92612_earshad
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচ এম এরশাদ বলেছেন, দেশে এখন প্রাণহীন গণতন্ত্র চলছে। সংবিধানের পাতায় গণতন্ত্র থাকলেও দেশে নেই। দেশ আজ দখলবাজ ও টেন্ডারবাজদের হাতে জিম্মি। যাদের ভোটে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে, আজ তাদের জমিজমা দখল করে নিচ্ছে। নারী-শিশুরাও হত্যার শিকার হচ্ছে। দেশের বিচার বিভাগের কোন স্বাধীনতা নেই। সুষ্ঠু বিচার না হওয়ার কারণে হত্যা, রাহাজানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুশাসন নেই। সবার কাছে বন্দুক, পিস্তল। গরুর হাটে গোলাগুলি হয়, প্রতিবাদ করার কেউ নেই। মিডিয়ায় সত্য বলার সুযোগ নেই। সাংবাদিকরা সত্য কথা লিখতে এবং টকশোতে বলতে পারছেন না, টিভিতে সঠিক ঘটনা দেখাতে পারছে না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে তিনি আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে সমর্থন দেয়ার আহ্বান জানান। সোমবার দুপুর ২টায় নগরীর শহীদ হাদিস পার্কে খুলনা জেলা জাতীয় পার্টির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খুলনা জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ও এরশাদের প্রেস সচিব সুনীল শুভ রায়ের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা ছিলেন পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানিসম্পাদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান, প্রেসিডিয়াম সদস্য তাজ রহমান, যুবসমাজের সভাপতি অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, খুলনা মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি সাবেক এমপি আবুল হোসেন, জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম মধু, শ্রমিক পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন জাহাঙ্গীর, সাবেক এমপি মোক্তার হোসেন, জেলা সাধারণ সম্পাদক হাদিউজ্জামান হাদি, মহানগর জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মুজিবর রহমান, মৎস্যজীবী পার্টির কেন্দ্রীয় সভাপতি সোমদাথ দে, দাকোপ সাধারণ সম্পাদক আজগর হোসেন সাব্বির, পাইকগাছা সভাপতি মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর প্রমুখ। পরে জাপা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদকে শফিকুল ইসলাম মধু ও সোমনাথ দে সোনার চিংড়ি উপহার দেন।
সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদ বলেন, দেশের মানুষের মূল্যবোধ নষ্ট হয়েছে। শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতিত হচ্ছে। বিচারকার্য বিলম্ব হওয়ায় অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে। এসব অপরাধী শাসক দলের সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, জাপাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য গ্রামাঞ্চলে আবার ছুটেছি। মানুষের মুখে আবার হাসি ফোটাতে তিনি জাপাকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান। তিনি বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশে এখন হিংসার রাজনীতি চলছে। এ হিংসার রাজনীতি শুরু করেছিল বিএনপি। হিংসার কারণে বিএনপি আজ ধ্বংস হয়ে গেছে। এরশাদ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে বলেন, খালেদা জিয়ার এক ছেলে মারা গেছেন, তিনি তাকে দেখতে পারেননি। আরেক ছেলে বিদেশে আছেন সেও মাকে দেখতে পারছেন না। নেতাকর্মীরাও আজ খালেদা জিয়ার পাশে নেই। তার দলের সাবেক মন্ত্রী-এমপিরা জেলখানায় ধুঁকে ধুঁকে মরছেন। তিনিও শিগগিরই জেলে যাবেন। আর কীভাবে বের হবেন সেজন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। এরশাদ আরেকবার ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য খুলনাবাসীর সমর্থন চান।
ক্ষমতায় গিয়ে গণতন্ত্রের প্রাণ ফিরিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে এরশাদ বলেন, খুব শিগগিরই ইলেকশন ক্যাম্পেনইংয়ে বের হবো। তিনি শফিকুল ইসলাম মধুর নাম পুনরায় সভাপতি ঘোষণা করেন। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় আগামী মাসে কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করা হবে বলে ঘোষণা দেন।

নৃপেন পোদ্দারজাতীয়
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচ এম এরশাদ বলেছেন, দেশে এখন প্রাণহীন গণতন্ত্র চলছে। সংবিধানের পাতায় গণতন্ত্র থাকলেও দেশে নেই। দেশ আজ দখলবাজ ও টেন্ডারবাজদের হাতে জিম্মি। যাদের ভোটে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে, আজ তাদের জমিজমা দখল করে নিচ্ছে। নারী-শিশুরাও হত্যার শিকার হচ্ছে। দেশের বিচার বিভাগের কোন স্বাধীনতা...