untitled-1_250083
মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালাহউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর আপিলের রায়ের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে ছিলেন চট্টগ্রামবাসীও। আপিলের রায় ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে ছিল এক ধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। ওই মামলার সাক্ষীরাও ছিলেন আতঙ্কে। কিন্তু গতকাল বুধবার সকালে আপিল বিভাগ সাকা চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা-শঙ্কা মুহূর্তেই উবে যায়। খুশিতে মেতে উঠেন সবাই। সাকার এই রায়ের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের প্রথম কোনো যুদ্ধাপরাধীর রায় আপিল বিভাগে নিষ্পত্তি হল।

বর্তমানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাকা চৌধুরী জাতীয় পার্টি ও বিএনপির আমলে মন্ত্রী ও মন্ত্রীর পদমর্যাদায় বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

আপিল বিভাগে মৃত্যুদণ্ড বহালের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাকা চৌধুরীর জন্মস্থান রাউজান এবং তাঁর সাবেক সংসদীয় এলাকা রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়িসহ পুরো চট্টগ্রামে আনন্দের বন্যা বইতে শুরু করে। যিনি যেখানে ছিলেন সেখানেই সাকার মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল-সমাবেশ ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। খুশিতে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করতে দেখা যায়।

গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে বুধবার সকাল ৮টা থেকে গণজাগরণ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা নগরের চেরাগিপাহাড় গোলচত্বরে জমায়েত হন। ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, সাকা চৌধুরীর ফাঁসি চাই’, ‘চট্টগ্রামের কুলাঙ্গার সাকা চৌধুরীর ফাঁসি চাই’-এ রকম বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগানে মুখরিত হয় ওই এলাকা। এক পর্যায়ে আসে আপিল বিভাগে সাকা চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার খবরটি। মুহূর্তের মধ্যে সেখানে সৃষ্টি হয় অন্যরকম পরিবেশ। করমর্দন, হাসি-খুশি, মিষ্টি বিতরণ, বাদ্য বাজিয়ে আনন্দ প্রকাশ করতে থাকেন মঞ্চের নেতা-কর্মীসহ উপস্থিত জনতা।

এ সময় চেরাগি পাহাড় মোড়ের ৫০০ গজ দূরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা কমান্ড, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিও মিছিল-সমাবেশ করে। সাকার ফাঁসির দাবিতে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে নারী-পুরুষ-শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। রায়ের খবরে সেখানেও মিষ্টি বিতরণ হয়েছে। এছাড়া রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, পটিয়া, হাটহাজারী উপজেলাসহ নগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ ওই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করে।

গণজাগরণ মঞ্চ, চট্টগ্রামের সমন্বয়কারী শরীফ চৌহান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘একাত্তরের ঘাতক সাকা চৌধুরীর আপিল বিভাগে ফাঁসির আদেশে চট্টগ্রামবাসী খুশি। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি অবিলম্বে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে তাকে ফাঁসির দড়িতে ঝোলানো হোক।’

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি চট্টগ্রাম বিভাগের সমন্বয়ক শওকত বাঙালি ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘কুলাঙ্গার সাকা চৌধুরীর ফাঁসি হলে চট্টগ্রামবাসী কলঙ্কমুক্ত হবেন। আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট।’

চট্টগ্রাম পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘সাকা যে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে তা আপিল বিভাগে প্রমাণিত হয়েছে। চট্টগ্রামবাসী এ নরঘাতকের ফাঁসি কার্যকর দেখার অপেক্ষায়।’

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নাগরিক অধিকার আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক রেজাউল করিম চৌধুরী ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত সাকা চৌধুরীকে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিল। ওই দুই সরকারের আমলে এই যুদ্ধাপরাধীর গাড়িতে জাতীয় পতাকা উড়েছিল। এর চেয়ে দুর্ভাগ্য আর কি হতে পারে!’

চট্টগ্রাম হাজী মুহম্মদ মহসিন কলেজের অধ্যাপক মো. ইদ্রিস ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘দীর্ঘ ৪৪ বছর পর হলেও সাকা চৌধুরীর ফাঁসির রায়ে আমরা খুশি। যত দ্রুত এই রায় কার্যকর হবে তত আগেই চট্টগ্রামবাসী কলঙ্কমুক্ত হবেন।’

বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ শরীফ ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘সাকা চৌধুরী চট্টগ্রামের কলঙ্ক। আপিল বিভাগে তাঁর ফাঁসির আদেশে চট্টগ্রামে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে।’

সাকা চৌধুরীর বাসভবন নগরীর গুডস হিলের সামনে তাঁর প্রতিবেশী আমজাদ হোসেন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘সাকার মতো কুলাঙ্গারের বাড়ির পাশে আমার বাড়ি হওয়ায় খুবই খারাপ লাগে। সাকার ফাঁসি হলে শুধু আমি না, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ খুশি হবে।’

রাউজান পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান দেবাশীষ পালিত ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘সাকা চৌধুরীর জন্মস্থান ও তাঁর গ্রামের বাড়ি রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় আজ (বুধবার) মিষ্টি বিতরণ হয়েছে। রাউজানে তাঁর এখন কোনো অস্তিত্ব নেই। তাঁর (সাকা) ফাঁসি হলে রাউজানবাসীর চেয়ে কেউ বেশি খুশি হবে না। কারণ সাকার অত্যাচারে সবাই অতিষ্ঠ ছিল।’

রাঙ্গুনিয়ার অধিবাসী সেক্টরস কমান্ডার ফোরাম চট্টগ্রাম বিভাগের সমন্বয়ক বেদারুল ইসলাম বেদার ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘সাকার মতো একাত্তরের এক কুলাঙ্গার আমাদের এলাকার এমপি ছিল তা ভাবতেও লজ্জা হচ্ছে, কষ্ট হচ্ছে। আপিলের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকায় রাঙ্গুনিয়াবাসীও খুশি।’

শুভ সমরাটস্বদেশের খবর
মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালাহউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর আপিলের রায়ের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে ছিলেন চট্টগ্রামবাসীও। আপিলের রায় ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে ছিল এক ধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। ওই মামলার সাক্ষীরাও ছিলেন আতঙ্কে। কিন্তু গতকাল বুধবার সকালে আপিল বিভাগ সাকা...