1442341602
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও ইন্টারনেট ব্যবহারকে ষষ্ঠ মৌলিক চাহিদা হিসাবে বিবেচনা করছে সরকার। তবে ইন্টারনেট ব্যবহারকে সহজলভ্য করার পাশাপাশি সাইবার অপরাধ দমনেও সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকারি সকল সেক্টরকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সকল সরকারি কর্মকর্তাকে যুক্ত থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে দেশের প্রতিটি জেলার ডিসি, এসপি, ইউএনও এসি (ল্যান্ড) এবং ওসিসহ অন্যান্য কর্মকর্তার প্রায় সবাই যুক্ত হয়েছেন ফেসবুকে। সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার ও অপরাধ ঠেকাতে সরকার হেল্পলাইনও চালু করেছে।

অপরদিকে সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত সকল অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে সকল থানাকে পুলিশ সদর দফতর থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্টের ব্যাপারে অভিযোগ থাকলে ০১৭৬৬-৬৭ ৮৮ ৮৮ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি জানিয়েছেন, সরকারের ‘সাইবার সিকিউরিটি ফোর্স’ নামে একটি বিভাগ রয়েছে। সেখানে যে কেউ সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত আভিযোগ করতে পারবে। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে।

অপরদিকে সাইবার হামলা প্রতিহত করতে আড়াই হাজার সরকারি কর্মকর্তাকে তথ্যপ্রযুক্তি পদ্ধতি (আইটি সিস্টেম) সুরক্ষার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু হয়েছে। এর বাইরে পালাক্রমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তাকে দেশে-বিদেশে সাইবার (ইন্টারনেট) নিরাপত্তা বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। একই সাথে সরকারের সকল গেজেটেড কর্মকর্তাকে ফেসবুকসহ সকল সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত থাকতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, দেশে অনলাইনভিত্তিক যোগাযোগের পরিধি বাড়ছে। সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে সাইবার হামলা বা সাইবার অপরাধ। বিকাশমান আইসিটির প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সাইবার অপরাধ। বিশেষ করে হ্যাকারদের আক্রমণের প্রধান টার্গেট ব্যাংকিং খাত। এসব পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সাইবার নিরাপত্তায় সরকার ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব তৈরি করছে। এই ল্যাবে অপরাধীদের চিহ্নিত করতে সব কিছুই থাকবে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সরকার বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)-এর মাধ্যমে ‘লেভারেজিং গ্রোথ, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড গভর্নেন্স (এলআইসিটি) প্রকল্পের’ আওতায় সাইবার নিরাপত্তায় প্রশিক্ষিত দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে উন্নত প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে।

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থায় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত মেধাবী আড়াই হাজার কর্মকর্তাকে সাইবার ক্রাইম ও এথিকাল হ্যাকিং আইএসও ২৭০০১ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া চলছে।

ইতিমধ্যে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও ভারতের নয়াদিল্লির ইএসআই ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে ৮৫ কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বাকিদের পর্যায়ক্রমে আমেরিকার জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এ প্রশিক্ষণে বিশেষ করে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) আইটি শাখায় কর্মরতদের এবং ব্যাংকের সার্ভারের আইটি সিস্টেমে কর্মরতদের বিশেষভাবে বেছে নেয়া হয়েছে। একই সাথে প্রত্যেক মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা থেকে আইটির ও ডাটা সার্ভারের দায়িত্বে থাকা দুইজন করে কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণের জন্য বাছাই করা হয়েছে।

পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, গত ৫ বছরে দেখা গেছে বিভিন্ন সময় অপরাধীরা ফেসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী প্রচারণা এবং পর্নো-অশালীন ছবি-ভিডিও প্রচার করে সামাজিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছে। এ কারণে পুলিশের সকল কর্মকর্তাকে ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্পৃক্ত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশের উচ্চ পর্যায় থেকে এসআই পর্যন্ত ৮০ শতাংশ কর্মকর্তা ফেসবুকে যুক্ত হয়েছেন। একই সাথে পুলিশের কাছ থেকে জনগণ যাতে দ্রুত আইনি সেবা নিতে পারে সে জন্য গুগল প্লে-স্টোরে পুলিশ সদর দফতরসহ সকল মেট্রোপলিটন পুলিশের অ্যাপস দেয়া হয়েছে। সে সকল অ্যাপস মোবাইলে ডাউনলোড করে নিলে জনগণ দ্রুত সাইবার অভিযোগে পুলিশকে জানাতে পারবে। তাছাড়া অনলাইনের বিভিন্ন ওয়েব পেজে পুলিশের সহযোগিতা নেয়ার সকল প্রয়োজনীয় নম্বর প্রচার করা হচ্ছে।

হীরা পান্নাজাতীয়
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও ইন্টারনেট ব্যবহারকে ষষ্ঠ মৌলিক চাহিদা হিসাবে বিবেচনা করছে সরকার। তবে ইন্টারনেট ব্যবহারকে সহজলভ্য করার পাশাপাশি সাইবার অপরাধ দমনেও সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকারি সকল সেক্টরকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সকল সরকারি কর্মকর্তাকে যুক্ত থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে...