেক অপরাধের আড়ালে কলকাঠি নাড়ায় মোবাইল ফোন। সেসব ঠেকাতেই এবার সিম কেনায় কঠোর হতে হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে আগামী নভেম্বর থেকে বায়োমেট্রিক ডেটা (আঙুলের ছাপ) নিয়ে সিম নিবন্ধনের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। মোবাইল অপারেটররা নিজেদের গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে এ পদ্ধতি চালু করবে। ১৬ই ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তা কার্যকর করা হবে। সংশ্লিষ্টরা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, চূড়ান্তভাবে এ পদ্ধতি শুরু হলে প্রাধান্য পাবে ফেক আইডির বিপরীতে সিম নিবন্ধনকারীরা এবং সঠিক এনআইডির বিপরীতে অস্বাভাবিকভাবে সিম নিবন্ধনকারীরা। এ সম্পর্কিত তথ্যগুলো এনআইডি, মোবাইল অপারেটর ও কিছু ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ে থাকবে। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামনে আরও কর্মযজ্ঞ হাতে নেবো। মানুষকে সচেতন করবো। অসচেতনতার দায়ভার নিয়ে চললে চলবে না। ব্লেইম গেম আর নয়। ডিসেম্বরের মধ্যে সবাইকে নিজের নিরাপত্তায় নিশ্চিন্ত হতে হবে।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/94991_152.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/94991_152.jpgনৃপেন পোদ্দারএক্সক্লুসিভ
সিম কেনার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে সরকার। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও যাচ্ছেতাই ব্যবহার বন্ধে এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এজন্য একজন গ্রাহক ২০টির বেশি সিম কিনতে পারবেন না। আবার একটি অপারেটরের সর্বোচ্চ ৫টি সিম কেনা যাবে- এমন প্রস্তাবনা তৈরি করেছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি ওই প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর...