natore_24.07.15-03_95399

নাটোর নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন মরিয়ম খাতুন। তারুণ্যের উদ্দীপনায় মেতে থাকা মরিয়মের স্বপ্ন ছিল ভালোবেসে ঘর বাধার। দীর্ঘ প্রেমের পর স্বপ্ন পূরণে বিয়েও হয় পছন্দের মানুষ জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে। তবে বিয়ের দিন মরিয়মের ছিল না নববধূর সাজ। বাসর ঘরেও ছিল না কোনো সাজসজ্জা। সাদামাঠাভাবেই বিয়ে সম্পূর্ণ হয়। কিন্তু বাসর ঘরেই যে তাদের প্রেমের ইতি ঘটবে তা কে জানত? বৃহস্পতিবার দুপুরে নাটোর জজকোর্টে এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে সম্পূর্ণ হলেও আজ শুক্রবার সকালে বাসরঘর থেকে লাশ হয়ে ফিরল নববধূ মরিয়ম।

নিহত মরিয়ম খাতুন নাটোরের সিংড়া উপজেলার ঢাকঢোর গ্রামের হুমায়ুন আহমেদের মেয়ে। এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে একই উপজেলার গোয়াল বাতান গ্রামের আকবর আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রেমের সম্পর্ক ধরে মাঝেমধ্যেই জাহাঙ্গীর মরিয়মদের বাড়িতে যাওয়াত করত। সে ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকালে জাহাঙ্গীর মরিয়মের সঙ্গে দেখা করতে তাদের বাড়িতে যায়। এসময় মরিয়মের পরিবারের লোকজন জাহাঙ্গীরকে আটকে রেখে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। একসময় জোরপূর্বক দু’জনকে নাটোর জজকোর্টে নিয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে পড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর স্বামী-স্ত্রী হিসেবে মরিয়মদের বাড়িতে তাদের দু’জনের বাসর ঘরের ব্যবস্থা করা হয়। তবে রাতে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া নিয়ে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে মরিয়মের তুমুল ঝগড়া হয়। এ ঘটনায় বিয়ের রাতের সকালে ঘরের তীরের সঙ্গে গলায় ওড়না পেচানো মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে মরিয়মের বাবা হুমায়ুন আহমেদ অভিযোগ করে ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন,’ রাতে জাহাঙ্গীর তার মেয়েকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার জন্য লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার কথা প্রচার করছে। জাহাঙ্গীরই তার মেয়ের হত্যাকারী। তবে জাহাঙ্গীর হত্যার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘জোর করে বিয়ে পড়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। অভিমানে রাতের কোনো একসময় মরিয়ম গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করে। গভীর ঘুমে থাকায় তিনি বিষয়টি টের পাননি।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন মন্ডল ঘটনার সত্যত্য নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরিয়মের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে এবং জাহাঙ্গীর হোসেনকে আটক করে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট পেলে হত্যা না আত্মহত্যা সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। এ বিষয়ে নিহত মরিয়মের ভাই বাদি হয়ে জাহাঙ্গীরকে অভিযুক্ত করে সিংড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

তাহসিনা সুলতানাআইন-আদালত
নাটোর নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন মরিয়ম খাতুন। তারুণ্যের উদ্দীপনায় মেতে থাকা মরিয়মের স্বপ্ন ছিল ভালোবেসে ঘর বাধার। দীর্ঘ প্রেমের পর স্বপ্ন পূরণে বিয়েও হয় পছন্দের মানুষ জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে। তবে বিয়ের দিন মরিয়মের ছিল না নববধূর সাজ। বাসর ঘরেও ছিল না কোনো...