2
প্রধান প্রতিবেদক । সংসদ প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে উৎসাহিত করবে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।
তিনি সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য ডা. দীপু মনির এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার জঙ্গি ও সন্ত্রাস বিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং এটা সরকারের নীতিগত ব্যাপার। বর্তমানে ফ্রান্স, জার্মান, আমেরিকাসহ সারা বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস ব্যাধীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি জাপানে একটি প্রতিবন্ধী সেবা কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে সন্ত্রাসীরা ২২ জনকে হত্যা করেছে।
তিনি বলেন, ১ জুলাইয়ের গুলশানের ঘটনা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে। তবে আমাদের দেশেই নয়, সারা বিশ্বব্যাপী এটা ঘটে যাচ্ছে। সবচেয়ে দুঃখজনক হলো ইসলামের নাম নিয়ে তারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। ইসলাম পবিত্র ও শান্তির ধর্ম। সেই ধর্মের নাম নিয়ে এ ধরনের জঘন্য হত্যাকান্ড চালানোর কারণে ইসলামই হেয় হচ্ছে। ইসলাম ধর্মকে সারা বিশ্বের কাছে একটি সন্ত্রাসী ও জঙ্গি হিসেবে পরিচিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং ইসলাম ধর্মের মর্যাদা ক্ষুণœ করার চেষ্টা করছে।
শেখ হাসিনা বলেন, একটি রাজনীতিক দল যাদের জন্ম হয়েছিল হত্যা, ক্যু ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে, এরা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেয়। এই জামায়াত ’৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান বাহিনীর পক্ষ নিয়ে খুন, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করেছিল এবং আলবদর বাহিনী গঠন করে বুদ্ধিজীবীসহ অনেক মানুষকে তারা হত্যা করে। স্বাধীনতার পর যাদের যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিচার শুরু হয়েছিল তাদেরকে বিএনপি ক্ষমতায় এসে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেয়।
রাজধানীর কল্যাণপুরে সাম্প্রতিক জঙ্গি বিরোধী অভিযানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিরা গুলশান ও শোলাকিয়ার মত আরো একটি বড় ধরনের ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা করছিল। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সাহসিতার সাথে এদের সেই পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেয়। এই অভিযানে ৯ জন জঙ্গি নিহত হয়, একজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ধরা পড়ে, আরেক জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এটা আল্লাহর একটি রহমত আরো একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে দেশবাসী রক্ষা পেয়েছে।
তিনি বলেন, এদের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির যেসব বক্তব্য আসছে, তাদের পক্ষ থেকে শর্ত দেয়া হচ্ছে- এটা না করলে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ বন্ধ হবে না। এতে মনে হয় এরাই যেন সন্ত্রাসের মদদদাতা, এ ব্যাপারে তাদের উৎসাহ রয়েছে, শুধুমাত্র তাদের কথা মানলেই সন্ত্রাস বন্ধ হয়ে যাবে। এদের কথাবার্তা এটাই প্রতীয়মান হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, শুধু মাত্র দেশবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়েই এ অবস্থার মোকাবেলা করা সম্ভব এবং সেই ঐক্য সমগ্র দেশে সৃষ্টি হয়েছে। দেশের প্রতিটি স্তরের মানুষ এখন সচেতন। পিতা, মাতা, অভিভাবক, শিক্ষক এরা সবাই এখন সচেতন। এদের সন্তান যাতে এভাবে বিপথে না যায়।
তরিকত ফেডারেশনের সদস্য সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারির অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে খুৎবা নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি। পবিত্র কোরআন শরীফের বিভিন্ন সূরায় জঙ্গি, সন্ত্রাস ও খুন-খারাবীর বিরুদ্ধে যেসব উদ্ধৃতি রয়েছে সেগুলো, হযরত মুহাম্মদ (সা.) খুন, হত্যা, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মানবতার পক্ষে যেসব কথা বলেছেন, বিভিন্ন হাদিস কালামে তাঁর যেসব উক্তি রয়েছে সেসব উক্তি দিয়ে একটি ছোট পুস্তিকা বের করা হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি লিফলেটও বের করা হয়েছে। এটা বিভিন্ন মসজিদে দেয়া হয়েছে যেন তারা বিভিন্ন বয়ান ও খুৎবায় পাঠ করেন।
যুব সমাজকে ধর্মান্ধ না হয়ে ধর্মপ্রাণ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মসজিদের ইমাম সাহেবরা যেন জঙ্গিবাদ বিরোধী বিভিন্ন বক্তব্য এবং পবিত্র ধর্ম ইসলামের মর্যাদা রক্ষা করে এটাকে আরো উন্নত করে মানুষের সামনে উপস্থাপন করেন। যাতে এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে একটা সচেতনতা সৃষ্টি হয় এবং যুব সমাজ যেন বিপদগামী না হয়।
খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2016/07/251.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2016/07/251-300x300.jpgতালুকদার বাবুলজাতীয়
প্রধান প্রতিবেদক । সংসদ প্রতিবেদক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে উৎসাহিত করবে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের। তিনি সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য ডা. দীপু মনির এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী...