GREFTAR-1
নাশকতা পরিকল্পনার অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় তিন নেতাসহ ১৩ জনকে। গতকাল সোমবার দুপুরে পল্লবীর একটি বাড়িতে পুলিশ আকস্মিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ গোলাম পরওয়ার ও কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক হারুন অর রশিদ রয়েছেন বলে জানা গেছে। বাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ ২০টি শক্তিশালী বোমা, লাঠি এবং রাষ্ট্রবিরোধী বেশ কিছু বই জব্দ করেছে। ওদিকে চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক আহসান উল্লাহকে গতকাল কারাফটক থেকে ফের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেপ্তার ও বোমা উদ্ধারের ঘটনাকে ‘সাজানো নাটক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ। আজ দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশ কর্মকর্তারা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানিয়েছেন, পল্লবী থেকে গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিরা নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে গোপন বৈঠক করছিলেন। তাতে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা। বৈঠক থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয় দেশব্যাপী নাশকতা চালাতে। এ সংবাদ জেনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের টিম মিরপুর বিভাগের পুলিশ নিয়ে বাড়িটি ঘিরে ফেলে। সেখান থেকে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের আগে বেশ কয়েকজন অন্যত্র সরে গেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় বিস্ফোরক আইন এবং নাশকতা পরিকল্পনার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। গ্রেপ্তার করা জামায়াত নেতারা ঈদের আগে গার্মেন্ট সেক্টরে বেতন-বোনাস বকেয়া থাকার দাবি তুলে অস্থিরতা তৈরির পরিকল্পনা করছিলেন বলে পুলিশ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন।
পুলিশের মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ মিয়া ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, “দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের ১০ নম্বর সড়কের ৪ নম্বর বাড়িটির তৃতীয় তলায় পুলিশের মিরপুর বিভাগ ও গোয়েন্দা পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। এ বাড়িটি জামায়াত নেতা হারুন অর রশিদের। অভিযানকালে বাসা থেকে ২০টি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। পাওয়া গেছে বেশ কিছু লাঠি ও জিহাদি বই। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কারাবন্দি নেতাদের মুক্ত করা এবং সরকারকে ‘বেকায়দায়’ ফেলতে গ্রেপ্তারকৃতরা নাশকতার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠকটি করছিলেন বলে জানা গেছে।” গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) সাজ্জাদুর রহমান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘জামায়াত নেতার বাড়িতে গ্রেপ্তারকৃতরা এর আগেও গোপন বৈঠক করেছেন। ঈদের আগে গার্মেন্ট সেক্টরে বেতন-বোনাস বকেয়া থাকার দাবি তুলে জামায়াত নেতারা বিভিন্ন কারখানায় অস্থিরতা তৈরির পরিকল্পনা করছিলেন। তাঁদের নাশকতার ছক জানতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের অনেকের বিরুদ্ধে পুরনো নাশকতার মামলাও আছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা বোমাগুলো পরীক্ষার জন্য বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।’
পুলিশ কর্মকর্তারা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানিয়েছেন, বৈঠকে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরাই এখন জামায়াতের সক্রিয় অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁদের পরিকল্পনায় ইতিমধ্যে অনেক নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান রাজশাহীর সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। খুলনা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বর্তমানে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অধ্যাপক হারুন অর রশিদও কেন্দ্রীয় নেতা। গ্রেপ্তার করা অন্যরা হলেন কাফরুল থানা জামায়াতের সভাপতি মো. তসলিম, জাহাঙ্গীর আলম, আবুল কালাম আজাদ, মো. মনসুর রহমান, জাকির হোসাইন, এ বি এম নুরুল্লাহ ওরফে মোহাম্মদউল্লাহ, আবুল হাশেম, মো. সাব্বির, মজিবর রহমান ভূইয়া ও আশরাফুল আলম ইকবাল।
পল্লবী থানার ওসি দাদন ফকির ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘গোপন বৈঠকে আরো কয়েকজন ছিল, যারা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে গেছে। সেখানে বোমা এবং লাঠির মজুদ দেখে বোঝা গেছে নাশকতার প্রস্তুতি চলছিল। বিশেষ ধরনের লাঠিগুলো কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে এ বাসায় আনা হয়েছে। আর জব্দ করা বোমাগুলো সাধারণ ককটেল বা হাতবোমা নয়। এগুলো আকারে বড় এবং দেখতে শক্তিশালী বলেই মনে হয়। হারুন অর রশিদের এ বাড়িতে আগেও গোপন বৈঠক হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।’
আহসান উল্লাহ ফের গ্রেপ্তার : চট্টগ্রাম থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানিয়েছেন চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক আহসান উল্লাহকে গতকাল ফের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জামিন নিয়ে গতকাল চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হওয়ার পরপরই কারাফটক থেকে সন্ধ্যায় তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। তাঁকে গত বছরের একটি গাড়ি ভাঙচুর মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ১৫ দিন আগে তিনি একবার জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। তখনও তাঁকে কারা ফটক থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জসীম উদ্দিন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ আহসান উল্লাহকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে। কারণ তাঁর বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের একটি গাড়ি ভাঙচুর মামলা ছিল। এ মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সাজানো নাটক : বোমাসহ কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে সাজানো নাটক বলে দাবি করেছে জামায়াতে ইসলামী। গত রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘অধ্যাপক মুজিবুর রহমান একটি বাসায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক করছিলেন। সেখান থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের গ্রেপ্তার করে। ঘরোয়া একটি বৈঠক থেকে জামায়াত নেতাদের এভাবে গ্রেপ্তার করা আইনের দৃষ্টিতে চরম অন্যায়। ১৩ জন নেতাকর্মীকে শুধু গ্রেপ্তারই করা হয়নি, বরং তাদের কাছে থেকে ২০টি বোমা পাওয়া গেছে বলে নাটক সাজানো হয়েছে।’ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মকবুল আহমাদ ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, জামায়াতকে নেতৃত্বশূন্য করতে ও একদলীয় শাসন কায়েমে এসব করা হচ্ছে। সরকারের জুলুম-নিপীড়নের প্রতিবাদে ও নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আজ দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান তিনি।

হাসন রাজাপ্রথম পাতা
নাশকতা পরিকল্পনার অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় তিন নেতাসহ ১৩ জনকে। গতকাল সোমবার দুপুরে পল্লবীর একটি বাড়িতে পুলিশ আকস্মিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ গোলাম পরওয়ার ও কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক হারুন অর রশিদ...